খুঁজুন
, ,

৮ কোটি টাকা বিতরণে পরামর্শ ব্যয় ২৯ কোটি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
৮ কোটি টাকা বিতরণে পরামর্শ ব্যয় ২৯ কোটি
শেয়ার করুন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘরবাড়ি হারানো অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পের আওতায় ৩০০ জন অসহায় মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য অনুদান দেওয়া হবে প্রায় ৮ কোটি টাকা। তবে এই অনুদানের টাকা বিতরণে জন্য পরামর্শক ও প্রশাসনিক বিলাসিতার পেছনে খরচ ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে বাস্তুহারা ও দরিদ্র মানুষের সহায়তার নামে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থই সুকৌশলে আমলা ও পরামর্শকদের পকেটে ভরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

প্রকল্প প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নগর একীভূতকরণ সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান (ইন্টিগ্রেট)’ শীর্ষক প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জিআইজেড) অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ১ বছর ৯ মাস। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর আজ রোববার পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে।

 

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের মতো শহরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বাস্তু হওয়া মানুষদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। এর মাধ্যমে ৩০০ জন ব্যক্তিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তা এবং দেড় হাজার জনের জীবিকা উন্নত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটের চিত্র বলছে, এই লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনিক খরচ মেটাতেই বরাদ্দের সিংহভাগ ব্যয় হয়ে যাবে।

 

গরিবের ভাগে মাত্র ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ, বাকিটা অন্যদের পকেটে: প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, মোট ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বাজেটের এই প্রকল্পে মূল লক্ষ্য অর্জনে ব্যয়ের চেয়ে পরোক্ষ খরচই কয়েকগুণ বেশি। প্রকল্পের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, দরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের নামে বরাদ্দ করা এই বিপুল অর্থের মধ্যে প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে অনুদান হিসেবে পৌঁছাবে মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। আর এই অনুদানের অর্থ বিতরণের বিপরীতে কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা খরচ, অফিস ভাড়া এবং বিলাসিতায় খরচ হবে বাকি ৫৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৪ হাজার।

 

সহায়তার চেয়ে আমলা-পরামর্শক তোষণই মুখ্য: প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, তিন জেলার মাত্র ৩০০ জন দরিদ্র মানুষের (২৭০ জন নারী ও ৩০ জন প্রতিবন্ধী) জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; কিন্তু এই ৩০০ মানুষের জন্য অনুদান বিতরণে ‘পরামর্শ’ দেওয়ার জন্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে ৪৭৩ জন দেশি-বিদেশি পরামর্শক। তাদের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৬২ কোটি টাকা ৬৩ হাজার টাকা।

 

অর্থাৎ বাস্তুহারাদের জন্য যেখানে সরাসরি অনুদান দেওয়া হবে মাত্র ৮ কোটি টাকা, সেখানে দেশি-বিদেশি পরামর্শকদের পেছনেই ব্যয় হবে ২৯ কোটি ৬২ কোটি টাকা ৬৩ হাজার টাকা; যা মূল ব্যয়র ৪৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

 

নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে বিদেশ ভ্রমণের আবদার: সরকারের পক্ষ থেকে কৃচ্ছ্রসাধনের কঠোর নির্দেশনা এবং বৈদেশিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই প্রকল্পে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের ‘সাধ’ মেটাতে কোনো কার্পণ্য করা হয়নি। কর্মকর্তাদের বৈদেশিক ভ্রমণ এবং প্রশিক্ষণের নামে ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের জন্য আরও রাখা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

 

জিআইজেডের অর্থায়নে দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নেওয়া এই প্রকল্পে ব্যবস্থাপনা চার্জ হিসেবে রাখা হয়েছে ১০ কোটি ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া অফিস ভবন ভাড়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এমনকি আইটি সামগ্রী ও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রেও উচ্চমূল্য ধরা হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে। বাকি টাকা খরচ হবে প্রশিক্ষণ কর্মশালা, প্রশাসনিক ও ইউটিলিটি বিল, বিভিন্ন দাপ্তরিক সরঞ্জাম ক্রয়, পরিবহন ও জ্বালানি এবং অন্যান্য সেবা ও সরবরাহ খাতে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প প্রস্তাবনায়ও রয়েছে অস্পষ্টতা। বাছাই প্রক্রিয়া ও বিধি লঙ্ঘন প্রকল্পটিতে যাদের সহায়তা দেওয়া হবে, সেই বাস্তুচ্যুত ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোন পদ্ধতিতে বাছাই করা হবে, তার কোনো স্বচ্ছ রূপরেখা দেওয়া হয়নি। এছাড়া প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনায় ‘পিপিএ-২০০৬’ ও ‘পিপিআর-২০০৮’ এর নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করারও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রকল্পের মেয়াদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হওয়ায় এর বাস্তবায়ন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ব্যয় কাঠামো নিয়ে পিইসি সভায় নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে যাচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি। প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক, বিদেশ ভ্রমণ ও অফিস ভাড়াসহ নানা খাতের বিশাল অঙ্কের খরচের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। এ ছাড়া সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) যথাযথভাবে অনুসরণ না করারও ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হবে।

 

কমিশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো এই সুবিধাভোগীদের ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়ন করা। অথচ অন্যান্য খাতে বাজেটের সিংহভাগ খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে। পিইসি সভায় এই প্রকল্পের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন ইতোমধ্যে এই উচ্চ পরামর্শক ব্যয় এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক খরচ যাচাই-বাছাই করেছে। যেসব খাতে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে সেগুলো কমাতে বলা হবে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের দোহাই দিয়ে নেওয়া এই প্রকল্প যদি বাজেটের সিংহভাগই পরামর্শক আর আমলাতান্ত্রিক খরচে ব্যয় হয়, তবে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। প্রকল্পের এই ব্যয় কাঠামো সংশোধন না করলে এটি কেবল সরকারি অর্থের অপচয় হিসেবেই গণ্য হবে।

 

তবে, প্রকল্প প্রস্তাবনায় ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা ও অনিয়মের বিষয়ে দায় নিতে নারাজ সমাজসেবা অধিদপ্তর । তাদের দাবি, প্রকল্পের মূল্য উদ্দেশ্য দরিদ্রদের অনুদানের পরিমাণ কম হওয়া বা পরামর্শক ও কর্মকর্তাদের পেছনে বিপুল ব্যয় হওয়া সত্ত্বেও তারা দাতা সংস্থার শর্তের দোহাই দিয়ে এই প্রকল্প প্রস্তাবনাটি অনুমোদন করার পক্ষে কাজ করছে।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা) মো. সাজ্জাদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, এই প্রকল্পের মূল চুক্তিটি হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে। এটি মূলত একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, যা দাতা সংস্থার পছন্দ বা শর্ত অনুযায়ী তৈরি করতে হয়েছে।

 

অনুদানের তুলনায় পরামর্শক ও প্রশাসনিক খাতে বিপুল ব্যয়ের বিষয়ে তিনি জানান, যেহেতু এটি অনুদানের টাকা, তাই অনেক ক্ষেত্রে দাতা সংস্থার দেওয়া শর্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। এই প্রকল্পের প্রস্তাবনা তারা নিজেরা তৈরি করেননি, বরং দাতা সংস্থা (জিআইজেড) এটি তৈরি করে তাদের কাছে পাঠিয়েছে।

 

সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাবের বিষয়ে সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, এটি কেবল প্রস্তাবনায় দেওয়া হয়েছে। যদি সরকার অনুমতি দেয় তবেই ভ্রমণ হবে, অন্যথায় এই খাতের টাকা খরচ না হয়ে পড়ে থাকবে। এ ছাড়া অফিস ভাড়ার বিষয়টি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের প্রয়োজনে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।