খুঁজুন
, ,

তদন্তে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত, রেহাই মিলল ডিও লেটারে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
তদন্তে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত, রেহাই মিলল ডিও লেটারে
শেয়ার করুন

তদন্তে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত, রেহাই মিলল ডিও লেটারে

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সহকর্মী এক শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) স্থাপন, পরে তা অস্বীকার এবং অভিযোগকারী ও তার সন্তানকে হত্যার হুমকির অভিযোগের প্রমাণ মিললেও শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় শাস্তি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এক সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক। এই অব্যাহতির নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠেছে বগুড়া-জয়পুরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুরাইয়া জেরিন অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গেছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠান মন্ত্রণালয়ে। চিঠিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তিনি ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। পরে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তদন্ত প্রতিবেদনসহ ওই ডিও লেটার বিবেচনায় নিয়েই বিভাগীয় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকের নাম ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরী। বর্তমানে তিনি জয়পুরহাট সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাটি তিনি যখন বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে কর্মরত ছিলেন তখনকার বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভুক্তভোগী নারী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিছু ছবি প্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবার লিখিত অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা বিষয়ক শাখার উপসচিব শাহিনা পারভিন অভিযোগ তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তৎকালীন মহাপরিচালককে অনুরোধ করেন
অভিযোগের তদন্ত চলাকালীনই ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীকে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ হাজী আবদুল বাতেন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছিল। সেখান থেকে পরবর্তীতে জয়পুরহাট সরকারি কলেজে বদলি হয়ে আসেন তিনি।

গত ১৭ আগস্ট বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি পান ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরী। তাকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (শৃঙ্খলা) মো. আব্দুল জলিল মজুমদার।এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যক্তিগত শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন তৌহিদুল আলম চৌধুরী। ওই শুনানী তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তীতে বিষয়টি অধিক তদন্ত করতে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ওই তদন্ত কর্মকর্তা গত ৬ জুলাই এ ‍সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনেও ড. গাজী তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অংশিক প্রমাণিত বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর তাকে কোনো শাস্তি না দিয়েই বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।এর আগে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে নৈতিক চরিত্র স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।

ড. গাজীকে অব্যাহতি দেওয়া প্রজ্ঞাপনেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ মেলার কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ড. গাজী তহিদুল চৌধুরী সরকারি আজিজুল হক কলেজে কর্মকালীন জেসমিন আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা শহরে নিয়ে এসে কাজী ছাড়া শুধু হুজুর দিয়ে বিয়ে করেন; যা পরবর্তীতে তিনি অস্বীকার করেন। তিনি জেসমিন আক্তার ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকি প্রদান করেন; যা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে প্রমাণিত হয় এবং তিনি নৈতিক চরিত্র স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণ এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।পরবর্তীতে শোকজের জবাব দেন ড. গাজী এবং ব্যক্তিগত শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন। শুনানীতে প্রদত্ত বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৭(২)(ঘ) অনুযায়ী তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা বিস্তারিত তদন্ত শেষে গত ৬ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আংশিক প্রমাণিত হলেও বগুড়া জয়পুরহাটের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিনের আধা-সরকারি পত্রে উল্লেখ করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী, তদন্ত প্রতিবেদন, সংসদ সদস্যের আধা-সরকারি পত্র এবং বিভাগীয় মামলার প্রাসঙ্গিক রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় তাকে সতর্ক করে বিভাগীয় মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) মো: মাহবুবুল হক পাটোয়ারী বলেন, ‘এমপির ডিও লেটারে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট প্রসিডিউর রয়েছে। সেই প্রসিডিউর অনুযায়ী অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ড. গাজী তহিদুল চৌধুরীর ক্ষেত্রে কী হয়েছে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় ডিও লেটার পাঠানোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে বগুড়া-জয়পুরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে কল দেওয়া হলে ফুয়াদ নামে একজন ফোন রিসিভ করে জানান ‘এমপি মহোদয় চীফ হুইপের রুমে রয়েছে।’ ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর পক্ষে সুরাইয়া জেরিন ডিও লেটার পাঠিয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ফুয়াদ জানান, ‘বিষয়টি আমি জানি, ম্যাডাম ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন। ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর পক্ষে সুরাইয়া জেরিন ডিও লেটার পাঠিয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্যের বক্তিগত সহকারী ফুয়াদ জানান, ‘বিষয়টি আমি জানি, ম্যাডাম ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন।’

ড. গাজী তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ

ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি বগুড়া শহরে এক সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। ২০২২ সালে একটি অনুষ্ঠানে ড. গাজী মো. তৌহিদুল আলম চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর থেকে দু’জনের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তৌহিদুল আলম তাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রী করার প্রস্তাব দেন এবং বগুড়া শহরের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তৌহিদুল আলম বগুড়ায় এবং ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁকে ‘ধর্ষণ’ করেন। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে, তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং সম্পর্ক অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসায় নিজের কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পর ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন শাহজালাল রুমি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগে তিনি বাসা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভবনটির কেয়ারটেকার। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানা যায়নি।

ভবনটির কেয়ারটেকার জানান, টঙ্গীর মাদ্রাসায় ওই ঘটনার পর থেকেই রুমি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায়ও ছিলেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন রুমি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখা যায়। কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ভয়ের কারণে রুমির পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না।

 

হাবিবুর রহমান আরও জানান, যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন।

রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী।

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

 

পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

 

তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

 

মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়

 

ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।