খুঁজুন
, ,

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সংখ্যক লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সংখ্যক লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল
শেয়ার করুন

 

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসাধারণ গোল, রোমাঞ্চকর ম্যাচ আর শিরোপা জয়ের গল্পের পাশাপাশি রয়েছে লাল কার্ডেরও নানা অধ্যায়। দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল। এখন পর্যন্ত দলটির খেলোয়াড়রা মোট ১১ বার মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।

 

এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা, যাদের ফুটবলাররা ১০ বার লাল কার্ড দেখেছেন। যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছে উরুগুয়ে ও ক্যামেরুন, দুই দলেরই বহিষ্কারের সংখ্যা ৯।

এছাড়া জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে ৮ বার করে লাল কার্ড দেখেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্ব ফুটবলের সফল দলগুলোকেও নানা সময়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের খেসারত দিতে হয়েছে।

তুরস্কের বিশ্বকাপ ইতিহাসে লাল কার্ডের সংখ্যা মাত্র দুটি হলেও ঘটনাটি বেশ স্মরণীয়। ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক ম্যাচেই আলপাই ওজালান এবং হাকান উনসাল—দুজনকেই লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ২-১ গোলের সেই হার তুরস্কের বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম আলোচিত ম্যাচ হয়ে আছে।

এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপে রেফারিরা মোট ১৭৭টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রেফারিংও হয়েছে আরও কঠোর।

সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখা গেছে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। সেই আসরে রেকর্ড ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়। বিপরীতে ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ শেষ হয়েছিল কোনো লাল কার্ড ছাড়াই।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ডের প্রচলন শুরু হয় ১৯৭০ বিশ্বকাপ থেকে। তবে মজার বিষয় হলো, যে আসরে এই নিয়ম চালু হয়েছিল, সেই টুর্নামেন্টে কোনো খেলোয়াড়ই লাল কার্ড দেখেননি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম লাল কার্ড দেখানো হয় ১৯৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপে। তুরস্কের রেফারি দোগান বাবাজান পশ্চিম জার্মানি ও চিলির ম্যাচে ৬৭ মিনিটে চিলির ফরোয়ার্ড কার্লোস কাসেলিকে বহিষ্কার করে নতুন এই শাস্তি ব্যবস্থার প্রথম প্রয়োগ করেন।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিতর্কিত ম্যাচগুলোর একটি ছিল ২০০৬ সালের পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের শেষ ষোলোর লড়াই। সেই ম্যাচে রুশ রেফারি ভ্যালেন্তিন ইভানভ চারটি লাল কার্ড দেখান, যা এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। পর্তুগালের কস্তিনিয়া ও ডেকো এবং নেদারল্যান্ডসের খালিদ বুলাহরুজ ও জিওভান্নি ফন ব্রঙ্কহর্স্ট মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত মানিশের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেলেও ম্যাচটি বেশি আলোচিত হয়ে আছে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার কারণে।

বিশ্বকাপের ফাইনালেও লাল কার্ডের নজির রয়েছে। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো ফাইনালে লাল কার্ড দেখানো হয়। পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনসন প্রথমে বহিষ্কৃত হন। পরে গুস্তাভো দেজোত্তিও লাল কার্ড দেখলে নয়জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আন্দ্রেয়াস ব্রেমের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা নিশ্চিত করে পশ্চিম জার্মানি।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।