খুঁজুন
, ,

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রীকে ‘ঘেরাও’ করার হুমকি দিলেন নাহিদ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রীকে ‘ঘেরাও’ করার হুমকি দিলেন নাহিদ
শেয়ার করুন

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘এই দুজন মন্ত্রীই তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে দেশের সর্বত্র আমরা মিছিল করব। সেই মিছিল নিয়ে আমরা জনাব তারেক রহমানকে (প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান) ঘেরাও করে আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ।’

 

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভ সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। ‘দেশব্যাপী সরকার প্রযোজিত খুন, লুটতরাজ, অরাজকতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে’ এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশ হয়।

 

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে এনসিপির দুই প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতিতে এ সমাবেশে কয়েক হাজার নেতা–কর্মী অংশ নেন। জাতীয় জাদুঘরের সামনের চত্বর ও আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন নেতা–কর্মীরা।

সমাবেশে সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, রাহাজানিতে সবার জীবন আজ নাজেহাল। দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই। দেশের সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় সবচেয়ে বেশি বর্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত হয়েছেন। গণভোটের গণরায় বাদ দিয়ে তিনি সংবিধান কাটাছেঁড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। চলমান নৈরাজ্য ও গুম–খুনের দায় নিয়ে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। সঙ্গে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকেও পদত্যাগ করতে হবে। কারণ, দুজনই তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন।’

 

‘নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি’

বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দেশ পরিচালনা করার কোনো ধরনের পরিকল্পনাই নেই বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে সমাবেশে তিনি বলেন, ‘কীভাবে দেশে দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্ব কায়েম করা হবে, সেই পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন। আমরা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে এখন নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি। কিন্তু জনগণের সামনে আমাদের প্রতিশ্রুতি, পতিত স্বৈরাচার এবং এই নব্য স্বৈরাচার–এই দুই স্বৈরাচারকেই আমরা পরাজিত করব, ইনশা আল্লাহ।’

আগামী ডিসেম্বরে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে শুনছি পতিত স্বৈরাচার নাকি আসবে দেশে! আমরা জানি, সেই স্বৈরাচারকে এই নতুন স্বৈরাচার কোনোভাবেই মোকাবিলা করতে পারবে না।…তাই বাংলাদেশের তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের জনগণকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

 

করিডর, গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গ

সীমান্তে হত্যা, পাহাড়ে অশান্তি, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের নির্যাতন, দিল্লিতে মসজিদ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার ভারতের চক্রান্ত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে না। জাপানে গিয়ে আবারও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে অবৈধ করিডর ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তারেক রহমান। এ ধরনের কোনো অবৈধ করিডর বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আগামী ডিসেম্বরে যদি গঙ্গা চুক্তি ন্যায্যভাবে নতুন করে তৈরি করা না হয়, বাংলাদেশের জনগণ আবারও মাঠে নামবে। ‘এবার আমরা গঙ্গা চুক্তিতে কোনোভাবেই বিন্দু পরিমাণ আমাদের ন্যায্য হিস্যায় ছাড় দেব না’ বলে উল্লেখ করেন নাহিদ।

 

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদের কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা–৮ আসনে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছিল। ইনশা আল্লাহ, এবার আমরা তাঁকে হারতে দেব না। আসিফ মাহমুদকে পরিকল্পনা করে নির্বাচনের বাইরে রেখে যারা ভেবেছিল, গণ–অভ্যুত্থানের শক্তিকে নিঃশেষ করে দেবে, তারাও ইনশা আল্লাহ এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পরাজিত হবে।’

 

কলকাতায় ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়ে না?

গণবিক্ষোভ সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, কলকাতায় এলপিজির দাম হাজার টাকা, বাংলাদেশে সেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়ে না? এর উত্তর জ্বালানিমন্ত্রীকে দিতে হবে।

 

সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান আখতার। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।

এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আকরাম হুসাইন, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ছাড়াও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন।

 

সমাবেশে বিপুল জমায়েত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আজকের গণবিক্ষোভ সমাবেশটি ছিল এনসিপির মাঠপর্যায়ের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতা–কর্মী সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। কর্মসূচির আগে সপ্তাহজুড়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করেছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

 

শাহবাগে গণবিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা ছিল বেলা তিনটায়। তিনটার আগে থেকেই বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ের নিচে ও শাহবাগে দলটির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। নেতা-কর্মীদের অনেকেই বাসে করে এসেছিলেন।

 

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতারা শাহবাগের সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদু্ল্লাহ আল আমিন, সারোয়ার তুষার ও মনিরা শারমিন প্রথমে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। পরে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা আসতে থাকেন। বিকেল পৌনে চারটার পর বাংলামোটর থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির এবং বিকেল সোয়া চারটার দিকে আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির দুটি বড় মিছিল সমাবেশস্থলে প্রবেশ করে।

 

বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর বাজানো হয় জাতীয় সংগীত। পরে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ আল আমিন, আতিক মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ ও নুসরাত তাবাসসুম সমাবেশে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি।

রেজাল্ট খারাপ হলে মন ভালো করতে ঘুরে আসুন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
রেজাল্ট খারাপ হলে মন ভালো করতে ঘুরে আসুন
শেয়ার করুন

যে কোনো পরীক্ষার রেজাল্ট বা ফলাফল কখনো মেধা, যোগ্যতা বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না এলে সবারই মন খারাপ হয়। সেই হতাশাকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া যাবে না। তাই নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার শক্তি সঞ্চয় করা জরুরি।

 

রেজাল্ট খারাপ হলে মানসিক চাপ দূর করতে এবং মন ভালো করতে চমৎকার কিছু জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন। মানসিক প্রশান্তি পেতে ঘুরে আসার মতো কিছু দারুণ জায়গা হলো:

শ্রীমঙ্গল

চারদিকের সবুজ চা বাগান, লেবু বাগান আর আনারস বাগানের শান্ত পরিবেশ আপনার মনকে নিমেষেই শান্ত করে দেবে।

 

বান্দরবান

পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের ওড়াউড়ি এবং শান্ত নীল আকাশ আপনার ভেতরের সমস্ত হতাশা ও ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে।

মহামায়া লেক

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত মহামায়া লেক বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হৃদ। এই কৃত্রিম লেক ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের রূপে ও মাধুর্যে মুগ্ধ করে। আপনার মনকে মুহূর্তেই চাঙা করে দেবে।

সুন্দরবন

প্রকৃতির একদম কাছাকাছি গিয়ে বনের নিস্তব্ধতা এবং নদীর শান্ত বাতাস মনের জমে থাকা কষ্টগুলো ধুয়ে মুছে দেবে।

 

সমুদ্রসৈকত

বিশাল সমুদ্রের সামনে দাঁড়ালে নিজের সমস্যাগুলোকে খুব ছোট মনে হয়। সমুদ্রের গর্জন এবং ঢেউয়ের স্পর্শ মানসিকভাবে নতুন শক্তি জোগায়। তাই তো কক্সবাজার বা কুয়াকাটা হতে পারে উত্তম গন্তব্য।

 

কাপ্তাই লেক

রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত শান্ত হ্রদের পানিতে নৌকা ভ্রমণ এবং পাহাড় ঘেরা পরিবেশ মানসিক অস্থিরতা কাটাতে দারুণ কার্যকর।

 

জাফলং বা বিছনাকান্দি

সিলেটে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনা ও পাথুরে নদীর শীতল জল আপনাকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলবে।

কেন এই সময়ে ঘুরে আসা জরুরি

পরিবেশ পরিবর্তন

একই ঘরে বা চেনা পরিবেশে বারবার রেজাল্টের কথা মনে পড়তে পারে। পরিবেশ পরিবর্তন করলে চিন্তা অন্যদিকে ঘোরানো সহজ হয়।

 

মানসিক স্বস্তি

প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমে এবং মন ভালো করার হরমোন নিঃসরণ বাড়ে।

 

নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

একা বা কাছের মানুষের সাথে ভ্রমণের সময় জীবনের অন্যান্য সম্ভাবনা এবং দক্ষতা অর্জনের ব্যাপারে শান্ত মাথায় পরিকল্পনা করা যায়।

 

জীবনের আসল পরীক্ষা শুধু একটা রেজাল্ট ভালো করা নয় বরং প্রতিকূলতার মধ্য থেকেও ঘুরে দাঁড়ানো। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। মনকে শান্ত করুন। নতুন উদ্যমে শুরু করুন। সফলতা আসবেই।

দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র হতে যাচ্ছে ইনানী, মিলতে পারে তেলের সন্ধানও

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র হতে যাচ্ছে ইনানী, মিলতে পারে তেলের সন্ধানও
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে সৃষ্ট আগুন চার দিনেও নেভেনি। আগুন দেখতে প্রতিদিনই ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগুনের উৎসের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে সেখানে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন, ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণ শেষে যদি এই সম্ভাবনা সত্যি হয় তাহলে দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র হতে পারে ইনানী।

 

পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে গ্যাসক্ষেত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী ১৫ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের তীব্রতা কমে না এলে উপযুক্ত পদ্ধতিতে গ্যাস নির্গমনের পথ সিল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

তিনি আরও জানান, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সক্ষমতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম। এ পর্যায়ে বাইরের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হবে না। তবে প্রকৃতির আচরণ অনিশ্চিত হওয়ায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। ‘

 

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের সাবেক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আগের দিন একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

এসময় উপস্থিত পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শোয়েব জানান, ‘ আমরা রাতে এসেছি অগ্নিশিখার রঙ পর্যবেক্ষণের জন্য, কালচে ভাব দেখে মনে হচ্ছে এখানে তেলও থাকতে পারে।১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তারের সই করা আদেশে আগুনের উৎস ও আশপাশের ২০০ মিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

 

আদেশে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা জোনে ভাগ করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

 

এ নির্দেশনার আওতায় ঘটনাস্থল ও আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দেশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

 

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে মেরিন ড্রাইভ থেকে ইনানী ও কোটবাজারে যাতায়াতের দুটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কে কাঁটাতার টেনে ব্যারিকেডও দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’

 

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আগুনের তীব্রতা কম থাকলেও বিকেল পাঁচটার পর তা বাড়তে থাকে। শুক্রবার পর্যন্ত আগুনের তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দিকে বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন। তবে তাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

লোহাগাড়ায় ইউএনওর বাংলোয় ডেকে সাংবাদিককে নির্যাতন, থানায় এজাহার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
লোহাগাড়ায় ইউএনওর বাংলোয় ডেকে সাংবাদিককে নির্যাতন, থানায় এজাহার
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের সরকারি বাংলোয় ডেকে নিয়ে সাংবাদিককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ মিজান বাদী হয়ে ইউএনওকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে লোহাগাড়া থানায় লিখিত এজাহার জমা দিয়েছেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, সাংবাদিক মিজানকে মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে এজাহার দিয়েছেন। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান তিনি।

 

এদিকে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএমইউজে) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আরেফিন গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক মিজানের সঙ্গে ইউএনওর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে স্থানীয় প্রশাসন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার প্রতিবাদ ও সংহতি প্রকাশ করতে লোহাগাড়া পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

 

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির বাংলাদেশ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত যে-ই হোক, তাঁকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। একজন সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাংবাদিক নির্যাতন করবেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

 

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ হয়নি। ৫ আগস্ট-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সাংবাদিকেরা স্বাধীন ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

 

এজাহারে যা বলা হয়েছে

 

মামলার লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ মিজান (২৬) জাতীয় সাপ্তাহিক ‘সময়ের প্রয়াস’-এর লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এজাহারে ইউএনও মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ (৪০), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন (৩২), মো. খোরশেদ আলম (৩৫) ও মাঈনউদ্দিন (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

এজাহারে সাংবাদিক মিজান অভিযোগ করেন, ইউএনওর বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্থানীয় কয়েকজনের অপকর্ম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ইউএনওর কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করে সরকারি বাংলোয় যেতে বলেন।

 

এজাহার অনুযায়ী, বাংলোয় পৌঁছানোর পর তাঁকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই তিনি ফিরে আসেন। পরে হেলাল উদ্দিন আবারও ফোন করে তাঁকে দ্রুত বাংলোয় যেতে বলেন। সেখানে গেলে ইউএনওর উপস্থিতিতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলোর ভেতরে আগে থেকেই উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি আহত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

 

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, একই দিন রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে অভিযোগ দায়েরের উদ্দেশ্যে লোহাগাড়া থানার সামনে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় ৩ ও ৪ নম্বর আসামির নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাঁকে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে উদ্ধার হন।

 

সাংবাদিক মিজান এজাহারে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগের সমর্থনে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও ঘটনার ভিডিওচিত্রের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

 

বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিক্রিয়া

 

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দ্রুত যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।

 

অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন বলে জানান।

 

সাংবাদিক নির্যাতনের এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতারা।