খুঁজুন
, ,

সোনাদিয়া দ্বীপে রয়েছে সাত লাখ টন মূল্যবান খনিজ সম্পদ, বছরে ২ হাজার কোটি টাকার আয়ের সম্ভাবনা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
সোনাদিয়া দ্বীপে রয়েছে সাত লাখ টন মূল্যবান খনিজ সম্পদ, বছরে ২ হাজার কোটি টাকার আয়ের সম্ভাবনা
শেয়ার করুন

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার ছোট্ট দ্বীপ সোনাদিয়া। ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় বনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বীপটির আয়তন নয় বর্গকিলোমিটার। চারদিক জলরাশিতে ঘেরা এ ভূখণ্ডে পাওয়া গেছে ভারী প্রাকৃতিক খনিজ—ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, গারনেট, জিরকন, রুটাইল ও মোনাজাইট।

সোনাদিয়ায় এ ধরনের মূল্যবান খনিজ সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক সাত লাখ টন। এর মধ্যে গারনেট ও ইলমেনাইটের আধিক্য সবচেয়ে বেশি। মূল্যবান এ সম্পদের আর্থিক হিসাব এখনো নির্ধারিত না হলেও, বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ভূতত্ত্ববিদরা।

সম্প্রতি সোনাদিয়া দ্বীপের মূল্যবান সম্পদ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা জার্নাল ‘ডিসকভার জিওসায়েন্স’। নিউজিল্যান্ডের ডানেডিনের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার গবেষক—মো. শাখাওয়াত হোসেন, মো. শাহরিয়ার রহমান, গোলাম তাকি ও মাফতুহা জাহান—গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

‘জিওলজিক্যাল ক্যারেক্টারাইজেশন অ্যান্ড রিজার্ভ এস্টিমেশন অব দ্য ইকোনমিক হেভি মিনারেলস অব সোনাদিয়া আইল্যান্ড, বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গবেষণায় দ্বীপটির খনিজভিত্তিক সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, দ্বীপটির বালির নমুনায় গারনেটের পরিমাণ ৫১.৫২ শতাংশ এবং ইলমেনাইট ৩৮.১৪ শতাংশ। এছাড়া ম্যাগনেটাইট ৫.৭৪, জিরকন ১.০১, রুটাইল ৩.৫৭ এবং মোনাজাইট ০.১ শতাংশ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার চরেও ইলমেনাইট, রুটাইল, গারনেট ও জিরকনসহ বিভিন্ন খনিজের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

গবেষকদের দাবি, সোনাদিয়া দ্বীপের বালিয়াড়িতে ভারী খনিজ পদার্থের ঘনত্ব সৈকতের অন্যান্য অংশ—তীরবর্তী এলাকা (ব্যাকশোর) ও সাগরতীর (ফোরশোর)—এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তাদের হিসাবে, বালিয়াড়ির বালিতে গারনেট রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৬৮ টন, ফোরশোরে ১৯ হাজার ৭৯৪ টন এবং ব্যাকশোরে ৪৭ হাজার ৩২৪ টন।

বালিয়াড়ির বালিতে ইলমেনাইটের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৯২ টন। ফোরশোরে ১৫ হাজার ১৬ টন এবং ব্যাকশোরে ৩০ হাজার ৪৮৭ টন। গবেষণায় বলা হয়, সমুদ্রের ঢেউ, স্রোত এবং পলি জমার প্রাকৃতিক প্রবাহের কারণে ভবিষ্যতে এ খনিজ সম্পদের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

তবে গবেষণায় উল্লেখিত সাত লাখ টন ভারী খনিজের পরিমাণকে “যৎসামান্য” বলে মন্তব্য করেছেন ইনস্টিটিউট অব মাইনিং, মিনারেলজি অ্যান্ড মেটালার্জি (IMMM)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বণিক বার্তাকে জানান,
“সোনাদিয়া দ্বীপে সাত লাখ টনের যে হেভি মিনারেল পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটা খুবই সামান্য। বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব কি না, তা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলা যাবে।”

তিনি আরও বলেন,“কক্সবাজার, টেকনাফ, মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপের ভারী খনিজ নিয়ে ১৯৮০ সালেও গবেষণা হয়েছে। তখনকার তথ্যে ওই অঞ্চলে ২১ মিলিয়ন (২ কোটি ১০ লাখ) টন খনিজ থাকার কথা বলা হয়েছিল। তবে এসব খনিজ বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন ব্যয়বহুল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি কতটা লাভজনক হবে, তা বিবেচনা করতে হবে।”

ভৌগোলিক অবস্থান ও ব্লু ইকোনমি-এর দিক থেকে সোনাদিয়া দ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই দ্বীপটির পর্যটন ও মৎস্যশিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। গত বছর ইকো-ট্যুরিজম পার্ক গড়ে তোলার শর্তে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অনুকূলে ৯,৪৬৭ একর জমি বরাদ্দ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও এ বিষয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে।

বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, সরকার বর্তমানে নদীর বালি প্রক্রিয়াকরণের দিকে এগোচ্ছে। এর জন্য লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। তবে সমুদ্র বা দ্বীপাঞ্চলের বালি নিয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, প্রতি বছর নদীতে যে পরিমাণ পলি আসে তার মাত্র ১০ ভাগও যদি প্রক্রিয়াজাত করে খনিজের বাণিজ্যিক ব্যবহার করা যায়, তবে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল মান্নান বলেন,“সোনাদিয়া দ্বীপের খনিজসম্পদ বিষয়ে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে সরকার নদীর বালি প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু করেছে।”
গবেষণায় দেখা যায়, সোনাদিয়া দ্বীপের প্রতিটি খনিজের রাসায়নিক গঠন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে জিরকন, রুটাইল ও ইলমেনাইটে মূল উপাদানগুলোর উচ্চ ঘনত্ব পাওয়া গেছে। এছাড়া অ্যাম্ফিবোল, মাসকোভাইট, কোয়ার্টজসহ অন্যান্য খনিজের উপস্থিতিও নির্ণয় করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে চিহ্নিত খনিজগুলোর মধ্যে ইলমেনাইট ও রুটাইল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো থেকে উৎপাদিত টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড রঙ, প্লাস্টিক, কাগজের আবরণ ও বিশেষ ধাতু মিশ্রণে অপরিহার্য। জিরকন সিরামিক, কাচ ও ঢালাই শিল্পে তাপসহনীয়তা ও উজ্জ্বলতা বাড়ায়; কেটে ও পলিশ করলে রত্ন হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
গারনেট ব্যবহৃত হয় জেট-কাটিং ও পলিশে অসাধারণ অ্যাব্রেসিভ পদার্থ হিসেবে, আবার গহনা তৈরিতেও। মোনাজাইটে থাকে দুর্লভ উপাদান, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানির টারবাইন থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্সেও গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাগনেটাইট লোহা-ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল, আর কায়ানাইট ব্যবহৃত হয় রিফ্র্যাক্টরি ইট ও বিশেষ সিরামিক তৈরিতে।

অবকাঠামো, পেইন্ট, প্লাস্টিক ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি শিল্পে এসব খনিজের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। তাই শুধু বালি বিক্রি না করে খনিজ পৃথকীকরণ, শোধন ও ব্র্যান্ডভিত্তিক রপ্তানির সুযোগ রয়েছে বহুগুণে।
দেশের দ্বীপাঞ্চল ও চরাঞ্চলের খনিজ উত্তোলনে সরকারের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন,“আমাদের দেশের নদীবাহিত চরাঞ্চল ও সমুদ্রদ্বীপে ভারী খনিজ পদার্থ রয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে এসব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। যমুনার চরের খনিজ নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সও দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,“সোনাদিয়া দ্বীপে অবশ্যই হেভি মিনারেল আছে। তবে এগুলো নিয়ে সঠিক গবেষণা হওয়া জরুরি। শুরুতেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে স্টাডি না করাই ভালো, কারণ এসব খনিজের সঙ্গে অনেক রেয়ার আর্থ এলিমেন্টও রয়েছে—যেগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। তাই ধীরে-সুস্থে সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে গবেষণা করা উচিত।”

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’