খুঁজুন
, ,

ইয়াবাকান্ডসহ গুরুতর অপরাধে জড়িতর অভিযোগ

সিও ক্লোজড, বাবুর্চি সুইপারসহ কক্সবাজার র‍্যাবে গণবদলি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সিও ক্লোজড, বাবুর্চি সুইপারসহ কক্সবাজার র‍্যাবে গণবদলি
শেয়ার করুন

র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫ কক্সবাজার এলাকার প্রায় সকল কর্মকর্তা ও সদস্যকে হঠাৎ করেই প্রত্যাহার করেছে র‌্যাব সদর দপ্তর। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল ইসলামকে সংযুক্ত করা হয়েছে হেড কোয়ার্টারে। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের একযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

দেশের সমুদ্র ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জেলা কক্সবাজারের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫ ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়। অন্যান্য ব্যাটালিয়ন কয়েকটি জেলার দায়িত্বে থাকলেও শুধুমাত্র কক্সবাজারের জন্য একটি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন ছিল। ভয়ংকর মাদক ইয়াবা চোরাচালানসহ নানা অপরাধে কক্সবাজার বেষ্টিত। স্থানীয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র জানায়, র‌্যাবের কথিত সিভিল টি–এফএস সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের ইয়াবা–কাণ্ডসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে আসছিল। র‌্যাবের কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে আদায় করছিল মোটা অঙ্কের মাসোহারা।সূত্র জানায়, র‌্যাবের প্রতিটি কর্মকর্তারই নিজস্ব এফএস (ফিল্ড স্টাফ) থাকে। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার মত এরা সিভিল টিম হিসেবে কাজ করে তথ্য সরবরাহ করে। সূত্র জানায়, কক্সবাজারে কথিত এই সিভিল টিমই ইয়াবা ব্যবসায়ীসহ চোরাকারবারীদের সাথে যোগাযোগ করে অপরাধী সহায়তা করে বিনিময় আদায় করে ভাগ–বাটোয়ারা। এ ধরনের সুদৃশ্য অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হয়েছে কক্সবাজার র‌্যাবের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল ইসলামকে। তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে র‌্যাব সদর দপ্তরে। একই সাথে বদলি করা হয়েছে বিভিন্ন বাহিনী থেকে আসা টু–আইসি–সহ সকল কর্মকর্তাকে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের পাঁচটি পৃথক কোয়ার্টারে দেখা যায় কর্মরত বাবুর্চি–সুইপার, সুবেদার, হাবিলদার, এসআই, নায়েক, কর্পোরাল, এএসআই, কনস্টেবল, সিপাহী, সৈনিক—সহ বিভিন্ন পদের ৬৩৪ জনের বদলির আদেশ জারি হয়েছে। তিন শতাধিক র‌্যাব সদস্যকে প্রত্যাহার করে অন্যান্য ইউনিটে কর্মরতদের কক্সবাজার বদলি করা হয়েছে। তিন শতাধিক সদস্যকে কক্সবাজার থেকে অন্যান্য ইউনিটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।র‌্যাব সদর দপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) কামরুল হাসান কমান্ডার বিএন–এর অনুমোদিত মেজর ফয়সাল আহমেদ (উপপরিচালক প্রশাসন) স্বাক্ষরিত গত ১৯ নভেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনে ১৯৮ জন সদস্যকে এবং একই তারিখে আরেক প্রজ্ঞাপনে ২০০ জন সদস্যকে বদলি করা হয়। গত ১২ নভেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনে ৬২ জনকে বদলি করা হয়। ১৭ নভেম্বর মেজর ফয়সাল আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ১০০ জন সদস্যকে বিভিন্ন unit-এ বদলি করা হয়। এছাড়াও গতকাল ২৭ নভেম্বর আরও ৭৪ জন র‌্যাব সদস্যকে বদলি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার ইউনিট থেকে বাবুর্চি–সুইপারসহ প্রায় সবাইকেই অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, কথিত সিভিল টিমের কর্পোরাল ইমাম ও লুৎফর সরাসরি সিও–এর সাথে কাজ করতো। তারা বড় বড় চোরাকারবারিদের সাথে যোগাযোগ করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও কর্মকর্তা এহেতেশাম ও নাজমুলের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কক্সবাজার ও র‌্যাব সদর দপ্তরে বিষয়টি বেশ আলোচিত।

র‌্যাব সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক, বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় গুম, ক্রসফায়ার, দখলবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়ে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞাও দেয়। কক্সবাজারের আলোচিত কাউন্সিলর একরামুল হত্যাকাণ্ডের পর র‌্যাবকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।

কক্সবাজার র‌্যাবের সিও ক্লোজড ও সদস্য প্রত্যাহারের বিষয়ে র‌্যাব সদর দপ্তরের মিডিয়া উইং এর পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী বলেন, প্রত্যাহারকৃত কমান্ডিং অফিসার এক বছরের বেশি কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন। তাকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে ৩ শতাধিক কর্মকর্তা ও সদস্যকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে—এটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার জানা নেই, খোঁজ নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “কক্সবাজারে কর্মরত সকল র‌্যাব সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়নি। বিষয়টি সদর দপ্তরের অপারেশন শাখা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।”

র‌্যাব সদস্যদের ইয়াবা ব্যবসাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোন বিষয় জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র‌্যাব অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।”

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় র‌্যাবের অপারেশন কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীদের নানা সন্দেহ–সংশয় রয়েছে। সর্বশেষ গত কয়েকদিন আগে কুতুপালং র‌্যাবের একটি বাড়িতে চালিয়ে নগদ ৬০ লক্ষ টাকা ও ৪ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট আটকের পর ভাগ–বাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

র‌্যাবের প্রতিটি কর্মকর্তা এফএস নিয়োগ করে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের সাথে গোপন যোগাযোগের অভিযোগও রয়েছে। সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও অপরাধ বিশ্লেষক এনামুল কবীর রূপম বলেন, যাদের দায়িত্ব এলিট ফোর্স হিসেবে নিষিদ্ধ অবৈধ মাদক নিয়ন্ত্রণসহ অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা, তারা নিজেরাই যখন মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে পড়েন তখন রাষ্ট্র অসহায় হয়ে যায়। র‌্যাব হেডকোয়ার্টার যদি শুধুমাত্র একযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করেই ক্ষান্ত হয় তাহলে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকবে। তাই তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের কিছুই হবে না। ইমেজ সংকটে থাকা এলিট ফোর্সের ভাবমূর্তি ধরে রাখা খুবই জরুরি বিষয়। গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল এসব স্থানে পদায়নের আগে তাদের যথাযথ ট্রেনিং–ব্রিফিং দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশের সমুদ্র ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকা কক্সবাজার। মাদক ও আইন–শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এলিট ফোর্স শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলার জন্যই ১৫ ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়। বিগত সরকারের সময় গুম, ক্রসফায়ার, চাঁদাবাজি, দখলবাজির কারণে কক্সবাজারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ব্যাপক নিন্দা হয়। বিশেষ করে আটক এক কাউন্সিলর একরামুল হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত আলোচিত।

কক্সবাজার র‌্যাব সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে উদ্বিগ্ন করছে। কিছুদিন আগে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর সাথে গোপন বাণিজ্যের অভিযোগে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের কক্সবাজার সিও–কে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়। কক্সবাজারে মোতায়েনকৃত প্রতিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই পরিবেশ–পরিস্থিতির কারণে দায়িত্ব পালনে লোভ–লালসা ও ঝুঁকির মুখোমুখি।

সূত্র: বাংলা বাজার পত্রিকা অনলাইন

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।