খুঁজুন
, ,

লোহাগাড়ায় ইউএনওর বাংলোয় ডেকে সাংবাদিককে নির্যাতন, থানায় এজাহার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
লোহাগাড়ায় ইউএনওর বাংলোয় ডেকে সাংবাদিককে নির্যাতন, থানায় এজাহার
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের সরকারি বাংলোয় ডেকে নিয়ে সাংবাদিককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ মিজান বাদী হয়ে ইউএনওকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে লোহাগাড়া থানায় লিখিত এজাহার জমা দিয়েছেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, সাংবাদিক মিজানকে মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে এজাহার দিয়েছেন। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান তিনি।

 

এদিকে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএমইউজে) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আরেফিন গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক মিজানের সঙ্গে ইউএনওর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে স্থানীয় প্রশাসন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার প্রতিবাদ ও সংহতি প্রকাশ করতে লোহাগাড়া পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

 

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির বাংলাদেশ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত যে-ই হোক, তাঁকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। একজন সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাংবাদিক নির্যাতন করবেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

 

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ হয়নি। ৫ আগস্ট-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সাংবাদিকেরা স্বাধীন ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

 

এজাহারে যা বলা হয়েছে

 

মামলার লিখিত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ মিজান (২৬) জাতীয় সাপ্তাহিক ‘সময়ের প্রয়াস’-এর লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এজাহারে ইউএনও মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ (৪০), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন (৩২), মো. খোরশেদ আলম (৩৫) ও মাঈনউদ্দিন (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

এজাহারে সাংবাদিক মিজান অভিযোগ করেন, ইউএনওর বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্থানীয় কয়েকজনের অপকর্ম নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে ইউএনওর কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করে সরকারি বাংলোয় যেতে বলেন।

 

এজাহার অনুযায়ী, বাংলোয় পৌঁছানোর পর তাঁকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই তিনি ফিরে আসেন। পরে হেলাল উদ্দিন আবারও ফোন করে তাঁকে দ্রুত বাংলোয় যেতে বলেন। সেখানে গেলে ইউএনওর উপস্থিতিতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলোর ভেতরে আগে থেকেই উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি আহত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

 

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, একই দিন রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে অভিযোগ দায়েরের উদ্দেশ্যে লোহাগাড়া থানার সামনে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় ৩ ও ৪ নম্বর আসামির নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাঁকে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে উদ্ধার হন।

 

সাংবাদিক মিজান এজাহারে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগের সমর্থনে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও ঘটনার ভিডিওচিত্রের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

 

বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিক্রিয়া

 

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দ্রুত যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।

 

অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন বলে জানান।

 

সাংবাদিক নির্যাতনের এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতারা।

রেজাল্ট খারাপ হলে মন ভালো করতে ঘুরে আসুন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
রেজাল্ট খারাপ হলে মন ভালো করতে ঘুরে আসুন
শেয়ার করুন

যে কোনো পরীক্ষার রেজাল্ট বা ফলাফল কখনো মেধা, যোগ্যতা বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না এলে সবারই মন খারাপ হয়। সেই হতাশাকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া যাবে না। তাই নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার শক্তি সঞ্চয় করা জরুরি।

 

রেজাল্ট খারাপ হলে মানসিক চাপ দূর করতে এবং মন ভালো করতে চমৎকার কিছু জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন। মানসিক প্রশান্তি পেতে ঘুরে আসার মতো কিছু দারুণ জায়গা হলো:

শ্রীমঙ্গল

চারদিকের সবুজ চা বাগান, লেবু বাগান আর আনারস বাগানের শান্ত পরিবেশ আপনার মনকে নিমেষেই শান্ত করে দেবে।

 

বান্দরবান

পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের ওড়াউড়ি এবং শান্ত নীল আকাশ আপনার ভেতরের সমস্ত হতাশা ও ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করবে।

মহামায়া লেক

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত মহামায়া লেক বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হৃদ। এই কৃত্রিম লেক ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের রূপে ও মাধুর্যে মুগ্ধ করে। আপনার মনকে মুহূর্তেই চাঙা করে দেবে।

সুন্দরবন

প্রকৃতির একদম কাছাকাছি গিয়ে বনের নিস্তব্ধতা এবং নদীর শান্ত বাতাস মনের জমে থাকা কষ্টগুলো ধুয়ে মুছে দেবে।

 

সমুদ্রসৈকত

বিশাল সমুদ্রের সামনে দাঁড়ালে নিজের সমস্যাগুলোকে খুব ছোট মনে হয়। সমুদ্রের গর্জন এবং ঢেউয়ের স্পর্শ মানসিকভাবে নতুন শক্তি জোগায়। তাই তো কক্সবাজার বা কুয়াকাটা হতে পারে উত্তম গন্তব্য।

 

কাপ্তাই লেক

রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত শান্ত হ্রদের পানিতে নৌকা ভ্রমণ এবং পাহাড় ঘেরা পরিবেশ মানসিক অস্থিরতা কাটাতে দারুণ কার্যকর।

 

জাফলং বা বিছনাকান্দি

সিলেটে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনা ও পাথুরে নদীর শীতল জল আপনাকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলবে।

কেন এই সময়ে ঘুরে আসা জরুরি

পরিবেশ পরিবর্তন

একই ঘরে বা চেনা পরিবেশে বারবার রেজাল্টের কথা মনে পড়তে পারে। পরিবেশ পরিবর্তন করলে চিন্তা অন্যদিকে ঘোরানো সহজ হয়।

 

মানসিক স্বস্তি

প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমে এবং মন ভালো করার হরমোন নিঃসরণ বাড়ে।

 

নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

একা বা কাছের মানুষের সাথে ভ্রমণের সময় জীবনের অন্যান্য সম্ভাবনা এবং দক্ষতা অর্জনের ব্যাপারে শান্ত মাথায় পরিকল্পনা করা যায়।

 

জীবনের আসল পরীক্ষা শুধু একটা রেজাল্ট ভালো করা নয় বরং প্রতিকূলতার মধ্য থেকেও ঘুরে দাঁড়ানো। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। মনকে শান্ত করুন। নতুন উদ্যমে শুরু করুন। সফলতা আসবেই।

দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র হতে যাচ্ছে ইনানী, মিলতে পারে তেলের সন্ধানও

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র হতে যাচ্ছে ইনানী, মিলতে পারে তেলের সন্ধানও
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে সৃষ্ট আগুন চার দিনেও নেভেনি। আগুন দেখতে প্রতিদিনই ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগুনের উৎসের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে সেখানে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন, ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণ শেষে যদি এই সম্ভাবনা সত্যি হয় তাহলে দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র হতে পারে ইনানী।

 

পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে গ্যাসক্ষেত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী ১৫ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের তীব্রতা কমে না এলে উপযুক্ত পদ্ধতিতে গ্যাস নির্গমনের পথ সিল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

তিনি আরও জানান, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব সক্ষমতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম। এ পর্যায়ে বাইরের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হবে না। তবে প্রকৃতির আচরণ অনিশ্চিত হওয়ায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। ‘

 

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের সাবেক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আগের দিন একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

এসময় উপস্থিত পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শোয়েব জানান, ‘ আমরা রাতে এসেছি অগ্নিশিখার রঙ পর্যবেক্ষণের জন্য, কালচে ভাব দেখে মনে হচ্ছে এখানে তেলও থাকতে পারে।১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তারের সই করা আদেশে আগুনের উৎস ও আশপাশের ২০০ মিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

 

আদেশে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা জোনে ভাগ করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

 

এ নির্দেশনার আওতায় ঘটনাস্থল ও আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দেশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

 

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে মেরিন ড্রাইভ থেকে ইনানী ও কোটবাজারে যাতায়াতের দুটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কে কাঁটাতার টেনে ব্যারিকেডও দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’

 

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আগুনের তীব্রতা কম থাকলেও বিকেল পাঁচটার পর তা বাড়তে থাকে। শুক্রবার পর্যন্ত আগুনের তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দিকে বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন। তবে তাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

‘হেডাম’ দেখাতে চাইলে বিএনপি করা যাবে না: রাশেদ খাঁন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
‘হেডাম’ দেখাতে চাইলে বিএনপি করা যাবে না: রাশেদ খাঁন
শেয়ার করুন

চাঁদাবাজি, সালিশ-বাণিজ্য, জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের সঙ্গে জড়িতদের বিএনপিতে থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, কেউ নিজের ‘হেডাম’ দেখাতে চাইলেও বিএনপি করা যাবে না।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ভাতঘরা দয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রাশেদ খাঁন বলেন, মাদক ও জুয়া বন্ধে বিভিন্ন ইউনিয়নে সমাবেশ করা হচ্ছে। কিন্তু আজকের সমাবেশে গ্রুপিংয়ের কারণে কেউ কেউ অসহযোগিতা করছেন। দলের মধ্যে কোনো গ্রুপিং করা যাবে না। দল এখন ক্ষমতায়, বিএনপি করার লোকের অভাব হবে না। দলের মধ্যে থেকে যারা বেইমানি করবেন, তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

 

তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে আমার সঙ্গে থেকেও যারা বেইমানি করেছেন, আমি তাদের চিনি। তারা আমার কাছে কখনো প্রশ্রয় পাবেন না।

দলীয় কোন্দলের বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, আপনারা গ্রুপিং করলে লাভ হবে জামায়াতের। জামায়াত সুযোগ নিয়ে ফায়দা লুটবে।

 

তিনি আরও জানান, তিনি কোনো বিভাজন চান না, চান ঐক্য। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে গ্রুপিং থাকলে দলের পাশাপাশি নেতাকর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এমন পরিস্থিতি হতে দেওয়া হবে না।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদক, আত্মহত্যা, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, যৌতুক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ।

 

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী। এ ছাড়া বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবর রহমান মিনি, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. নুরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইসরাইল হোসেন জীবন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুজ্জামান স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান কাজল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।