খুঁজুন
, ,

কলেজের জানালা-গ্রিল ও ফ্যান চুরির অভিযোগে শাখা ছাত্রদল সভাপতি আটক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
কলেজের জানালা-গ্রিল ও ফ্যান চুরির অভিযোগে শাখা ছাত্রদল সভাপতি আটক
শেয়ার করুন

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ড. ইমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের পরিত্যক্ত ভবন থেকে জানালা, বারান্দার গ্রিল, ফ্যান ও নির্মাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ তালুকদারকে আটক করেছে পুলিশ।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে কলেজের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অধ্যক্ষ বাড়িতে চলে যান। পরে পৌনে ৩টার দিকে এক শিক্ষক ফোন করে তাঁকে জানান, সাহেদ তালুকদার ও তাঁর সহযোগীরা কলেজের পরিত্যক্ত ভবন থেকে জানালা, বারান্দার গ্রিল ও তিনটি ফ্যান খুলে নিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে অধ্যক্ষ কলেজে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় কলেজের কর্মচারী রিথুন তালুকদার ও নির্মাণশ্রমিকেরা বাধা দিলে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আনা ২০০ কেজি রড চুরির অভিযোগ রয়েছে। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ এভাবে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কলেজের সভাপতি ও কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী বলেন, কলেজের মালামাল চুরির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাহেদ তালুকদারকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।

‘আম তারেক’ অন্তত হোটেলে নারী কেলেঙ্কারি-পদ বাণিজ্য-‘চুমু শফিকের’ মতো নয়’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
‘আম তারেক’ অন্তত হোটেলে নারী কেলেঙ্কারি-পদ বাণিজ্য-‘চুমু শফিকের’ মতো নয়’
শেয়ার করুন

আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে ‘আম তারেক’ নামে সম্বোধন করার বিষয়টিকে সম্মানজনক বলে মনে করেন তার স্ত্রী তামান্না ফেরদৌস শিখা।

তার দাবি, স্বামীর বিরুদ্ধে হোটেলে নারী নিয়ে যাওয়া, নিয়োগ ও পদ বাণিজ্য কিংবা বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মতো কোনো কেলেঙ্কারির অভিযোগ নেই। এমনকি অন্য এক ব্যক্তিকে ঘিরে প্রচলিত ‘চুমু শফিক’ বিশেষণের মতো কোনো নেতিবাচক পরিচিতিও তার স্বামীর সঙ্গে যুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্বামীকে স্বাগত জানাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তামান্না ফেরদৌস শিখা।

এ সময় তিনি বলেন, তার স্বামীকে ‘আম তারেক’ নামে ডাকা হয়, যা তার কাছে অত্যন্ত সম্মানের। তার ভাষ্য, এই বিশেষণ কোনো অসৎ কর্মকাণ্ড কিংবা পদ বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

তামান্না ফেরদৌস শিখা বলেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে হোটেলে নারী নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো কেলেঙ্কারির অভিযোগ নেই। একইভাবে নিয়োগ বাণিজ্য, পদ বাণিজ্য, স্কুলের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও নেই বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যে আরও কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন শিখা। তার দাবি, রাস্তার বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ কিংবা নীলা মার্কেটকে ঘিরে কোনো কেলেঙ্কারির সঙ্গেও তাঁর স্বামীর নাম জড়িত নয়।

সবকিছু বিবেচনায় ‘আম তারেক’ সম্বোধনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেন বলে জানান তিনি। বক্তব্যের শেষাংশে তামান্না ফেরদৌস শিখা বলেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে ‘চুমু শফিকের’ মতো কোনো বিশেষণ যুক্ত নেই-এটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আমি আসলে জানতাম না, কোন হাতে ছুরি আর কোন হাতে কাটা চামচ নিতে হবে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
আমি আসলে জানতাম না, কোন হাতে ছুরি আর কোন হাতে কাটা চামচ নিতে হবে
শেয়ার করুন

আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান বলেছেন, জাপান সফরে খাবার খাওয়ার নিয়ম এবং ছুরি-কাঁটা চামচ ব্যবহারের বিষয়ে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার নিয়ম, ছুরি-কাঁটা চামচ ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার আগে তেমন ধারণা ছিল না।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

 

মো. তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। আমাকে তার সফরসঙ্গী করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। সফর শেষে আজ আমরা দেশে ফিরেছি। ফেরার পথে বিমানে কিছুটা ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। গণমাধ্যমে আপনারা বিষয়টি দেখেছেন। তবে সেটি নিবিড়ভাবে ও সুন্দরভাবে সমাধান করে আমরা দেশে ফিরেছি। জাপানে বেশ শীত ছিল। আর দেশে ফিরে মনে হচ্ছে এখানে বেশ গরম।

তিনি বলেছেন, সফরে বিভিন্ন বিষয়ে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার নিয়ম, ছুরি-কাঁটা চামচ ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার আগে তেমন ধারণা ছিল না। কোন হাতে ছুরি এবং কোন হাতে কাঁটা চামচ নিতে হয়, সেটি জানা ছিল না। আমার সাধারণ বুদ্ধি থেকে মনে হয়েছিল, যেহেতু কাঁটা চামচ দিয়ে খাব, তাই ডান হাতেই সেটি নেওয়া উচিত। সেই চিন্তা থেকেই ডান হাতে কাঁটা চামচ নিয়েছিলাম।

 

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি ও পোস্ট দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে যারা লেখালেখি করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সফরের আরও অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেগুলো পরবর্তী সময়ে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবো।

 

এর আগে গত সোমবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। একই সফরে যান আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

 

চার দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা। প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি জাপান, জানাল টোকিও

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি জাপান, জানাল টোকিও
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে টোকিও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠকেও হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সেক্রেটারি কিতামুরা তোশিহিরো এ তথ্য জানান।

প্রেস সেক্রেটারি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এক লাখ কর্মী নেওয়ার খবর সঠিক নয়। গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিস্তারিত জানতে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বৈঠকের আনুষ্ঠানিক বিবরণ দেখার পরামর্শ দেন তিনি।

 

জাপানের এই বক্তব্যের আগে দেশটিতে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়, জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী, নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়।

তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা এবং জাপান সরকারের নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী গ্রহণে সম্মতি দেওয়ার বিষয় দুটি এক নয়। টোকিওর বক্তব্যে এই পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।

 

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৭ অক্টোবরের শীর্ষ বৈঠকের বিবরণেও বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই। সেখানে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের মাধ্যমে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানান। এ বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

 

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাওয়ার ক্ষেত্রে ‘স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার’ (এসএসডব্লিউ) এবং ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্ন’ কর্মসূচির সুযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক সই হয়। তবে ভাষাগত দক্ষতা ও নির্দিষ্ট যোগ্যতার কঠোর শর্ত থাকায় জাপানে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া বেশ নিয়ন্ত্রিত। এখন পর্যন্ত বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর মতো কোনো চুক্তি বা বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।