খুঁজুন
, ,

সাড়ে ৪ বছর পর দুদক কর্মকর্তা শরীফের চাকরিতে ফেরার পথ খুলেছে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সাড়ে ৪ বছর পর দুদক কর্মকর্তা শরীফের চাকরিতে ফেরার পথ খুলেছে
শেয়ার করুন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে একের পর এক আলোচিত অনুসন্ধান চালিয়ে চাকরিচ্যুত হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে ফেরার পথ খুলেছে।

 

তাকে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল প্রত্যাহার করেছে দুদক।

 

ফলে সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পর জ্যেষ্ঠতাসহ চাকরিতে ফিরতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শরীফ উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দীন দোলন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে গত বছর আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল দুদক। পরে সেই লিভ টু আপিল প্রত্যাহারের আবেদন করে সংস্থাটি। গত ১৫ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, দুদকের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী লিভ টু আপিলটি আর পরিচালনা না করার নির্দেশনা পেয়েছেন বলে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি না চালানোর কারণে লিভ টু আপিল খারিজ করা হয়।

 

এ বিষয়ে শরীফ উদ্দিনের আইনজীবী সালাহ উদ্দীন দোলন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন। অর্থাৎ লিভ টু আপিল প্রত্যাহার হয়ে গেল। জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুবিধাসহ শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছিলেন, তা বহাল রইল।’

তিনি আরও জানান, জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহালের ক্ষেত্রে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।

 

এর আগে গত বছরের ৯ জুলাই শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল।

 

যেভাবে আলোচনায় আসেন শরীফ উদ্দিন

 

দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে প্রায় তিন বছর কর্মরত ছিলেন উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন। এ সময় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম, রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং ইয়াবা চোরাচালানসহ একাধিক আলোচিত ঘটনার অনুসন্ধান করেন তিনি।

 

তার অনুসন্ধানে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে আসে।

 

চাকরির মেয়াদকালে প্রায় অর্ধশত মামলা এবং ২০টির বেশি অভিযোগপত্র দাখিল করেন শরীফ উদ্দিন। কক্সবাজারের তালিকাভুক্ত ইয়াবা চোরাকারবারি হাজি সাইফুল করিমের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিলেন তিনি।

 

এছাড়া কক্সবাজারের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দুর্নীতি অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে আসে। রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট জালিয়াতির অনুসন্ধানেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

 

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) নিয়োগ, পদোন্নতি ও গ্যাস সংযোগে অনিয়ম নিয়েও অনুসন্ধান করেন শরীফ। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করে ১৮২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরি করেন। এসব ঘটনায় একাধিক মামলার সুপারিশ করেছিলেন তিনি।

 

আলোচিত এসব অনুসন্ধানের মধ্যে ২০২১ সালের ১৬ জুন তাকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। এর আগে দায়িত্ব পালনের কারণে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন তিনি।

 

পরে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের পটুয়াখালী কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।

 

দুদকের তৎকালীন আদেশে বলা হয়েছিল, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৫৪(২)-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মো. শরীফ উদ্দিন (উপসহকারী পরিচালক) দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যক্রম, পটুয়াখালীকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো। তিনি বিধি মোতাবেক ৯০ দিনের বেতন এবং প্রযোজ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’

 

তার চাকরিচ্যুতির ঘটনায় সে সময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। অপসারণের আদেশ প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট বিধি বাতিলের দাবিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে মানববন্ধন করেন সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

যেভাবে চাকরিতে ফেরার পথ খুলল

 

চাকরিচ্যুতির আদেশ এবং দুদক কর্মচারী বিধিমালার ৫৪(২) বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন শরীফ উদ্দিন।

 

রিটের শুনানিকালে একই বিধির আওতায় দুদকের আরেক কর্মকর্তা মো. আহসান আলীকে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় করা মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২৫ মে ওই আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শরীফের রিটের শুনানি মুলতবি করেন হাইকোর্ট।

 

পরে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ২০২২ সালের ১৬ জুন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন শরীফ।

 

২০২৩ সালের ১৬ মার্চ আপিল বিভাগ দুদকের করা আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন। এতে ৫৪(২) বিধি বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া আগের রায় বাতিল হয়।

 

একই বছরের ২১ ডিসেম্বর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ উল্লেখ করেন, দুদক কর্মচারী বিধিমালার ৫৪(২) বিধি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুদককে ১২ দফা পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়।

 

এরপর শরীফ উদ্দিনের করা রিট পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করেন আদালত।

 

চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৯ জুলাই হাইকোর্ট শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতির ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির আদেশ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও শুরু থেকেই বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুবিধাসহ তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।

 

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক লিভ টু আপিল করলেও শেষ পর্যন্ত তা আর পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৫ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত লিভ টু আপিলটি খারিজ করেন।

 

এর ফলে হাইকোর্টের দেওয়া পুনর্বহালের রায় বহাল থাকায় জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ দুদকের চাকরিতে ফেরার পথ খুলেছে আলোচিত সাবেক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের।

‘আম তারেক’ অন্তত হোটেলে নারী কেলেঙ্কারি-পদ বাণিজ্য-‘চুমু শফিকের’ মতো নয়’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
‘আম তারেক’ অন্তত হোটেলে নারী কেলেঙ্কারি-পদ বাণিজ্য-‘চুমু শফিকের’ মতো নয়’
শেয়ার করুন

আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে ‘আম তারেক’ নামে সম্বোধন করার বিষয়টিকে সম্মানজনক বলে মনে করেন তার স্ত্রী তামান্না ফেরদৌস শিখা।

তার দাবি, স্বামীর বিরুদ্ধে হোটেলে নারী নিয়ে যাওয়া, নিয়োগ ও পদ বাণিজ্য কিংবা বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মতো কোনো কেলেঙ্কারির অভিযোগ নেই। এমনকি অন্য এক ব্যক্তিকে ঘিরে প্রচলিত ‘চুমু শফিক’ বিশেষণের মতো কোনো নেতিবাচক পরিচিতিও তার স্বামীর সঙ্গে যুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্বামীকে স্বাগত জানাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তামান্না ফেরদৌস শিখা।

এ সময় তিনি বলেন, তার স্বামীকে ‘আম তারেক’ নামে ডাকা হয়, যা তার কাছে অত্যন্ত সম্মানের। তার ভাষ্য, এই বিশেষণ কোনো অসৎ কর্মকাণ্ড কিংবা পদ বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

তামান্না ফেরদৌস শিখা বলেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে হোটেলে নারী নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো কেলেঙ্কারির অভিযোগ নেই। একইভাবে নিয়োগ বাণিজ্য, পদ বাণিজ্য, স্কুলের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও নেই বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যে আরও কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন শিখা। তার দাবি, রাস্তার বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ কিংবা নীলা মার্কেটকে ঘিরে কোনো কেলেঙ্কারির সঙ্গেও তাঁর স্বামীর নাম জড়িত নয়।

সবকিছু বিবেচনায় ‘আম তারেক’ সম্বোধনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেন বলে জানান তিনি। বক্তব্যের শেষাংশে তামান্না ফেরদৌস শিখা বলেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে ‘চুমু শফিকের’ মতো কোনো বিশেষণ যুক্ত নেই-এটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কলেজের জানালা-গ্রিল ও ফ্যান চুরির অভিযোগে শাখা ছাত্রদল সভাপতি আটক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
কলেজের জানালা-গ্রিল ও ফ্যান চুরির অভিযোগে শাখা ছাত্রদল সভাপতি আটক
শেয়ার করুন

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ড. ইমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের পরিত্যক্ত ভবন থেকে জানালা, বারান্দার গ্রিল, ফ্যান ও নির্মাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ তালুকদারকে আটক করেছে পুলিশ।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে কলেজের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অধ্যক্ষ বাড়িতে চলে যান। পরে পৌনে ৩টার দিকে এক শিক্ষক ফোন করে তাঁকে জানান, সাহেদ তালুকদার ও তাঁর সহযোগীরা কলেজের পরিত্যক্ত ভবন থেকে জানালা, বারান্দার গ্রিল ও তিনটি ফ্যান খুলে নিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে অধ্যক্ষ কলেজে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় কলেজের কর্মচারী রিথুন তালুকদার ও নির্মাণশ্রমিকেরা বাধা দিলে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আনা ২০০ কেজি রড চুরির অভিযোগ রয়েছে। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ এভাবে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কলেজের সভাপতি ও কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী বলেন, কলেজের মালামাল চুরির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাহেদ তালুকদারকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।

আমি আসলে জানতাম না, কোন হাতে ছুরি আর কোন হাতে কাটা চামচ নিতে হবে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
আমি আসলে জানতাম না, কোন হাতে ছুরি আর কোন হাতে কাটা চামচ নিতে হবে
শেয়ার করুন

আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান বলেছেন, জাপান সফরে খাবার খাওয়ার নিয়ম এবং ছুরি-কাঁটা চামচ ব্যবহারের বিষয়ে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার নিয়ম, ছুরি-কাঁটা চামচ ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার আগে তেমন ধারণা ছিল না।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

 

মো. তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। আমাকে তার সফরসঙ্গী করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। সফর শেষে আজ আমরা দেশে ফিরেছি। ফেরার পথে বিমানে কিছুটা ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। গণমাধ্যমে আপনারা বিষয়টি দেখেছেন। তবে সেটি নিবিড়ভাবে ও সুন্দরভাবে সমাধান করে আমরা দেশে ফিরেছি। জাপানে বেশ শীত ছিল। আর দেশে ফিরে মনে হচ্ছে এখানে বেশ গরম।

তিনি বলেছেন, সফরে বিভিন্ন বিষয়ে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার নিয়ম, ছুরি-কাঁটা চামচ ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার আগে তেমন ধারণা ছিল না। কোন হাতে ছুরি এবং কোন হাতে কাঁটা চামচ নিতে হয়, সেটি জানা ছিল না। আমার সাধারণ বুদ্ধি থেকে মনে হয়েছিল, যেহেতু কাঁটা চামচ দিয়ে খাব, তাই ডান হাতেই সেটি নেওয়া উচিত। সেই চিন্তা থেকেই ডান হাতে কাঁটা চামচ নিয়েছিলাম।

 

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি ও পোস্ট দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে যারা লেখালেখি করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সফরের আরও অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেগুলো পরবর্তী সময়ে সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবো।

 

এর আগে গত সোমবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। একই সফরে যান আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

 

চার দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা। প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।