খুঁজুন
, ,

রামুতে সমাজসেবা কর্মকর্তার ঘুষ-বাণিজ্য: এতিমখানার নিবাসী বৃদ্ধির নামে ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
রামুতে সমাজসেবা কর্মকর্তার ঘুষ-বাণিজ্য: এতিমখানার নিবাসী বৃদ্ধির নামে ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ
শেয়ার করুন

কক্সবাজােরে রামু উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল গালিব এর বিরোদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘুষ বানিজ্য, অফিসে বসে অসামাজিক কার্যকলাপ, ভূয়া প্রকল্পের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকা নয়ছয় সহ অভিযোগের পাহাড় এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এতে করে প্রতিনিয়ত উক্ত অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষ হয়রানীর শিকার হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যে ও ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল গালিব রামুতে যোগদানের পর থেকে নানান অসঙ্গতি চালিয়ে আসলেও বিষয়টি এতদিন যাবৎ অন্তরালেই ছিল।

এই অফিস থেকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বিশেষ ভাতা, হিজড়া ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, হিজড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি ভাতা সহ বিভিন্ন পরিসেবা দেয়ার কথা থাকলেও এখানে ঘুষ ছাড়া কোন কাজই হচ্ছেনা।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়, সমাজসেবা কর্মকর্তা আল গালিবের নিজস্ব লোক মেরংলোয়া এলাকার

আবদুল্লাহ আল নোমান এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের নাইট গার্ড সৈয়দ মিয়ার পুত্র দিদারুল আলমের মাধ্যমেই মূলত ভাতা প্রার্থীর কাছ থেকে ঘুষ আদায় করা হচ্ছে।

এমন এক অভিযোগের সত্যতা মেলে গত শুক্রুবার বিকেল ৩ টায়। ঐদিন বন্ধের দিন হলেও

আবদুল্লাহ আল নোমান ও দিদারুল আলম তারা অফিসে বসে ভাতা প্রার্থী প্রতি জনের কাছ থেকে ৪ হাজার করে ঘুষের টাকা আদায় করছেন। এসময়ে কয়েকজন নারীকে টাকা দিয়েও ভাতা পাচ্ছেননা মর্মে উত্তেজিত হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বাক বিতন্ডা হলে স্থানীয় জনতা এসে ওই নারীদের কাছ থেকে নেয়া ঘুষের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়। এসময় ঘুষ আদায়ের ব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল নোমান ও দিদারুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সমাজসেবা কর্মকর্তা আল গালিবের নির্দেশে উক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে বলে তারা স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।

ঐদিন রশিদ নগরের পানির ছড়া এলাকার রাশেদা বেগম বিধবা ভাতায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ৪ হাজার এবং জোয়ারিয়ানালা হাসপাতাল পাড়া এলাকার মোমেনা বেগম নিজের প্রতিবন্ধী নাতিকে ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করতে ৩ হাজার টাকা দিয়েছেন।

উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিএনপি নেতা মনজুর আলম জানান, রামু উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয় দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী এসব দুঃস্থ অসহায় মানুষের কাজ থেকে সরকারী বন্ধের দিনে অফিসে বসে দালালের মাধ্যমে প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহন খুবই ধৃষ্টতা এবং সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার শামিল ।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমাজসেবা কর্মকর্তা আল গালিব নিয়মিত অফিস করেন না। যখনই অফিসে আসেন নিজ চেয়ারে বসেই ধুমপান করেন। অফিস কক্ষ থেকে স্পষ্ট ভেসে বেড়ায় মদের গন্ধ। সরকার যেখানে জনগনকে ধুমপান ও মাদকের বিরোদ্ধে সচেতন করছেন সেখানে সমাজসেবা কর্মকর্তা নিজেই অফিসে বসে এসব অসঙ্গতির সাথে সখ্য করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অফিসের এক সাবেক কর্মচারী বলেন, এতিমখানার বিল প্রদানকালে মোটা অংকের ঘুষের টাকা না হলে বিল ছাড় দেননা সমাজসেবা কর্মকর্তা। চলতি বছরের মার্চ মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৭ টি কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রীক এতিমখানা থেকে নিবাসী বৃদ্ধির নামে ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে ৫ আগস্টে সমাজ সেবা কার্যালয়ে ভাংচুর মর্মে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকা নয়ছয় করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদ্রাসা পরিচালক জানান, এতিম নিবাসী বৃদ্ধির কথা বলে প্রতি এতিম শিশুর জন্য মাথা পিছু ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন সমাজ সেবা কার্যালয়ে।

স্থানীয় এক সংবাদকর্মী জানান, সমাজসেবা কর্মকর্তা আল গালিব একজন ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় উপকার ভোগীরা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করে আসছে। সাংবাদিকরা যখনি এসব অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইত তিনি তখন নিজের স্ত্রীর অসুস্থতা (ক্যানসার) এর অজুহাতে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করত। তাই মানবিক খাতিরে অনেকে তার এসব অসঙ্গতি প্রকাশে সংকোচ বোধ করতো।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে সমাজ সেবা কর্মকর্তা আল গালিব তার পূর্বের চাকরীস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন

আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সেখানকার উপজেলা পরিষদে অবরুদ্ধ সহ নানা ভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন। সেবা প্রার্থীদের ভাতায় দূর্নীতির কারণে তিনি ঐ স্টেশনে ক্রয় সংক্রান্ত দূর্নীতি ও হত্যা মামলার আসামীও হয়েছিলো।

বিগত ২৫ মে ২২ সালে নাচোল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে ইউনিয়ন সমাজকর্মী শামীম হোসেন গলায় ফাঁস দেয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত শামীমের পরিবার ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করেন। এবং উক্ত হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজসেবা কর্মকর্তা আল গালিবকে আসামী করে হত্যা মামলা করা হয়। পরবর্তীতে বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে এসব মামলা থেকে অব্যাহতি পান বলে জানা যায়

  1. জানতে চাইলে রামু উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল গালিব তার বিরোদ্ধে আনীত অভিযোগ এড়িয়ে যান। প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে হ্যাকারের কবলে পড়েছেন বলে জানান। এতিম খানা থেকে নিবাসী বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রাপ্ত টাকা তিনি নেননি, এই অর্থ অফিসের নাইট গার্ড সৈয়দ মিয়া আত্মসাৎ করেছেন বলেও স্বীকারোক্তি দেন। অভিযোগের ব্যাপারে ছৈয়দ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে লাইনে রেখে কোন কথা না বলে কিছুক্ষণ পর ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে তিনি আর ফোনকল রিসিভ করেননি।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম জানান, সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অফিসে না পেয়ে অনেক ভাতা প্রার্থী তাকে অবগত করেছে। এছাড়া সামগ্রিক অভিযোগের ব্যাপারে তিনি খোঁজ নিবেন বলে জানান।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’