খুঁজুন
, ,

সংসদে সার সংকট নিয়ে দুই এমপির ভুল তথ্য, কৃষক নিহতের ঘটনা ১৯৯৫ সালে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
সংসদে সার সংকট নিয়ে দুই এমপির ভুল তথ্য, কৃষক নিহতের ঘটনা ১৯৯৫ সালে
শেয়ার করুন

সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের গুলি করে হত্যার ঘটনা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের নয়, ঘটেছিল ১৯৯৫ সালের মার্চে। অথচ জাতীয় সংসদে সার সংকট নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং বিএনপি থেকে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ঘটনাটিকে ২০০১-০৬ সালের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

 

একই সঙ্গে ওই সময়ে মতিউর রহমান নিজামী পুরো সময় কৃষিমন্ত্রী ছিলেন বলেও দাবি করেছেন চিফ হুইপ। দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে তাদের বক্তব্যে দুটি অসত্য তথ্য পাওয়া গেছে।

 

গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সার সংকট প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘সার সংকটের মধ্যে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত গুদাম ভর্তি, সরকারের সারের মজুদ আবার সেই ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সিনড্রোম; যখন এক বস্তা সারের পরিবর্তে আমার কৃষককে গুলির মুখে জীবন দিতে হয়েছিল।’

পরে শফিকুল ইসলামের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি যখন সরকারে ছিলাম, মতিউর রহমান নিজামী সাহেব, তিনি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী। সেই সময়ে কৃষকরা গুলি খেয়েছিল। এই গুলিটার ব্যবস্থা করেছিল তৎকালীন যারা এই দেশের উৎখাত চায়, ধ্বংস চায় তারা।’

দ্য ডিসেন্টের যাচাই অনুযায়ী, উভয়ের বক্তব্যেই দুটি অসত্য তথ্য রয়েছে। প্রথমত, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে সারের দাবিতে আন্দোলন করে কৃষক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। দ্বিতীয়ত, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পুরো সময় মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন না।

 

সারের দাবিতে কৃষক নিহতের ঘটনা ১৯৯৫ সালে

 

সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা ২০০১-০৬ সালের নয়; ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৫ সালের মার্চে। প্রাসঙ্গিক সার্চ করে ২০০১-০৬ সালে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর মূলধারার সংবাদমাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

ঘটনাটির স্মরণে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ১৫ মার্চকে ‘কৃষক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের ওই ঘটনার সময় কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা মেজর জেনারেল (অব.) এম. মজিদ-উল হক। তিনি ১৯৯১ সালের ১ মার্চ থেকে ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

 

অর্থাৎ, ১৯৯৫ সালে সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গুলি চালানোর সময় জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন না। এমনকি ১৯৯১-১৯৯৫ সালের বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভাতেও মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন না বলে উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।

 

১৯৯৫ সালের মার্চে একাধিক কৃষক নিহত

 

২০২৩ সালের ১৫ মার্চ ‘সারের জন্য কৃষক হত্যা, ২৮ বছরে বিচার পায়নি স্বজনরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে একুশে টিভি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৫ সালের এই দিনে সার, জ্বালানি তেল, কীটনাশক ও কৃষিপণ্যের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কৃষকরা আন্দোলন করছিলেন। আন্দোলন দমাতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ গুলি চালায়। ওই মাসে সারা দেশে অন্তত ১২ জন কৃষক নিহত হন।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের কারণে ১৮৬ টাকা বস্তার সার ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়ার দাবিতে জামালপুর, গাইবান্ধা, নাটোর, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভ করেন।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ জামালপুর সদরের রশিদপুর গ্রামের আব্দুল খালেক এবং ২৯ মার্চ মেলান্দহ বাজারে কবির হোসেন নিহত হন। এ ছাড়া ২২ মার্চ গাইবান্ধার সরকারি গোডাউনে সার নিতে জমায়েত হওয়া কৃষকদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে সদর উপজেলার বলমঝাড়ের কৃষক মমিন মণ্ডল এবং গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জের টুকু মিয়া নিহত হন।

 

১৯৯৫ সালের ১৬ মার্চ ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের দিন অর্থাৎ ১৫ মার্চ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই এক আন্দোলনকারী কৃষক নিহত হন। ওই ঘটনায় আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।

এর পরদিন ২২ মার্চ গাইবান্ধায় দুইজন নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। একই বছরের ২৯ মার্চ ‘সারের দাবিতে বিক্ষোভ, পুলিশসহ নিহত ২’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনেও ওই সময়ের সার আন্দোলন ও সহিংসতার ধারাবাহিক বিবরণ পাওয়া যায়।

 

১৯৯৫ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদ, ছবি ও তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (UPI) এক প্রতিবেদনে জানায়, সারের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আগের মাসে সংঘটিত সহিংসতায় ১২ জন কৃষক নিহত হন।

 

এছাড়া কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের (Refworld) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সার সংকটকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী কৃষকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর অন্তত ১২ জন নিহত হন। ওই সংকটের পেছনে দুর্নীতি, মজুতদারি এবং সরকারি মজুত ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়।

 

অর্থাৎ, সারের দাবিতে বিক্ষোভে কৃষক নিহতের ঘটনাটি ২০০১-২০০৬ সালের নয়, ১৯৯৫ সালের।

 

২০০১-০৬ সালেও পুরো সময় কৃষিমন্ত্রী ছিলেন না নিজামী

 

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি দাবি করেছেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে তিনি পুরো মেয়াদে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন না।

 

জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত মতিউর রহমান নিজামী ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ২২ মে পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৩ সালের ২২ মে থেকে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম. কে. আনোয়ার।

 

অর্থাৎ, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যে নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন প্রায় দেড় বছর। পরবর্তী সময়ে এম. কে. আনোয়ার কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

 

যদিও সংসদে দেওয়া বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম মাসুদ ঘটনাটিকে ২০০১-২০০৬ সালের সময়কালের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, তার বক্তব্যে সারের পরিবর্তে কৃষকদের গুলিতে জীবন দেওয়ার যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে ১৯৯৫ সালের সার আন্দোলনের ঘটনাই মিলে যায়।

 

বক্তব্যের বিষয়ে শফিকুল ইসলামের সাড়া মেলেনি

 

এ বিষয়ে জানতে জামায়াত নেতা ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদকে দুইদিনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাকে খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

সূত্র: দ্য ডিসেন্ট

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।