খুঁজুন
, ,

♦ লটারির মাধ্যমে পদায়ন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ♦ চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রী ভিন্ন ভিন্ন জেলায়

মাঠ প্রশাসন পুরো অদলবদল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
মাঠ প্রশাসন পুরো অদলবদল
শেয়ার করুন

নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন সাজানোর উদ্যোন নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। যার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) ব্যাপক অদলবদল করা হয়েছে।

নিরপেক্ষ প্রশাসন করতে গিয়ে লটারির মাধ্যমে এ অদলবদলের কারণে কর্মকর্তাদের ভিতরে-বাইরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। কারণ বহু কর্মকর্তাকে জোর করেই পাঠানো হচ্ছে কর্মস্থলে। আর এসব কারণে ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ বাড়ছে।

রাজনৈতিক তদবির এড়াতে শুরুতে পুলিশের বদলি লটারির মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেয় সরকার। পরে লটারির মাধ্যমে ইউএনও পদায়ন করা হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ের মধ্যেই। এ লটারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা।

এসপি লটারিতে হলেও ডিসিদের পদায়ন কেন সেভাবে হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া সারা দেশের জেলার ওসিদের জন্য লটারি একবার এবং মহানগরের জন্য কেন সেটি আলাদাভাবে করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যে কোনো পদায়ন-নিয়োগ লটারির ওপর নির্ভর করাটা ভালো প্রক্রিয়া নয়। এটি ভালো কোনো উদাহরণ তৈরি করবে না। এমনকি লটারির মাধ্যমে পদায়নের ফলও ভালো আসে না। মূলত নিজেরা যোগ্য লোককে বাছাই করতে পারছে না বলেই লটারি করছে। স্থানভেদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা অপরাধের ধরনে ভিন্নতা রয়েছে। কাজের দক্ষতা বিবেচনায় পদায়ন করাটাই যৌক্তিক।

তিনি আরও বলেন, মাঠে দায়িত্ব পালন আর শীতাতপনিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে কাজ করা এক নয়। যিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারেন তাদের পদায়ন হওয়া দরকার। পেশাগত পদায়নের ক্ষেত্রে লটারি কখনোই গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না।

নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার হবেন ইউএনওরা। ইউএনও পদায়ন নিয়ে অভিযোগ অনেক বেশি। কর্মকর্তাদের অভিযোগ- পছন্দের কর্মকর্তাদের ভালো উপজেলায় বসিয়ে বাকিদের নিয়ে লটারি করা হয়েছে। সব উপজেলায় সমান সমস্যা নয়, তেমনি দক্ষতাও সমান নয়। এ ক্ষেত্রে লটারির নামে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সামলানোর কৌশল সবার সমান থাকে না।

জানা গেছে, এ লটারি করতে গিয়ে অনেকের নিজের বা শ্বশুরবাড়ি উপজেলায় পদায়ন হওয়ায় সেটি আবার জনপ্রশাসনকে সংশোধন করতে হয়েছে। এ ছাড়া চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। পরিবার না চাকরি গুরুত্ব দেবে এসব নিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে আছেন।

গত কয়েকদিন সচিবালয়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ৩৬ ও ৩৭ ব্যাচের কর্মকর্তাদের নানা বিষয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। অনেকেই ইউএনও না হতে বা কাছের উপজেলায় রাখতে সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছে তদবিরও করেন। অনেক ইউএনও আদেশ জারির পরও কর্মস্থলে না যেতে নানা ধরনের মানবিক আবেদন করেন জনপ্রশাসনে।

প্রায় ৫০টির মতো মানবিক আবেদন জমা পড়ে জনপ্রশাসনে। যারা এ মুহূর্তে ইউএন হতে চান না বা বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন আবেদনে। কারও সার্জারি করা হবে, কারও সার্জারি করা হয়েছে। কেউ সন্তানসম্ভবা। কারও বাবা-মা অসুস্থ, ঢাকায় দেখার কেউ নেই। কারও বাচ্চা এত ছোট অথচ স্বামী-স্ত্রী ভিন্ন কর্মস্থলে- এসব নানা তথ্য উল্লেখ করে আবেদন করেছেন। কেউ আগেও পার্বত্য এলাকায় কাজ করেছেন আবার পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, এসব আবেদন নিয়ে বৈঠক করে মন্ত্রণালয়। আর জনপ্রশসান সচিবের সিদ্ধান্ত- কর্মস্থলে যোগ দিতেই হবে, কারও আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আর সমস্যাগ্রস্ত কর্মকর্তাদের দাবি, আমরা পরিবারের জন্য চাকরি করি। আমাদের অভিভাবক এভাবে জোর করে কর্মস্থলে পাঠাচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী চাকরি করাদেরও দুই জেলায় দেওয়া হয়েছে। যদিও স্বামী-স্ত্রী চাকরিজীবী হলে কাছাকাছি পদায়ন করার কথা।

কর্মকর্তাদের দাবি- যদি লটারিই হয় তাহলে এ ধরনের সমস্যা কেন চিহ্নিত করা হয়নি। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা ইউএনও পদায়নের আগে এরকম সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেনি, তাই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বহু কর্মকর্তা যাদের বর্তমান সরকারই মাত্র ৩ বা ৬ মাস আগে ইউএনও হিসেবে মাঠে পাঠিয়েছিল, তাদের তুলে এনে সেখানে নতুন কর্মকর্তা দিয়েছে। অথচ অনেক কর্মকর্তা দুই বছর ধরে কর্মরত, তাদের প্রত্যাহার করা হয়নি। এসব ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জনপ্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এখনকার রদবদল নির্বাচনের জন্য করা হয়েছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। যারা কম সময় ইউএনও ছিলেন তাদের নিশ্চয়ই আবার মাঠে পাঠানো হবে।

এদিকে, পুলিশের রদবদল নিয়েও বাহিনীর অন্দরমহলে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারির মাধ্যমে জেলার এসপিদের চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে একটি অংশ খুশি হলেও পুলিশের বেশির ভাগ সদস্যের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা। এদিকে লটারির মাধ্যমে বদলির কারণে থানার ওসিদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, এসপি পদে পদায়নের জন্য প্রথমে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাদের বাছাই করা হয়েছে। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আয়তন ও গুরুত্বের ভিত্তিতে জেলাগুলোকে ‘এ’, ‘বি’, ও ‘সি’ তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় মেধাবীরা কেউ বাদ পড়েননি এবং লটারি স্বচ্ছ হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, লটারিতে ক্যাটাগরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা রক্ষা করা হয়নি। কারণ যারা ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় আছেন, তারা সেই জেলা থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিরই অন্য জেলায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

লটারি করে সারা দেশে ৫২৭টি থানায় নতুন ওসি চূড়ান্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আবার মহানগর পুলিশের ওসি পদে লটারির ক্ষেত্রে মহানগরে দায়িত্ব পালন করা ওসিদের শুধু থানা বদল করা হয়েছে। ঢাকায় ৫০ ওসি রদবদলের মধ্যে ৪৬ জনই বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করছেন, নতুন মুখ কম।

গত মাসেই নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়ে তফসিল ঘোষণার পর লটারির মাধ্যমে প্রশাসন ও পুলিশে বদলি করার পরামর্শ দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। এ লটারি নামে পদায়নকে বিএনপি নেতারা ‘লোক দেখানো’ বলে অভিযোগ তুলেছেন।

বিএনপির দাবি, তালিকা তৈরির সময় বিশেষ আনুগত্যসম্পন্ন কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা আদর্শের প্রতি অনুগত কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।