খুঁজুন
, ,

হাড় না ভাঙা পর্যন্ত স্ত্রীকে মারধর বৈধ, আফগানিস্তানে নতুন আইন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
হাড় না ভাঙা পর্যন্ত স্ত্রীকে মারধর বৈধ, আফগানিস্তানে নতুন আইন
শেয়ার করুন

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার স্ত্রী ও সন্তানদের মারধরের ক্ষেত্রে হাড় না ভেঙে যাওয়া পর্যন্ত সীমা বেঁধে পারিবারিক সহিংসতাকে বৈধতা দিয়ে নতুন একটি আইনের অনুমোদন দিয়েছে। তবে মারধরে যদি স্ত্রী ও সন্তানের হাড় ভেঙে যায় কিংবা শারীরিকভাবে জখম হয়, তাহলে স্বামীকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

 

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে পশ্চাৎপদ কিছু চর্চাকে দেশের আইনে অন্তর্ভুক্ত করে আফগানিস্তানে নতুন একটি দণ্ডবিধি প্রকাশ করেছে তালেবান। এই দণ্ডবিধির ফলে বিশেষ করে নারীরা আদালতের হাতে ভয়াবহ ভোগান্তির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠীটির সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার স্বাক্ষরিত ৯০ পৃষ্ঠার এই ফৌজদারি আইনে ইসলামী ধর্মগ্রন্থভিত্তিক বিধান রাখা হয়েছে। এতে অপরাধী ‘স্বাধীন’ নাকি ‘দাস’; তার ওপর ভিত্তি করে ভিন্নমাত্রার শাস্তির বিধান রয়েছে।

 

 

এই আইন কার্যত আফগান সমাজে উচ্চ ও নিম্ন শ্রেণির একটি নতুন বর্ণব্যবস্থা তৈরি করছে। এতে শীর্ষে থাকা ধর্মীয় নেতাদের ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং শ্রমজীবী শ্রেণির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি।

 

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট বলেছে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই দণ্ডবিধিতে নারীদের কার্যত ‘দাসের’ সমমর্যাদায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘দাস-মালিক’ অথবা স্বামীরা তাদের স্ত্রী কিংবা অধীনস্তদের মারধরসহ নিজের ইচ্চে অনুযায়ী শাস্তি দিতে পারবেন।

 

 

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট আফগানিস্তানের বিভিন্ন আদালতে বিতরণ করা এই ফৌজদারি বিধির একটি কপি হাতে পেয়েছে। ওই দণ্ডবিধির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘দে মহাকুমু জাজাই ওসুলনামা।’

 

তালেবানের প্রতিশোধের আশঙ্কায় দেশটির অনেক নাগরিক এই দণ্ডবিধির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। এমনকি নাম প্রকাশ না করার শর্তেও তারা কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। ওই আইন নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থানরত মানবাধিকারকর্মীদের ক্ষোভ ও অনলাইনে অসন্তোষের ছড়িয়ে পড়ার পর তালেবান সরকার বর্তমানে পৃথক একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

 

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, আফগানিস্তানে নতুন এই দণ্ডবিধি নিয়ে আলোচনা করাকেও এখন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। দণ্ডবিধিতে বলা হয়েছে, গুরুতর অপরাধে শারীরিক শাস্তি সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ নয়, বরং ইসলামী আলেমদের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

 

আফগানিস্তানের নতুন এই আইনে লঘু অপরাধ ‘তাজির’ (ইচ্ছাধীন শাস্তি) পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ‘অপরাধী’ যদি স্ত্রী হন, সেক্ষেত্রে স্বামীর হাতে প্রহারই হবে তার একমাত্র শাস্তি।

 

ওই দণ্ডবিধিতে নির্যাতিত নারীদের জন্য ন্যায়বিচারের একটি পথের কথা বলা হলেও শর্ত রাখা হয়েছে কঠোর। এ জন্য গুরুতর শারীরিক আঘাত পাওয়ার প্রমাণ দেখাতে হবে নারীদের। এমনকি বিচারকের সামনে নারীদের শরীরের ক্ষত দেখাতে হবে। একই সঙ্গে নারীদের সম্পূর্ণ আবৃত অবস্থায় থাকতে হবে। আদালতে স্বামী বা পুরুষ অভিভাবক (মাহরাম) সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। যদিও এ ধরনের মামলায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধী হন স্বামীরাই।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাবুলে কর্মরত এক আইন উপদেষ্টা দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, ‌‌তালেবান আইনে নারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য ‘অত্যন্ত দীর্ঘ ও কঠিন’ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।

 

সাম্প্রতিক একটি ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, কারাগারে থাকা স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এক তালেবান প্রহরীর হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন এক নারী। পরে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। সেই সময় কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া তার অভিযোগ শোনা হবে না। যদিও তার স্বামী সেই সময় কারাগারে বন্দী।

 

আইন উপদেষ্টা বলেন, কর্তৃপক্ষকে ওই নারী বলেন, তার সঙ্গে যদি মাহরাম থাকত, তাহলে তালেবান প্রহরী প্রথমেই তাকে আক্রমণ করত না। ‘‘তিনি প্রকাশ্যে কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করেছিলেন, এই প্রক্রিয়ার চেয়ে মৃত্যু ভালো,’’ বলেন ওই উপদেষ্টা। দেশে নারীদের ওপর সংঘটিত কোনও নির্যাতনের ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়া কার্যত অসম্ভব।

 

পশ্চিমা সামরিক জোট নাটো-সমর্থিত আফগানিস্তানের আগের সরকারের সময়ে দেশটিতে যে অগ্রগতি হয়েছিল; এসব ঘটনার তার তুলনায় পরিষ্কার অবনমন। সেই সরকার জোরপূর্বক বিয়ে, ধর্ষণ এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন চালু করেছিল। নারীদের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার জন্য তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

 

নতুন দণ্ডবিধির আওতায়, কোনও আফগান নারী সব আইনি ও সামাজিক বাধা অতিক্রম করে যদি প্রমাণও করতে পারেন, তিনি স্বামীর হাতে গুরুতর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; তারপরও স্বামীর সর্বোচ্চ সাজা হবে ১৫ দিনের কারাদণ্ড।

 

 

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেছেন, নতুন এই দণ্ডবিধিতে তালেবান নারীদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক বা যৌন সহিংসতার বিষয়টির নিন্দা কিংবা নিষিদ্ধ করেনি।

 

আফগানিস্তানে কট্টর ইসলামপন্থী শাসনব্যবস্থা পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংস্থা রাওয়াদারি বলেছে, দণ্ডবিধির আরেকটি ধারা নারীদের পিতামাতার বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে।

 

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ৩৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনও নারী যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া বারবার বাবার বাড়ি বা অন্য আত্মীয়র বাড়িতে যান এবং স্বামীর অনুরোধ সত্ত্বেও বাড়ি ফিরে না আসেন, তাহলে ওই নারী ও তার পরিবারের বা আত্মীয়দের যে কেউ, যারা তাকে স্বামীর বাড়ি যেতে বাধা দিয়েছেন, তারা অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং তাদের তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

 

রাওয়াদারি বলেছে, এই বিধানটি বিশেষ করে সেই নারীদের জন্য ভয়াবহ, যারা স্বামীর সহিংসতা ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে পিতামাতার বা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এতে তারা অব্যাহত পারিবারিক সহিংসতার মুখে পড়েন এবং পারিবারিক ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন; যা আনুষ্ঠানিক ও আইনি প্রতিকার না থাকায় পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য শেষ অবলম্বন।

 

রাওয়াদারির নির্বাহী পরিচালক শাহরজাদ আকবর বলেন, এই দণ্ডবিধি নারীদের, কন্যাশিশুদের ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সীমিত করার দায়িত্ব ধর্মীয় আলেমদের হাতে তুলে দিয়েছে। অথচ একই সঙ্গে ধর্মীয় নেতাদের আইনি জবাবদিহি থেকে ব্যাপকভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

 

নতুন এই আইনব্যবস্থা কার্যত এমন এক বর্ণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছে, যেখানে অপরাধের প্রকৃতির ওপর নয়, বরং অপরাধীর সামাজিক অবস্থানের ওপর শাস্তি নির্ধারিত হবে। এই শ্রেণিবিন্যাসের শীর্ষে রয়েছেন ধর্মীয় আলেমরা, এরপর অভিজাত শ্রেণি, তারপর ‘মধ্যবিত্ত’, আর একেবারে নিচে ‘নিম্নবিত্ত’।

 

কোনও ধর্মীয় আলেম অপরাধ করলে তাকে কেবল তার আচরণ নিয়ে ‘পরামর্শ’ দেওয়া হবে। সামাজিক অভিজাত শ্রেণির কোনও সদস্য সর্বোচ্চ ‘পরামর্শ’ এবং প্রয়োজনে আদালতে তলবের মুখোমুখি হবেন। ‘মধ্যবিত্ত’দের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি কারাদণ্ড, আর ‘নিম্নবিত্ত’দের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের সঙ্গে শারীরিক শাস্তিও যুক্ত থাকবে।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।