খুঁজুন
, ,

ছেলের এইচএসসি পাসের খবর জানিয়ে বিলুপ্ত কমিটি, আবেগি ছাত্রদল সভাপতির দীর্ঘ স্ট্যাটাস

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
ছেলের এইচএসসি পাসের খবর জানিয়ে বিলুপ্ত কমিটি, আবেগি ছাত্রদল সভাপতির দীর্ঘ স্ট্যাটাস
শেয়ার করুন

ছেলে এইচএসসি পাস করেছেন’—এমন একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১ নভেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলা ও মেহেরপুর জেলা শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। শিগগিরই এসব ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

 

এদিকে কমিটি বাতিলের পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সেই জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহজাহান খান। লেখেন, ‘দীর্ঘ ১৯৯৮ সাল থেকে আমার ছাত্ররাজনীতির পথচলা শুরু। ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার শুরু থেকেই যৌবনের প্রথম প্রেম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে। ছাত্রদলের প্রতি ভালো লাগার অন্যতম কারণ ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশনেত্রী মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়ার দেশের জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেম এবং দেশনায়ক, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের দেশের ও দেশের মানুষের প্রতি মায়া-মমতা এবং দায়িত্ববোধ।’

 

তিনি বলেন, ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পরবর্তী সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মরহুম মির্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু ভাই ও শরিফুজ্জামান সিজার পরিষদ আমাকে চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেন। আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (এমপি) জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জনাব আমিরুল ইসলাম খান আলীম পরিষদ আমাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করেন। এ দায়িত্বে থেকে প্রায় ৭-৮ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।

 

এরপর ২০১৮ সালের ৬ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ পুনরায় আমাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছাত্রদলের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী (এমপি) জনাব রাজিব আহসান এবং তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য জনাব আকরামুল হাসান মিন্টু ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন পরিষদ আমাকে এ দায়িত্ব প্রদান করে। আমিও ন্যায়নিষ্ঠা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, দীর্ঘ আট বছর।

 

সব মিলিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সঙ্গে থেকে ন্যায়নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছি। এ দীর্ঘ পথচলায় অনেক স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও ভালোবাসা অর্জন করেছি। আমার রাজনৈতিক পথচলায় দায়িত্ব ও আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং যত দিন বেঁচে থাকব, ইনশাআল্লাহ থাকব। আগামী দিনে যারা ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হতে আগ্রহী, তাদের সবার প্রতি রইল অনেক অনেক দোয়া, ভালোবাসা ও শুভকামনা।

 

মানুষ কি বিয়ে করবে না, বাচ্চা-কাচ্চা হবে না?

এর আগে শাহজাহান খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মানুষ কি বিয়ে-শাদি করবে না, বাচ্চাকাচ্চা হবে না? ‘আমার দল ১৭ বছর ক্ষমতায় ছিল না। ওই সময় সংগঠনে ছাত্রদল করার মতো কোনো মানুষ ছিল না? সে ক্ষেত্রে দল বিবেচনা করে আমাকে কমিটিতে জায়গা দিয়েছিল ১৮ সালে। কমিটি ভাঙা-গড়া দলের সিদ্ধান্ত। এটা কি আমার সিদ্ধান্ত?’

 

বিয়ে ও সন্তান প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘দল যখন মনে করবে, তখন কমিটি দেবে; দল যখন মনে করবে, তখন কমিটি ভেঙে দেবে। এটা দলের ইচ্ছা, তাই না? এখন এর মধ্যে বিয়ে-শাদি মানুষ করবে না? বাচ্চাকাচ্চা হবে না? একটা বাচ্চা যদি আমার ভালো কিছু করে, তার জন্য কি আমি মনের আকুতিটা জানাতে পারব না? এটা আসলে ত্রুটি না।’

শাহজাহান খান বলেন, ‘আমার বাচ্চা থাকতে পারে, আমি কি সেটা অস্বীকার করব? এখনো পর্যন্ত দল আমাকে ছাত্রদলে রেখেছে। দল আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই রেখেছে। দল কি এসব জানে না? তারেক রহমানের কাছে, আমাদের চেয়ারম্যানের কাছে কি এসব প্রতিবেদন নেই?’ ‘আমাদের কমিটি যখন হয়েছে, তখন সবকিছু জেনেই কমিটি দেওয়া হয়েছে। সে সময় তো আমাদের বিবাহিত-অবিবাহিত হওয়াটা বিবেচ্য ছিল না, তাই না? কমিটি দলের সিদ্ধান্ত। দল যখন মনে করবে, তখন আমাকে দায়িত্ব দেবে; আবার যখন মনে করবে, অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবে। এটা নিয়ে এত কিছু করা ঠিক না।’

 

শাহজাহান বলেন, ‘আমি ছাত্রদল করেছি, যুবদল করব স্বাভাবিক। যুবদল করার এখন আমার মোক্ষম বয়স। জেলা যুবদল করারও এটাই উপযুক্ত সময়। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তো যেতে পারি না। আমি চাইলেই নিজের ইচ্ছামতো চলতে পারব না।’

আইনের মধ্যে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে যদি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়: তথ্য উপদেষ্টা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
আইনের মধ্যে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে যদি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়: তথ্য উপদেষ্টা
শেয়ার করুন

আইনি অধিকার ও সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট সাপেক্ষে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রাখলেও, বিগত সরকারের আমলের মতো বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পথে হাঁটবে না বর্তমান সরকার। সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশের বল প্রয়োগ করার আইনি অধিকার আছে। আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকার পুলিশের আছে, যদি সেই ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। যে কথাটা বারবার বলছি, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং প্রপোশনেট বল প্রয়োগের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, একটা জিনিস একটু আমরা মাথায় রাখবো, সেটা হচ্ছে কোনো একটা অস্থিরতা বা আনরেস্ট সরকার কীভাবে হ্যান্ডেল করবে? কীভাবে সেটাকে ডিল করবে?

সরকার আগের মতো আন্দোলন দমনের পথে যেতে চায় না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ আর কখনো হাসিনার পুলিশের মতো হবে না। আমি নাগরিক হিসেবে বলছি, সরকারে থাকা মানুষ হিসেবে বলছি না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোথাও কোথাও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের ঘটনা দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনারা হয়তো দেখেছেন, কোথাও কোথাও ডিসপ্রপোশনেট বল প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, যে কথাটা বলতে চেয়েছি, আগে যেভাবে এগুলো দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে এই সরকার সেভাবে চাচ্ছে না। কারণ দিনের শেষে আমরা কিশোর গ্যাং বলি বা অন্য কাউকে বলি না কেন, এরা এই রাষ্ট্রের নাগরিক।

আন্দোলনকারীদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য আছে এবং সেটা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলেছেন, এটা কীভাবে হচ্ছে? এর সবকিছুই সেই বাহিনীর কাছে আছে। কিন্তু আমরা এটাকে এমনভাবে করতে চাই যেন জনগণের উপরে খুব কম ভয়-ক্ষতি হয়, খুব কম সমস্যা হয়।

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটা শেষ হবে, কারণ প্রাথমিকভাবে কিন্তু শ্রমিকরাও মাঠে নেমেছিলেন, কারণ তাদের কিছু ন্যায্য দাবি ছিল। এখন যেহেতু কমিশন তৈরি হয়েছে, আমরা আশা করি তাদের আমরা বোঝাতে পারব।

শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্য কেউ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের পোশাকশ্রমিকরা মাঠে নেমেছেন, সেটার ভেতরে ঢুকে অন্যরা এ কাজটি করছে। তারা না নামলে এ সমস্যা হয় না।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, মোবাইল কভারে লেখা ছিল ‘Death like autumn leaves’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, মোবাইল কভারে লেখা ছিল ‘Death like autumn leaves’
শেয়ার করুন

একটি মোবাইল ফোনের কভার। তাতে লেখা ‘Death like autumn leaves’। অর্থাৎ, শরতের ঝরা পাতার মতো মৃত্যু। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যুর পর সামনে এসেছে এমন একটি মোবাইল কভারের ছবি। কভারে লেখা কথাগুলো নতুন করে নাড়া দিয়েছে অনেককে। এটি মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘Stray Birds’ কাব্যগ্রন্থের একটি বিখ্যাত উক্তি- ‘Let life be beautiful like summer flowers and death like autumn leaves’ অর্থাৎ জীবন গ্রীষ্মের ফুলের মতো সুন্দর হোক, আর মৃত্যু হোক শরতের পাতার মতো।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় একটি লোকাল বাস উল্টে যায়। এ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা তিন শিক্ষার্থী বাসটির নিচে চাপা পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। আহত অপর দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুটি লরি পাশাপাশি যাওয়ার পর একটি লরি অন্যটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৮ নম্বরের একটি লোকাল বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি উল্টে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ইভা জানান, দুর্ঘটনার শিকার তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকালে ক্যাম্পাসে আসছিলেন।

বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি লরি ও বাসটি থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না: তথ্য উপদেষ্টা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না: তথ্য উপদেষ্টা
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে আছেন, সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তবে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও এর অর্থ এই নয় যে, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পথ তাদের জন্য সুগম হবে।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

 

তার দাবি, এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা শুধু ডিসেম্বরকে ঘিরে নয়, শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন চলতে পারে। তবে সরকার এসব চেষ্টা প্রতিহত করবে।

 

‎পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকা এবং এতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার আগেভাগে মজুরি কমিশন গঠন করেছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির সমাধান হওয়ার কথা।

 

‎তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনার কথা। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পর্যালোচনা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি কমিশন গঠনের কথা ছিল না। এরপরও সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় কমিশন করেছে।‎

 

‎আন্দোলনে সহিংস আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার অধীনস্থ বাহিনীগুলোর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন, এসব ঘটনার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন রয়েছে।

 

‎জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এখন কোনো কিছু করতে পারবে বলে সরকার বিশ্বাস করে না। তবে দলটির কাছে বিপুল অর্থ রয়েছে, যা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। এর সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত নন। তবে শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

 

‎‎শ্রমিক আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের বাইরে অন্যদের অংশগ্রহণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার আগের মতো বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন দমাতে চায় না। এসব তরুণও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও ভোগান্তি যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করছে সরকার। অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির অবসান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।‎

 

‎শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি নিজে আসুন কিংবা তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক, সরকারের চাওয়া একই। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আগাম জানাতে চাননি তিনি। পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।‎

 

‎পুলিশের বলপ্রয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশকে আইন মেনে এবং পরিস্থিতির তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চর্চা নিশ্চিত করছে সরকার।