খুঁজুন
, ,

ভিলেজার দেখিয়ে বনের জমিতে ব্যক্তির ভোগ দখল,লিখে দিয়েছেন বিট কর্মকর্তা কামরুল

এম ফেরদৌস ::
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
ভিলেজার দেখিয়ে বনের জমিতে ব্যক্তির ভোগ দখল,লিখে দিয়েছেন বিট কর্মকর্তা কামরুল
শেয়ার করুন

বছরের পর বছর নানা অনিয়ম, দখল ও বন ধ্বংসের অভিযোগের পর বনবিভাগের ভিলেজার প্রথা আইন বাতিল হয়েছে বহু আগেই। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই প্রথার ভূত যেন এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে সর্বত্রে।

উখিয়া রেঞ্জের উখিয়ারঘাট বিট এলাকায় ২০২৪ সালে দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা কামরুল হাসানের স্বাক্ষরিত একটি কাগজে ৯ একর বনের জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ভিলেজার দেখিয়ে। সেই বনের জমিতে ওই ব্যক্তির মালিক  ও ওয়ারিশদাররা অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগে তোলপাড় চলছে স্থানীয়দের মাঝে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, উখিয়ার ঘাট বিটের অধিকাংশ বনাঞ্চল এখন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের আওতাভুক্ত। ২০২৪ সালের শুরুতে ‘ভিলেজার’ দেখিয়ে বরাদ্দ দেওয়া প্রায় ৯ একর বনজমির একটি অংশও ক্যাম্পের ভেতর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পড়ে। ফলে জমিটির বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বন কর্মকর্তা কামরুল হাসানের সহযোগিতায় ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ, বিভিন্ন এনজিওকে ভাড়া দেওয়া এবং ভিলেজারের নামে লিখিত নথি সংগ্রহের মতো নানা কৌশল গ্রহণ করা হয়-যাতে পরবর্তীতে কেউ মালিকানা বা বরাদ্দ নিয়ে দাবি করতে না পারে।

সেখানে তারা কেউ দোকান,কেউ ঘর,কেউ এনজিওর স্কুলসহ বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। মাসে বা এককালীন চুক্তিতে এসব ভাড়ায় চলছে। কেউ আবার দালান ও নির্মাণ করেছে। কিছু ভাড়ায় চলছে, কিছু নিজেরায় ভোগ করছে। এভাবেই পুরো ৯ একর বনের জমি ব্যক্তিমালিকানার ভোগদখলে দিয়ে বনায়নের জায়গাকে ধ্বংশ করে দিয়েছে বন-কর্মকর্তা কামরুল হাসান।

কাগজমুলে দেখা গেছে এসব জমির মালিকদের মধ্যে উখিয়ার ঘাট এলাকার মৃত সফর মুল্লোকের ওয়ারিশদের জন্য এক একর।

বালুখালী জুমেরছড়া এলাকার নুরুল হকের ওয়ারিশ হিসাবে দেখানো হয়েছে তার ছেলে নুরুল আবছারকে ৩ একর।

একই এলাকার ফয়েজ আহমদের মৃত্যুতে তার ছেলে রফিকুল ইসলামকে ২ একর, আমির হোসেনের ছেলে জুহুর আলমকে ২ একর,আবুল বশরের মৃত্যু পরবর্তী  তার ছেলে আলী হোছন কে ১ একরসহ মোট ৫ জনকে ৯ একর বনের জমি ভোগ দখল করার অনুমতির কাগজ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিট কর্মকর্তা কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন উখিয়ারঘাটে নেই, ইনানী সদর বিটে কর্মরত আছি। উখিয়ারঘাটে দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৪ সালে ভিলেজারের পরিচয় দেখিয়ে কাউকে বনের জমি দেওয়া হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এরকমভাবে কাউকে জমি বা নতুন ভিলেজার দেওয়া হয়নি।

তাকে জিজ্ঞেস করা হয়-তাহলে ২০২৪ সালের আপনার স্বাক্ষরযুক্ত কাগজ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কীভাবে দেখাচ্ছেন? জবাবে তিনি বলেন, কাগজটা আমাকে দেন। কাগজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর আবার প্রশ্ন করা হয়- বর্তমানে ভিলেজার দেখিয়ে এভাবে কাগজ বা জমি দেওয়ার কোনো নিয়ম আছে কি না? এর উত্তরে তিনি বলেন, এগুলো পুরোনো ভিলেজারদের ওয়ারিশদের দেওয়া হয়েছে, নতুন কাউকে নয়।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভিলেজার কাগজের বর্তমানে কোনো বৈধতা নেই। ভিলেজার প্রথাও এখন আর চালু নেই। তাই ভিলেজার পরিচয় দেখিয়ে কেউ যদি বনের জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে বা ভাড়া তুলে থাকে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ , শত বছর আগে ভোগদখলীয় বনের জমিতে একটি বাশের ঘর নির্মাণ করতে গেলে বনবিভাগের লোকজন এসে বাধা দেয়। আর স্থাপনা নির্মাণ করলে ভেংগে দেয় না হলে মামলা দেয়। বাকিরা ভিলেজার বলে তারা সব পাবে এমন তো হতে পারে না।

স্থানীয় এক গনমাধ্যমকর্মী হেলাল উদ্দিন বলেছেন, বনের জমি দখল হচ্ছে, আর বনবিভাগ অনেক সময় দেখেও না দেখার ভান করছে। সরকারি জমিতে দোকান-বাড়ি তুলে ভাড়া নেয়-এটা কীভাবে সম্ভব? দেশে আইন দুই রখম আছে নাকি। বনবিভাগকে কাউকে বুকে কাউকে পিঠে নেওয়ার সুযোগ কে দিয়েছে তা সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছি।

২০২৪ সালে উখিয়া রেঞ্জে দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলম বলেছেন, ভিলেজার প্রথা বাতিল হওয়ার পরও মাঠপর্যায়ে আগের কিছু কাগজপত্র বা মৌখিক অনুমতির সুযোগ নিয়ে অনেকে মালিকানা দাবি করে গোপনে দখল বাড়িয়ে নেয়। নিয়মশৃঙ্খলার বাইরে এসব বরাদ্দ বা ‘দখল স্বীকৃতি’ কোনোভাবেই বৈধ নয়।

তিনি আরও বলেন, সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ বা ভাড়া নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী জাহাঙ্গীরআলম বলেন,সরকারি জমি ব্যক্তিগত আয়-উপার্জনের উৎস হতে পারে না, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে বনকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি, দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরেক পরিবেশকর্মী ওমর ফারুখ বলেন ,’বনভূমি দখল মানে শুধু সরকারি ক্ষতি নয়-এটা পরিবেশেরও ক্ষতি। উখিয়ার বনাঞ্চল আগেই সংকুচিত। এখন আবার ভাড়া বাণিজ্য শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

এ বিষয়ে জানতে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা উখিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া মেলেনি।

এদিকে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বর্তমানে বনে ‘ভিলেজার’ নামে কোনো প্রথা কার্যকর নেই। ভিলেজারের নাম ভাঙিয়ে কাউকে বনের জমি ভোগদখলে দেওয়ার বৈধতা কারো নেই। আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি-বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’