খুঁজুন
, ,

দেশের কাইজ্যা বিদেশে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দেশের কাইজ্যা বিদেশে
শেয়ার করুন

পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে পশ্চিমা দুনিয়ার যেখানেই গেছেন, সেখানেই প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে বিএনপি-জামায়াত। কালো পতাকা প্রদর্শনসহ নানাভাবে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছে দল দু’টির নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে নিউ
ইয়র্ক ও লন্ডনে। ৩৬ জুলাই খ্যাত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সব পাল্টে দিয়েছে! হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ভারতে। তার নেতাকর্মীরা ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। বিপ্লবী ছাত্র-জনতার সমর্থনে গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার প্রতি এখনো সমর্থন রয়েছে বিএনপি-জামায়াতসহ অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের নির্বাহী আদেশে বিচার কার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ফলে দেশে তারা এখনো এলোমেলো। অবশ্য বিদেশে তারা এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সক্রিয়। আওয়ামী লীগের প্রবাসী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিদেশে আশ্রয় নেয়া দলটির পলাতক নেতাকর্মীরাও যে যার মতো করে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। তারা সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশ সফরে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। ঠিক যেমনটি এতবছর ধরে করে আসছিল বিএনপি-জামায়াত। তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশে অভিনব সব কৌশল নিচ্ছে লীগ সমর্থক এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল গোষ্ঠী। জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশনে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত রাতেই তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

এবারের সফরের বিশেষত্ব হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার টিমে সরকারের বাইরে ৩টি রাজনৈতিক দলের ৬ জন প্রতিনিধি সরকারি খরচে যুক্ত হয়েছেন। বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাদের বরণের প্রস্তুতি নিয়েছে সফরসঙ্গী নেতাদের প্রবাসী সমর্থকরা। তবে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে নিউ ইয়র্ক আওয়ামী লীগ। সেই ঘোষণায় বিচলিত সরকারের তরফে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন- বাস্তবে ড. ইউনূসকে প্রতিহত করতে পারবে না আওয়ামী লীগ। কারণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাচ্ছেন তিনি। কেবল বাংলাদেশ নয়, ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধির পদভারে আগামী সপ্তাহটা মুখরিত থাকবে বিশ্বের রাজধানী খ্যাত সিটি ম্যানহাটন। সেখানে বাংলাদেশসহ দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের সংক্ষুব্ধ মানুষদের নিজ নিজ সরকারের প্রতিনিধির প্রতি ক্ষোভ, বিক্ষোভ বা স্রেফ ঘৃণা প্রদর্শনেরও সুযোগ থাকবে। তবে তা যেন শান্তিপূর্ণ হয় সেটি নিশ্চিত করবে নিউ ইয়র্ক পুুলিশ তথা মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ওয়াকিবহাল সূত্র বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংক্ষুব্ধ জনগণ নিজে থেকে তাদের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেন। কিন্তু বাংলাদেশসহ কিছু দেশের প্রতিবাদকারীরা অহেতুক পরিবেশটা উত্তপ্ত করে ফেলেন। তাদের মুখের চেয়ে হস্ত আগে চলে। দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিবাদ বা কাইজ্যা বিদেশের মাটিতেও টেনে নিয়ে যান। সহিংস সেই আচরণ ঠেকাতে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। ফলশ্রুতিতে ঘটনা থামলেও তা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে দেশের ভাবমূর্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

এবারে কাইজ্যার আশঙ্কা বেশি কেন? গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন জাতিসংঘে যান তখন আওয়ামী লীগ ছিল বিপর্যন্ত। সর্বাত্মক প্রতিরোধ তথা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া আওয়ামী লীগের প্রবাসী নেতাকর্মীরা ছিল দিকভ্রান্ত-নির্দেশনাহীন। তাছাড়া আন্দোলন দমনে আওয়ামী সরকারের তরফে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ তথা গণহত্যার অভিযোগে দলটির নেতাকর্মীরা সাধারণের তোপের মুখে পড়ার আশঙ্কায় ছিল। কিন্তু এবার তারা আগের চেয়ে সংগঠিত এবং প্রতিরোধের নির্দেশনাপ্রাপ্ত। স্থানীয় সূত্রের দাবি শুরুতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মাঠ ছিল তাদের দখলে এক তরফাভাবে। কিন্তু সরকার প্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নাম ঘোষণার পর পরিস্থিতি খানিকটা জটিল হয়েছে। গতকাল জামায়াত এবং এনসিপি’র আরও দুই নেতার নাম প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তারা হলেন- এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা, ও জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ড. নাকিবুর রহমান তারেক। নাকিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন। তিনি সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার বহরে যুক্ত হবেন।

প্রধান উপদেষ্টা ও নেতাদের সফর ঘিরে বিএনপি, জামায়াত এনসিপি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে এবারে বহুপক্ষীয় কাইজ্যা হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ নিজেদের আমলের ঘটনাগুলো আড়াল করে এবার ফলাও করে ড. ইউনূসের শাসনামলে দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে ইত্যাদি প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত এবং এনসিপি ‘শান্তি সমাবেশ’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীরা: স্থানীয় সূত্র এটা নিশ্চিত করেছে যে, নিউ ইয়র্কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীরা। তাদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নোট ভারবাল পাঠানো হয়েছে। তার সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য নিউ ইয়র্ক পুলিশ, মেয়র অফিস এবং ফরেন সার্ভিসের কাছে বাড়তি সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। চিঠিতে নোবেলবিজয়ী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর, হোটেল এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে গণজমায়েতের ঘোষণা দিয়েছেন।

একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও সেই সব স্থানের কাছাকাছি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ব্যাপারে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মাদ মোজাম্মেল হক মানবজমিনকে রোববার সন্ধ্যায় বলেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে আওয়ামী লীগের তরফে প্রধান উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হবে। এ কারণে আমরা স্থানীয় প্রশাসন, নিউ ইয়র্ক পুলিশ, মেয়র অফিসের কাছে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। একইভাবে নিউ ইয়র্কের ফরেন সার্ভিসকে বিষয়টি অবগত করেছি। আশা করি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সহায়তা করবেন। কনসাল জেনারেল বলেন- প্রধান উপদেষ্টার সফর ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। উল্লেখ্য, ২২শে সেপ্টেম্বর মুহাম্মদ ইউনূস নিউ ইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৬শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তার ভাষণে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতান্ত্রিক সংস্কার, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এবং সাবেক স্বৈরাচারী শাসন-পরবর্তী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি তার ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু, অর্থায়ন, এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পেতে পারে। তার ভাষণে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ভাষণ দেয়া ছাড়াও সাইড লাইনে উচ্চপর্যায়ের কিছু বৈঠকে অংশ নেবেন ড. ইউনূস। তাছাড়া প্রবাসীদের একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নিবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।