খুঁজুন
, ,

ভূমি কর্মকর্তাদের আবারও সতর্কবার্তা, বদলির জন্য তদবির না করার নির্দেশ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
ভূমি কর্মকর্তাদের আবারও সতর্কবার্তা, বদলির জন্য তদবির না করার নির্দেশ
শেয়ার করুন
ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রভাবশালী মহল কিংবা গণমাধ্যমের মাধ্যমে তদবির না করার নির্দেশনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ ধরনের তদবির সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির পরিপন্থি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের জন্য কোনো ধরনের তদবির না করার নির্দেশনা আবারও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভূমি মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার এবং সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে পাঠিয়েছে।

চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সব জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার, সব উপভূমি সংস্কার কমিশনার, সব চার্জ অফিসার, সব উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সব সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রভাবশালী মহল কিংবা গণমাধ্যমের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের তদবির সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বদলির জন্য এই ধরনের তদবির করা ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ এর ২০ ও ৩০ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। 

মাঠ পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীরা বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তদবির না করা সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের গত ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দিক নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো।

ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা রাজনৈতিক ব্যক্তি, সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ব্যক্তি এবং সরকারি-বেসরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের তদবির করা হচ্ছে।

বিষয়টি অনভিপ্রেত এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ২০ এবং ৩০ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও এতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

পরিপত্রে জানানো হয়, সরকারি কর্মচারী থেকে এ ধরনের কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল।

বদলি বা তদবির শোনার ফলে মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় এবং অফিসের কাজকর্মে মনোনিবেশ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে উল্লেখ করে পরিপত্রে আরও বলা হয়, মাঠ প্রশাসনের অধীনে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের তদবির না করার জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করা হলো।

নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয় পরিপত্রে।

পরিপত্রটি ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার এবং সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) পাঠানো হয়।

পরিপত্রের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়।

আগামী ২৫ জুনের মধ্যে মাঠপর্যায়ের রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার নতুন নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময়ে এই হিসাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নিশ্চিত করতে গত ৩ জুন সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বিশেষ চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায় থেকে কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯- এর ২০ নম্বর বিধিতে বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মচারী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার পক্ষে কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য কোনো সংসদ সদস্য বা অসরকারি ব্যক্তির দ্বারস্থ হবেন না।

৩০ নম্বর বিধিতে বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরি প্রসঙ্গে কোনো দাবির সমর্থনে সরকার বা কোনো সরকারি কর্মচারীর ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো রাজনৈতিক বা অন্যান্য বাইরের প্রভাব প্রয়োগ বা প্রয়োগের চেষ্টা করবেন না।

৩২ নম্বর বিধিতে বলা হয়, যে কোনো বিধি লঙ্ঘন করলে তা অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। এ লঙ্ঘনের জন্য কোনো সরকারি কর্মচারী দোষী সাব্যস্ত হলে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের আওতায় আসবেন।

অসদাচরণের শাস্তি প্রসঙ্গে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এ বলা হয়েছে, অসদাচরণের জন্য লঘুদণ্ড বা গুরুদণ্ড যে কোনো দণ্ড দেওয়া যাবে।

এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলির জন্য তদবির করছেন। সেজন্য এ বিষয়ে আবারও সতর্ক করা হয়েছে।

সম্পদের হিসাব দিচ্ছেন না কর্মচারীরা, ডিসিদের চিঠি

এদিকে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিতে নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ কারণে গত ৩ জুন জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব আগামী ২৫ জুনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে কর্মরত কানুনগো, সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা, প্রসেস সার্ভার, অফিস সহায়ক, চেইনম্যান এবং নিরাপত্তা প্রহরীসহ উপজেলা ভূমি অফিস/রাজস্ব সার্কেল অফিস এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সব কর্মচারীদের (সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্যতীত) সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত ছক মোতাবেক ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও এ তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের রাজস্ব প্রশাসনে কর্মরত কানুনগো, সার্ভেয়ার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত ছক মোতাবেক আগামী ২৫ জুনের মধ্যে আবশ্যিকভাবে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠিতে পুনর্নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।