খুঁজুন
, ,

আইনের রক্ষকরাই নিরাপত্তাহীন, একের পর এক হামলায় উদ্বেগ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
আইনের রক্ষকরাই নিরাপত্তাহীন, একের পর এক হামলায় উদ্বেগ
শেয়ার করুন

২২ জুলাই। রাত আনুমানিক ৯টা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের সি ব্লকের ৪ নম্বর রোড এলাকায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানসহ বাসায় ফিরছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি। এ সময় পেছন থেকে অজ্ঞাত এক দুর্বৃত্ত তার পিঠে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

 

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন এসআই ওসমান। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার পিঠে সেলাই লাগে ৪৫টি।

 

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত পুলিশের ওই কর্মকর্তা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত।

 

ভুক্তভোগী ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, ২২ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অজ্ঞাতনামা তিনজন ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাসপোর্টের বিষয়ে কথা বলেন।

 

হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত শনিবার (২৫ জুলাই) ঘটে আরেক ঘটনা। সেদিন রাত ৮টায় চট্টগ্রাম নগরের আমবাগান এলাকায় মাদক মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিলেন ডবলমুরিং থানার এসআই মবিনুল ইসলাম। এসময় দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এসআই মবিনুল।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে ৩১৭ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জানুয়ারি মাসে এসব হামলায় আহত হয়েছেন ৪২ জন পুলিশ সদস্য। ফেব্রুয়ারি মাসে ৪২ জন, মার্চ মাসে ৬৩ জন, এপ্রিল মাসে ৬৬ জন, মে মাসে ৫৫ জন এবং জুন মাসে ৪৯ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩১৭ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, ছবি: জাগো নিউজ গ্রাফিক্স

 

সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ ২০২৫ সালে ৬০১ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালে ৬৪৩ জন, ২০২৩ সালে ৬০৭ জন, ২০২২ সালে ৬০১ জন, ২০২১ সালে ৬০৮ জন, ২০২০ সালে ৪৪৯ জন ও ২০১৯ সালে ৫৫৫ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

 

অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৮১ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর।

 

গত ১৬ জুন রাজধানীর আদাবরে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীদের ধরতে ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। তখন ছিনতাইকারীদের অস্ত্রের আঘাতে জখম হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। আত্মরক্ষার্থে গুলি করলে গুলিবদ্ধ হয় দুই ছিনতাইকারী।

 

এ ঘটনায় জড়িত আসামি গ্রেফতার করে ওইদিন রাতেই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কেউ অস্ত্র দিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে অবশ্যই আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগ করতে হবে। আজ যে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে চেষ্টা করেছিলাম আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করে তাদের গ্রেফতার করতে। কিন্তু যখন তারা অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে, সে সময় আমাদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া উপায় ছিল না।’

 

 

পুলিশের ওপর একের পর এক হামলা ঘটনা ঘটলেও কতগুলোতে বিচার হয়েছে সেই তথ্য পুলিশের কাছে নেই।

 

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান জাগো নিউকে বলেন, ‘পুলিশের ওপর অনেক হামলা হচ্ছে। যে কোনো কারণে হোক সবাই এক হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশের ওপর হামলার ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি সবারই আগ্রহ। এতে পুলিশের মনোবল ভেঙে গেছে। তাদের মনোভাব এমন হয়েছে যে, যা হচ্ছে হোক।’

 

কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে উল্লেখ করে সাইদুর রহমান বলেন, ‘কারণ তাদের অনীহা। তারা মনে করে আমরা যদি থামাতে যাই তখন সব দল এক হয়ে আমাদের ওপর হামলা করবে এবং তার কোনো বিচারও হবে না। পুলিশ হত্যার বিচার হয়নি। এখনো পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে তার মামলা হয় না। মামলা হলেও তার কোনো খোঁজ থাকে না। গুরুত্ব দেয় না সরকার-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশ কমিশন গঠন হয়েছিল। পুলিশের কিছু দাবি-দাওয়া ছিল। কোনো কিছুই পূরণ হয়নি। যার কারণে মূলত পুলিশের মনোবলও নাই।’

 

পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। একসময় পুলিশের প্রতি আস্থাহীনতা ও বাহিনীর দুর্বল অবস্থার কারণে এমন ঘটনা বেশি ঘটলেও বর্তমানে পুলিশ সক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও সেগুলোতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অপরাধীদের সাহস বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকি এড়িয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও জনবল নিয়ে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবু বাস্তব পরিস্থিতিতে অভিযানের সময় মাঝেমধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করছে।’

 

এদিকে জনগণের আস্থা অর্জন করে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ না করলে পুলিশের ওপর হামলার প্রবণতা আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগকারীদের ওপর আক্রমণ মানে আইনকেই অমান্য, অবমাননা ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

 

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা কমে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পুলিশের বিষয়ে মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। মানুষ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তবে তা এখনো ব্যাপক পরিসরে দৃশ্যমান নয়।

 

 

পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করে, তাহলেই কেবল জনগণের আস্থা ফিরে আসবে। অন্যথায়, পুলিশের ওপর হামলার প্রবণতা ও এর ধরন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশের হামলার শিকারের একটা বড় কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যতটুকু বলপ্রয়োগ করা দরকার, ওই স্ট্যান্ডার্ডটা ফলো করছেন পুলিশ সদস্যরা। জনসাধারণকে আইন মানার প্রবণতা বাড়াতে হবে। বা আইন মানাটা যে নিজের জন্যই জরুরি, কারণ কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে পুলিশের ওপর আঘাত করে, দিনশেষে তিনি নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

 

শাহাদাত হোসাইন বলেন, পুলিশের ওপর হামলার প্রতিটা ক্ষেত্রেই মামলা হয়েছে। এর আগে পুলিশের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

 

পুলিশের মনোবলের বিষয়ে জানতে চাইলে এআইজি শাহাদাত হোসাইন বলেন, পুলিশের মনোবল চাঙা করার বিষয়টা দুই বছর ধরে বলা হচ্ছে। এখন পরিস্থিতি অনেক ভালোর দিকে। এই মুহূর্তে পুলিশ বেশ চাঙা। তবে মানুষ আইন মানার প্রবণতা বাড়ালে পুলিশের মনোবল আরেকটু চাঙা হবে।

 

 

ইউসিবি ব্যাংকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও, থানায় জিডি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ইউসিবি ব্যাংকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও, থানায় জিডি
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাসস্টেশন এলাকার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) শাখায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের ব্যাংক হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের অজান্তে হিসাব থেকে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে ঈদগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

 

জানা গেছে, গতকাল সকালে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলতে চেক দিয়ে এক কর্মচারীকে ব্যাংকে পাঠান ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। সেখানে গিয়ে ওই কর্মচারী জানতে পারেন, হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। পরে বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানানো হলে তিনি নিজেই ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নেন। এ সময় তাঁর হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা স্থানান্তর হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এ ঘটনায় ঈদগাঁও থানায় জিডি করেছেন ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। জিডি নম্বর ৯৭৪ এবং ট্র্যাকিং নম্বর DEL665।

 

তবে কীভাবে, কখন এবং কার মাধ্যমে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে অর্থ স্থানান্তরের প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে।

 

এ বিষয়ে ইউসিবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসায় নিজের কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পর ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন শাহজালাল রুমি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগে তিনি বাসা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভবনটির কেয়ারটেকার। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানা যায়নি।

ভবনটির কেয়ারটেকার জানান, টঙ্গীর মাদ্রাসায় ওই ঘটনার পর থেকেই রুমি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায়ও ছিলেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন রুমি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখা যায়। কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ভয়ের কারণে রুমির পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না।

 

হাবিবুর রহমান আরও জানান, যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন।

রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী।

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

 

পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

 

তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

 

মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়

 

ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।