খুঁজুন
, ,

নেপথ্যে বিদেশি গোয়েন্দা ও আ.লীগ

‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ প্রমাণে নতুন নীলনকশা

জসিম উদ্দিন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ প্রমাণে নতুন নীলনকশা
শেয়ার করুন

দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করে বিশ্বদরবারে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসাবে চিত্রায়িত করার একটি বিপজ্জনক নীলনকশা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ মদদে কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমান্ত এবং বান্দরবানের দুর্গম পার্বত্য এলাকাকে কেন্দ্র করে এই চক্রান্তের সুনিপুণ ‘চিত্রনাট্য’ (স্ক্রিপ্ট) সাজানো হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এই এলাকা দুটি কৌশলগতভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

 

নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত স্বাধীনতাকামী একটি সশস্ত্র সংগঠনের শাখা বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে-বিশ্বের কাছে এই সাজানো অপতথ্য (ডিজইনফরমেশন) প্রতিষ্ঠা করাই এই চক্রের মূল লক্ষ্য। চরম রাষ্ট্রবিরোধী এই পরিকল্পনায় দেশীয় সহযোগী হিসাবে পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি। জড়িতদের চিহ্নিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও শীর্ষ নেতাদের বৈঠক : অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমান বিএনপি সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে দুর্বল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা। মূলত এই উদ্দেশ্য হাসিল করতেই চক্রান্তের জাল বোনা হয়েছে।

 

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই চক্রান্তের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা সম্পূর্ণভাবে অবগত আছেন।

 

সম্প্রতি অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে গাজীপুরের সাবেক বিতর্কিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এই ‘নাটক’ সফল করতে প্রয়োজনীয় সব অর্থ একাই জোগান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ওই অনলাইন বৈঠকে যুক্ত থাকা একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা যুক্ত হন। সেখানে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আরও জানান, পুরো বিষয়টি ইতোমধ্যেই তাদের ‘নেত্রী’কেও (আওয়ামী লীগ সভানেত্রী) অবগত করা হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় সাধারণ স্তরের নেতাকর্মীদের এ থেকে দূরে রাখতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং ডিজিএফআইয়ের সব কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এর ঠিক আগে, মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজার ও বান্দরবানে দায়িত্বরত এলিট ফোর্স র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়কসহ একযোগে ৬০০ জনেরও বেশি র‌্যাব সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। একটি সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের এতবড় রদবদলের ফলে সৃষ্ট সাময়িক শূন্যতাকেই ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হিসাবে বেছে নিয়েছে ষড়যন্ত্রকারী চক্রটি।

 

মাঠপর্যায়ে শফিউল্লাহর মিশন : একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, পাহাড়ি অঞ্চলে এই ‘নাটক’র মূল স্ক্রিপ্ট বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শফিউল্লাহকে। তার ওপর দায়িত্ব রয়েছে-রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে দুর্গম অঞ্চলে ছদ্মবেশী ‘প্রশিক্ষণ’র ভিডিও ধারণ করা। ইতোমধ্যেই কিছু নির্দিষ্ট ভাড়াটিয়া লোকজনকে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

এসব বিষয়ে জানতে সোমবার দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল্লাহর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করতেই ব্যাকগ্রাউন্ডে রোহিঙ্গা ভাষায় কাউকে বক্তব্য রাখতে শোনা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শফিউল্লাহও স্বীকার করেন, তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন। তবে চক্রান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ প্রসঙ্গে আমি কিছুই জানি না। আর গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আমার কোনোদিন দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি।’

 

জড়িতদের চিহ্নিত করতে মাঠে গোয়েন্দারা : গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে এমন নাটক সাজানোর বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। জড়িতদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে দুর্বল করার জন্য একটি চক্র চক্রান্ত করছে।

এতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও জড়িত। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘কলেমার পতাকা’ উত্তোলনের যে হিড়িক দেখা গেছে, তা মূলত এই বড় ষড়যন্ত্রেরই একটি সুদূরপ্রসারী অংশ। সরল ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে চক্রটি আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্ন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

 

লক্ষ্য বর্তমান সরকারকে কোণঠাসা করা : নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও আলোচিত সেই স্বাধীনতাকামী সংগঠনের আন্তর্জাতিক শাখা বা উইং নেই। সম্প্রতি একজন ইসরাইলি কূটনীতিকের দেওয়া একটি বক্তব্যকে পুঁজি করে যদি এ দেশে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বানোয়াট নাটক সাজানোর চেষ্টা করে কিংবা গুজব রটায়, তবে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত বিদেশি বন্ধুদের কাছে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করা এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই এ ধরনের অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গিয়ে এ ধরনের বিপজ্জনক খেলা খেললে প্রকারান্তরে রাষ্ট্র ও দেশের সাধারণ জনগণেরই বড় ক্ষতি হবে। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। তাই আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উচিত অত্যন্ত কঠোরতার সঙ্গে এ ধরনের যে কোনো অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র শুরুতেই নস্যাৎ করে দেওয়া।’ এ বিষয়ে কক্সবাজার বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা।

 

এই সীমান্ত ব্যবহার করে কোনো গোষ্ঠী যেন দেশের স্থিতিশীলতা কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদ বা অন্য কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মিথ্যা নাটক সাজানোর অপচেষ্টা করা হলে তা অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করা হবে। এই ধরনের অপতৎপরতা রুখতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।’

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’