খুঁজুন
, ,

‘সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্লান্ত হয়ে গেছে ইসরায়েল’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
‘সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্লান্ত হয়ে গেছে ইসরায়েল’
শেয়ার করুন

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন—ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ধারণা—দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিচালনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়, কারণ তাদের সামরিক সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত সামাল দেওয়ার মতো শক্তিশালী।

 

কিন্তু এই বাস্তবতা ইসরায়েলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। গাজায় দীর্ঘ সামরিক অভিযান, লেবানন ও সিরিয়ায় ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের সঙ্গে আগের সংঘাতের চাপ মিলিয়ে দেশটি ইতোমধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্লান্ত। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর মূল্য ইসরায়েলের জন্য আরও ভারী হয়ে উঠতে পারে।

 

শনিবার ইরানে হামলার পর থেকেই ইসরায়েল নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। দেশজুড়ে বারবার সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং লাখ লাখ রিজার্ভ সেনাকে জরুরি ভিত্তিতে ডেকে নেওয়া হয়েছে।

হাইফা ও তেল আবিবসহ বড় শহরগুলো ধারাবাহিক হামলার শিকার হচ্ছে।

 

জরুরি সেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে আক্রমণ পরিচালনায় অভ্যস্ত ইসরায়েলি সমাজ এবার নিজ ভূখণ্ডে একই মাত্রার যুদ্ধ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে বারবার আশ্রয়কেন্দ্র ও বাঙ্কারে ছুটতে হচ্ছে। তবে আপাতত দেশটির ভেতরে যুদ্ধপন্থী মনোভাবই বেশি দৃশ্যমান।

 

 

বড় শহরগুলোর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, বহুদিন ধরে ‘ইরান ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চায়’ এই ধারণা থেকে গড়ে ওঠা মানসিকতা এখন সরাসরি যুদ্ধসমর্থনে রূপ নিয়েছে। বামঘরানার সীমিত কয়েকটি রাজনৈতিক শক্তি ছাড়া প্রায় সব দলই সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে।

 

ইসরায়েলি রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ শির হেভারের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর দেশজুড়ে এক ধরনের সামরিকতাবাদী আবেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এটি জুন ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধের মতো নয়। তখন জনগণের মধ্যে ধ্বংসের আশঙ্কা প্রবল ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো।

 

সমাজে আত্মবিশ্বাস ও সামরিক উচ্ছ্বাস বেড়েছে। এমনকি সমালোচকরাও বলছেন, যুদ্ধকে ‘সংক্ষিপ্ত’ রাখা দরকার, যাতে যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুদ্ধের প্রতি এই সমর্থন ইসরায়েলি সমাজে ক্রমবর্ধমান উগ্র রাজনৈতিক প্রবণতার প্রতিফলন। আগে প্রান্তিক হিসেবে বিবেচিত অতিডানপন্থি রাজনীতিকরা এখন সরকারের কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও অর্থনৈতিক চাপ তরুণদের দেশত্যাগের প্রবণতাও বাড়াচ্ছে।

 

যারা দেশে অবস্থান করছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ‘ইরানই প্রধান শত্রু’ এই ধারণায় বেড়ে উঠেছেন। ফলে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ সমাজকে আরও সামরিকমনস্ক করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড্যানিয়েল বার-তাল পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের ‘ব্লিটজ’ অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, তখন ব্রিটিশরা নিজেদের চূড়ান্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে বলে বিশ্বাস করত এবং বোমাবর্ষণ সহ্য করেছিল। ইসরায়েলি সমাজেও এখন অনুরূপ মানসিকতা কাজ করছে। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা ও সামাজিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে ইরানকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলি সমাজ কেমন রূপ নেবে তা এখনই বলা কঠিন। কারণ দেশটির জনগণের মধ্যে নিজেদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে আস্থা ঐতিহাসিকভাবে খুব কমই নড়বড়ে হয়েছে। ১৯৪৮ সালের নাকবা কিংবা সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধের সময়ও তা বদলায়নি।

 

বার-তালের ভাষায়, নতুন এক প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে যারা আগের তুলনায় আরও ডানপন্থি ও সামরিক মনোভাবাপন্ন। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ‘তলোয়ার হাতে বাঁচতে হবে’ বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করে। তার মতে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক অস্তিত্বের ধারণার সঙ্গে স্থায়ী শত্রু ধারণা গভীরভাবে জড়িত। সামাজিক প্রভাবের পাশাপাশি দীর্ঘ যুদ্ধ ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজা আত্তার আল-জাজিরাকে বলেন, ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কতদিন চালানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে দুই বিষয়ের ওপর—একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সহায়তা, অন্যদিকে কার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

 

 

তার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম তিন দিনেই ইরান ইসরায়েলের দিকে ২০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তুলনামূলকভাবে, ১২ দিনের যুদ্ধে মোট প্রায় ৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরায়েলকে একটি করে প্রতিরক্ষা রকেট ব্যবহার করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল এবং সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না থাকলে ইসরায়েল আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় সংকটে পড়ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তিন স্তরের। স্বল্পপাল্লার রকেট প্রতিরোধে আয়রন ডোম, মাঝারি পাল্লার হুমকির জন্য ডেভিড’স স্লিং এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে অ্যারো–২ ও অ্যারো–৩ ব্যবহৃত হয়।

 

তবে দেশটি কখনোই ইন্টারসেপ্টর মজুতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করে না। ১২ দিনের যুদ্ধেই ইন্টারসেপ্টর সংকটের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। ফলে দীর্ঘ সংঘাতে প্রতিরক্ষা একই মাত্রায় বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার সীমিত করতে হতে পারে, যা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াবে।

 

ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রের বরাতে আত্তার জানান, ২০২৫ সালের জুনের সংঘাতের পর থেকে ইরান প্রতি মাসে প্রায় ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে। অর্থাৎ তেহরান উল্লেখযোগ্য মজুত গড়ে তুলেছে।

 

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু সংখ্যা দিয়ে ইরানের সামরিক শক্তি বোঝা যায় না। বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তাদের কাছে রয়েছে, যার কিছু ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম, মাঝারি পাল্লারগুলো সরাসরি ইসরায়েল লক্ষ্য করতে পারে এবং স্বল্পপাল্লার অস্ত্র উপসাগরীয় অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।

 

 

এছাড়া ইরানের হাতে কত লঞ্চার রয়েছে বা যুদ্ধের আগে কত ক্ষেপণাস্ত্র ছিল; এসব তথ্যও অজানা। লঞ্চার না থাকলে বিপুল মজুতও কার্যকর হয় না, যা তিনি ‘রাইফেল ছাড়া গুলি থাকার মতো’ বলে তুলনা করেন।

 

অর্থনৈতিক দিক থেকেও চাপ বাড়ছে ইসরায়েলের ওপর। প্রায় দুই বছরের ধারাবাহিক যুদ্ধে সামরিক ব্যয় দ্রুত বেড়েছে, একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রিজার্ভ সেনাকে দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাখতে হচ্ছে।

 

২০২৪ সালে গাজা ও লেবানন সংঘাতে দেশটির ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারে, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতি তৈরি করে। ২০২৫ সালের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ব্যয় বেড়ে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

 

অর্থনৈতিক চাপের কারণে বিশ্বের তিন প্রধান ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ২০২৪ সালে ইসরায়েলের সার্বভৌম ঋণমান কমিয়ে দেয়। শির হেভারের মতে, দেশটি এখন ঋণ, জ্বালানি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা সংকটসহ একাধিক চাপের মুখে রয়েছে।

 

তবে তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক সংকটই যুদ্ধ থামাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তার মতে, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রশ্নে এসে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্র যদি উন্নত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থা সরবরাহ অব্যাহত রাখে, যা দূর থেকে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে এবং সেনাদের ঝুঁকি কমায়, তাহলে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ ইসরায়েলের সামরিক অভিযান থামাতে পারবে না।

 

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে নয়, বরং সমাজের সহনশীলতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের ভারসাম্যের ওপর।

 

সূত্র: আল-জাজিরা

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।