খুঁজুন
, ,

৫ শতাধিক বাংলাদেশি অনিশ্চয়তায়

এক আঙুলের ছাপ দিয়ে আজ তারা ‘রোহিঙ্গা’

জসিম উদ্দিন
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
এক আঙুলের ছাপ দিয়ে আজ তারা ‘রোহিঙ্গা’
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপকূলের জলবায়ু-পীড়িত, দরিদ্র মানুষগুলোর দিন কাটে নিত্য অভাবের সঙ্গে লড়াই করে। চরম সেই অসহায়ত্ব আজ তাদের দাঁড় করিয়েছে এক মারাত্মক আইনি বিপর্যয়ের মুখে। সামান্য একটু ত্রাণের আশায় একটি আঙুলের ছাপ দিয়ে আজ নিজ দেশেই ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয় নিয়ে আইনি সংকটে আটকে পড়েছেন ৫ শতাধিক স্থানীয় বাংলাদেশি। ২০১৭ সালের দিকে মিয়ানমার থেকে আসা লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢলে যখন উখিয়া-টেকনাফ ভেসে যাচ্ছিল, তখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেওয়া ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন চরম অভাব অনটনে থাকা স্থানীয় ভুখা মানুষও। পাহাড়ি জঙ্গল, নদীভাঙন আর চরম দারিদ্র্যে দিশেহারা সেসব পরিবারের কাছে চাল-ডাল-তেলের এক প্যাকেট ত্রাণ ছিল জীবন বাঁচানোর একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু বেঁচে থাকার এই ন্যূনতম আকুতির মুহূর্তেই নিঃশব্দে তৈরি হয় চিরদিনের আইনি ফাঁদ। কীভাবে কিংবা কীসের খাতায় তাদের নাম উঠছে, তা বোঝার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সচেতনতা ছিল না এসব মানুষের। শুধু পেটের খিদে মেটাতে লাইনে দাঁড়িয়ে দেওয়া একটি আঙুলের ছাপই আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে তাদের স্থায়ীভাবে ‘রোহিঙ্গা’ বানিয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে আজ নিজেদের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিতে গিয়ে থমকে যাচ্ছেন তারা।

 

 

লজ্জার আড়ালে চাপা পড়া হাজারো আকুতি : বাংলাদেশি হয়ে রোহিঙ্গা পরিচয় বহন করা এমন বহু পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়, যারা নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। সমাজ আর প্রতিবেশীদের কাছে ‘রোহিঙ্গা’ হিসাবে চিহ্নিত হওয়ার তীব্র লজ্জায় তারা আড়ালেই থেকে যেতে চান। উখিয়ার এক দুর্গম গ্রামের ৬৫ বছরের এক দিনমজুর, তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অশ্রুসজল চোখে জানান সেই দিনগুলোর কথা। ‘‘ঘরে তখন চাল ছিল না, ছোট বাচ্চা দুটো খিদের জ্বালায় কাঁদছিল। ক্যাম্পের পাশে ত্রাণের বড় বড় গাড়ি দেখে আমরা পাড়ার কয়েকজন মানুষ কৌতূহল আর পেটের তাগিদে লাইনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। তারা ছবি তুলল, মেশিনে আঙুলের ছাপ নিল আর আমাদের হাতে একটা রেশনের কার্ড দিল। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো গরিবদের সাহায্য করা হচ্ছে। এক-দুই বেলা দুমুঠো ভাতের আশায় দেওয়া ওই ছবি আর আঙুলের ছাপ যে আমাদের আজীবনের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ বানিয়ে দেবে, তা জানলে বিষ খেয়ে মরে যেতাম, তবু ওই লাইনে দাঁড়াতাম না।’’

 

ছেনুয়ারা বেগমের গল্প : টেকনাফের নয়াপাড়া শিলখালী গ্রামের ৪৬ বছর বয়সি ছেনুয়ারা বেগম জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। তার কাছে নিজের আসল এনআইডি কার্ড রয়েছে। ২০১৭ সালের সেই উত্তাল সময়ে তিনি রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্ডের জন্য বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করেন, যেখানে তার নাম দাঁড়ায় ‘রহিমা’। আজ সেই এক প্যাকেট চালের বিনিময়ে দেওয়া আঙুলের ছাপ তার জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। এক দেহে দুই পরিচয় নিয়ে ছেনুয়ারা বেগম এখন নিজ জন্মভূমিতেই যেন এক ‘ছায়ামানব’।

 

খেলার ছলে দেওয়া আঙুলের ছাপে নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে : উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী তার এলাকার ১১ বছরের শিশু গুরার (গুরায়া) করুণ উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গুরায়ার বাবা বিশার আহমদ আর মা লায়লা বেগম-দুজনেই জন্মসূত্রে নিখাদ বাংলাদেশি। গুরায়া যখন আরও ছোট, ক্ষুধা আর অবুঝ বয়সের কারণে পাড়ার অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে ত্রাণ নেওয়ার লাইনে গিয়ে দাঁড়ায়। খেলার ছলেই বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়ে ফেলেছিল। আজ এত বছর পর ছেলেটা যখন পাসপোর্টের আবেদন করতে গেল, ডাটাবেজ তাকে দেখাচ্ছে ‘নিবন্ধিত রোহিঙ্গা’। এভাবে একটা পুরো শিশুর ভবিষ্যৎ থমকে গেল। চেয়ারম্যান আফসোস করে বলেন, কেবল তার এলাকা থেকেই ৭০ জনের বেশি মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।

 

যা বলছে প্রশাসন : বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, উখিয়া-টেকনাফের চরম দারিদ্র্যপীড়িত ৩০০ জন বা তারও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কেবল ত্রাণের আশায় ও সঠিক তথ্যের অভাবে রোহিঙ্গা ডাটাবেজে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তারা কোনো চক্রান্তের অংশ ছিলেন না, বরং তাদের নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখন তারা জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট নিতে গিয়ে চরম আইনি সংকটে পড়ছেন। যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক ডাটাবেজের বিষয়, তাই এই তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। অনেকে রোহিঙ্গা নারী বিয়ে করে ইতোমধ্যে নোয়াখালীর ভাসানচরে গিয়ে বসবাস করছেন বলে জানান তিনি।

 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, রোহিঙ্গা কার্ড বাতিল করে নিজেদের বাংলাদেশি প্রমাণের জন্য আমি ইতোমধ্যে বেশ কিছু আবেদন পেয়েছি। এ সমস্যার একটি সহজ ও কার্যকর পথ বের করতে আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং খুব শিগগিরই আরআরআরসির সঙ্গে বৈঠকে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।