খুঁজুন
, ,

২ দিনের কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রোগ্রামে অংশ নেবেন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
২ দিনের কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রোগ্রামে অংশ নেবেন
শেয়ার করুন

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ জুন রোববার ২ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন। সফরকালে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৮টি কর্মসূচীতে যোগদান করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রেস সচিব ছাফওয়ানুল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন। সুত্র মতে, প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা প্রোগ্রাম গুলো যেকোন সময় পরিবর্তন ও সংশোধন হতে পারে।

প্রাথমিক প্রোগ্রাম লিস্ট অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ জুন রোববার সকাল ১০ টায় বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছাবেন। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে তিনি সকাল ১১ টায় চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারী পার্কে যাবেন। সেখানে তিনি বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন ও সাফারী পার্ক পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পেকুয়ার মেহেরনামা মুরাপাড়ায় শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জেয়ারত করতে যাবেন। এরপর নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার প্রশাসনিক যাত্রার ফলক উম্মোচন করবেন। পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর বাসভবন “সাঈদ ম্যানশন” এ অবস্থান ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি। একইদিন বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার প্রশাসনিক যাত্রার ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করবেন এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিতব্য জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার পৌঁছে সন্ধ্যা ৭টায় সার্কিট হাউসে কক্সবাজারের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে মতবিনিময় করবেন। তিনি সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন।

পরদিন ১৫ জুন সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে স্থানীয় সুধীজনদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। মতবিনিময়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২দিনের সফর শেষে বিমানযোগে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন বলে ছাফওয়ানুল করিম জানিয়েছেন। এসব প্রোগ্রাম সম্পূর্ণ প্রাথমিকভাবে নির্ধারন করা হয়েছে। যেকোন সময় প্রোগ্রাম গুলো সংশোধন ও বাতিল হতে পারে। তবে এ প্রোগ্রাম সমুহ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করে চুড়ান্ত লিস্ট করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রেস সচিব ছাফওয়ানুল করিম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারে আগমনের সার্বিক প্রস্তুতি মনিটরিং করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আগামী ১২ জুন শুক্রবার কক্সবাজার আসছেন।

কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল খনন কর্মসূচী প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক প্রোগ্রাম লিস্টে এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। শুক্রবার ৫ জুন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পরিদর্শন করেন। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ঢাকায় যাওয়ার পর পাতলী খাল খনন কর্মসূচী প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম লিস্টে রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী শুক্রবার ৫ জুন সারাদিন চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম গুলোর জন্য নির্ধারিত স্থান সমুহ পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম গুলোর সার্বিক প্রস্তুতির ব্যাপারে খোঁজ খবর নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী শুক্রবার সকালে ডুলাহাজারা সাফারী পার্কে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বৃক্ষরোপণের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন ও এ বিষয়ে প্রস্তুতি দেখেন। পরে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন।
এরপর সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী পেকুয়ায় নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার প্রশাসনিক উপজেলা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের নির্ধারিত স্থান, মুরা পাড়ায় শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের সমাধিস্থল পরিদর্শন করে “সাঈদ ভবন” এ যান। পরে তিনি চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালস্থ জনসভার জন্য নির্ধারিত মাঠ পরিদর্শন করেন। এসময় জনসভা সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এসময় সিনিয়র সচিবের সাথে জেলা প্রশাসক মো.আ. মান্নান, পুলিশ সুপার আ.ন.ম সাজিদুর রহমান, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, চকরিয়ার ইউএনও শাহিন দেলোয়ার, পেকুয়ার ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান, চকরিয়ার
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব, পেকুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি), চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, মাতামুহুরী বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ছাফওয়ানুল করিম, পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহদুর শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী (খোকন মিয়া), চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. আব্দুর রহিম, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, চকরিয়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আমিন কমিশনার সহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অগ্রবর্তী টিম কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী আগমনের সার্বিক বিষয় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে দফায় দফায় মিটিং করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’