খুঁজুন
, ,

শাপলা চত্বরের আলেমদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সফলতা: সালাহউদ্দিন আহমেদ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
শাপলা চত্বরের আলেমদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সফলতা: সালাহউদ্দিন আহমেদ
শেয়ার করুন

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর হেফাজত আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হেফাজতের চার রাহবার সম্পর্কে বলেন, উনাদের অনুসরণ করতে পারলেই আমরা সিরাতে মুস্তাকিমের উপর থাকব। প্রত্যেক নামাজের পরে সিরাতে মুস্তাকিমের উপর চলার জন্য দোয়া করারও আহ্বান জানান তিনি।

কুরআনে সুলাহা-নেককারদের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সুলাহাদের প্রথম স্তরই হলো সাহাবায়ে কেরাম। এখন কোনো দল যদি বলে ও মনে করে, সাহাবারা সত্যের মাপকাঠি না, তারা অবশ্যই বিভ্রান্ত।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আমরা যদি হেদায়েত পেতে চাই তা’হলে নবী (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের তরিকায় চলতে হবে। তা’ না হলে জাহান্নাম ছাড়া পথ নেই। নবী (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে ৭৩ দল হবে। এদের মধ্যে একমাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে। বাকি সবাই জাহান্নামে যাবে। নবী (সা.) বলেন আমি যে তরিকায় এবং সাহাবায়ে কেরাম যে তরিকা অনুসরণ করবে তারা জান্নাতে যাবেন। যারা সাহাবায়ে কেরামের তরিকা না মেনে বেয়াদবি করছে তারা পথভ্রষ্ট। এদের সর্ম্পকে সর্তক থাকতে হবে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শায়খুল হাদীস পরিষদের উদ্যোগে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে হেফাজতের চার রাহবার-আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.), আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রহ.), আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী (রহ.) নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম শীর্ষক জাতীয় কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী এসব কথা বলেন।

 

কনফারেন্সে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের আলেমদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই ২০২৪ এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হয়েছে। এই সফলতা একক কারোর কৃতিত্ব নয়। সারা দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হয়েছে। এক দল একক কৃতিত্ব নিতে চায়, তারা ঐক্য নষ্ট করতে চায়।ইসলামপন্থীদের ত্রয়োদশ নির্বাচনে এক বাক্স হবে এই বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশ। যারা ইসলামপন্থীদের একবাক্স করতে চায়। এটা রাজনৈতিক বাক্স। ইসলামের নামে দোছরা নির্বাচনী বাক্স কোথায় পেলেন। আমরা কি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছি। আমরাও তো মুসলমান।

 

বিএনপি নেতা বলেন, এদেশের মসজিদের ইমাম ৯০ ভাগ কওমি আলেম। যারা মসজিদের ইমামদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করতে চায়, তারা বিভক্তির রাজনীতি করছে। আমাদের বিভক্ত করতে পারলে কাদের লাভ? তিনি বলেন, নবী (সা.) বাণী শুনলাম হাশরের ময়দানে ৭৩ দলের মধ্যে একমাত্র ১টি দলই জান্নাতে যাবে। বাকিরা জাহান্নামে যাবে। বিএনপি নেতা বলেন, আলেমদের পরামর্শেই জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করেছেন। তাই বিএনপিকে ইসলামবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

 

এ সময় তিনি পার্শবর্তী দেশের যে কোনো ষড়যন্ত্রকে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যই হবে আগামী দিনের মূল চালিকাশক্তি। আওয়ামী লীগের রাজনীতি এদেশে আর চলতে দেওয়া হবে না। ভারতকে আওয়ামী লীগের প্রভু দাবী করে তিনি বলেন, বিদেশে আমাদের কোনো প্রভু নেই বন্ধু আছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আর দাফন হবে দিল্লিতে। যাদের প্রভু দেশের বাহিরে, সেখানেই তাদের দাফন হবে। এসময় তিনি শাহবাগের ঘটনাকে নাস্তিক-মুরতাদদের নেতৃত্বে বিদেশী প্রযোজনায় মঞ্চস্থ এক নাটক আখ্যায়িত করে বলেন, হেফাজতে ইসলাম এই নাস্তিক-মুরতাদদেরর বিরুদ্ধে বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

 

তিনি হেফাজতকে বাংলাদেশের মুসলিম সমাজকে নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর উপরে চলা নির্মম নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রলোভন সত্ত্বেও তিনি সরকারের সামনে মাথা নত করেননি। তাদের প্রস্তাবকে তিনি উপেক্ষা করে আপোসহীনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। আমাদেরও তার অনুসরণ করতে হবে।শায়খুল হাদীস পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, সাধারণ সম্পাদক হাসান জুনাইদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক ও আল আবিদ শাকিরের যৌথ পরিচালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী।

 

জাতীয় কনফারেন্সে আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর সহকারী পরিচালক মাওলানা জসিমউদ্দীন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হুসাইন, নেজামে ইসলাম পার্টি বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা ইউনুছ আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাও. সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, জামিয়া কুরআনিয়া মেরাজুল উলুম নরসিংদীর মুহতামিম মাওলানা ইসমাইল নুরপুরী, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা নাসিরুদ্দীন মুনির।

 

কনফারেন্সে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আলেমরাই রক্ত দিয়ে তাদের তাড়িয়েছে। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরাই পাকিস্তানের স্বাধীনতায় সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন।

 

তিনি বলেন, ৭১- স্বাধীনতা যুদ্ধে কওমি ঘরানার আলেম ওলামারা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষের বিভক্তি জাতি দেখতে চায় না। আমরা ঐক্য চাই বিভক্তি চাই না। তিনি বলেন, সকল ফ্যাসিবাদ বিরোধীর ঐক্য হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো নজির রাখতে চাই না যেটা কিছু দিন পার আর টিকবে না। সকল সমস্যা আলোচনার টেবিলেই সম্পন্ন করতে হবে।

তিনি বলেন, ৯০% মুসলমানের দেশে হেফাজতে ইসলাম দ্বীনের রাহাবারের দায়িত্ব পালন করছে। যারাই আগামী দিনে ক্ষমতায় আসবে তাদেরকেই আপনারা সঠিক পরামর্শ দিবেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় দ্বীনী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাখজানুল উলূম মাদরাসা, খিলগাঁওয়ের মুহতামিম মাওলানা জহুরুল ইসলাম, যাদুরচর মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী, জামিআতুল মানহাল উত্তরার মুহতামিম মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মুফতি সাঈদ নুর পীর সাহেব মানিকগঞ্জ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার নাজেমে তালিমাত মুফতি আশরাফুজ্জামান, ব্যাংক কলোনী মাদরাসা সাভারের মুহতামিম মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা হেলাল উদ্দীন, বনানী টিএন্ডটি কলোনি মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মুফতি ওয়াজেদ আলী, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রহ.)এর সাহেবজাদা মাওলানা জাবের কাসেমী, আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী সাহেবজাদা মাওলানা খালেদ বিন নূর , আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর জামাতা মাওলানা আব্দুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মিরপুরের খতীব মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল আজিজ, গুলিস্তানস্থ পীর ইয়ামেনী জামে মসজিদের খতিব মুফতি ইমরানুল বারি সিরাজী, শায়খুল হাদীস পরিষদের সহসভাপতি মাওলানা মুহসিনুল হাসান, শাপলা স্মৃতি সংসদের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী , শায়খুল হাদীস পরিষদের সহসভাপতি মুফতি মোহাম্মাদুল্লাহ, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা শরীফ হুসাইন, কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা এহতেশামুল হক নোমান, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দিকি, মাওলানা মিজানুর রহমান মিসবাহ, মাওলানা মুবাশ্বির আহমাদ, মাওলানা তাওকির আহমাদ, গাজীপুর জোন আহ্বায়ক মাওলানা মাসুদুর রহমান, সাভার জোন আহ্বায়ক মাওলানা ফারুক আহমেদ, সদস্য সচিব মাওলানা মাহফুজ হায়দার সদস্য সচিব, গুলশান-বাড্ডা জোন সদস্য সচিব মাওলানা মুনির হুসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হুসাইন রাজি, শায়খুল হাদীস পরিষদ যাত্রাবাড়ি জোন আহ্বায়ক মাওলানা উজায়ের আমীন, কুমিল্লা জোন যুগ্ম-আহ্বায়ক মাওলানা অলিউল্লাহ, ফরিদপুর জোন যুগ্ম-আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল্লাহ মোস্তফা, নরসিংদী জোন সদস্য সচিব মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ , ভৈরব জোন যুগ্ম-আহ্বায়ক মাওলানা আল আমিন , মোহাম্মদপুর জোন সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান মিসবাহ।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’