খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২৬ চৈত্র, ১৪৩২

দেশের কাইজ্যা বিদেশে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দেশের কাইজ্যা বিদেশে
শেয়ার করুন

পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে পশ্চিমা দুনিয়ার যেখানেই গেছেন, সেখানেই প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে বিএনপি-জামায়াত। কালো পতাকা প্রদর্শনসহ নানাভাবে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছে দল দু’টির নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে নিউ
ইয়র্ক ও লন্ডনে। ৩৬ জুলাই খ্যাত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সব পাল্টে দিয়েছে! হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ভারতে। তার নেতাকর্মীরা ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। বিপ্লবী ছাত্র-জনতার সমর্থনে গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার প্রতি এখনো সমর্থন রয়েছে বিএনপি-জামায়াতসহ অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের নির্বাহী আদেশে বিচার কার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ফলে দেশে তারা এখনো এলোমেলো। অবশ্য বিদেশে তারা এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সক্রিয়। আওয়ামী লীগের প্রবাসী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিদেশে আশ্রয় নেয়া দলটির পলাতক নেতাকর্মীরাও যে যার মতো করে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। তারা সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশ সফরে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। ঠিক যেমনটি এতবছর ধরে করে আসছিল বিএনপি-জামায়াত। তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশে অভিনব সব কৌশল নিচ্ছে লীগ সমর্থক এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল গোষ্ঠী। জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশনে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত রাতেই তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

এবারের সফরের বিশেষত্ব হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার টিমে সরকারের বাইরে ৩টি রাজনৈতিক দলের ৬ জন প্রতিনিধি সরকারি খরচে যুক্ত হয়েছেন। বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাদের বরণের প্রস্তুতি নিয়েছে সফরসঙ্গী নেতাদের প্রবাসী সমর্থকরা। তবে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে নিউ ইয়র্ক আওয়ামী লীগ। সেই ঘোষণায় বিচলিত সরকারের তরফে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন- বাস্তবে ড. ইউনূসকে প্রতিহত করতে পারবে না আওয়ামী লীগ। কারণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাচ্ছেন তিনি। কেবল বাংলাদেশ নয়, ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধির পদভারে আগামী সপ্তাহটা মুখরিত থাকবে বিশ্বের রাজধানী খ্যাত সিটি ম্যানহাটন। সেখানে বাংলাদেশসহ দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের সংক্ষুব্ধ মানুষদের নিজ নিজ সরকারের প্রতিনিধির প্রতি ক্ষোভ, বিক্ষোভ বা স্রেফ ঘৃণা প্রদর্শনেরও সুযোগ থাকবে। তবে তা যেন শান্তিপূর্ণ হয় সেটি নিশ্চিত করবে নিউ ইয়র্ক পুুলিশ তথা মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ওয়াকিবহাল সূত্র বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংক্ষুব্ধ জনগণ নিজে থেকে তাদের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেন। কিন্তু বাংলাদেশসহ কিছু দেশের প্রতিবাদকারীরা অহেতুক পরিবেশটা উত্তপ্ত করে ফেলেন। তাদের মুখের চেয়ে হস্ত আগে চলে। দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিবাদ বা কাইজ্যা বিদেশের মাটিতেও টেনে নিয়ে যান। সহিংস সেই আচরণ ঠেকাতে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। ফলশ্রুতিতে ঘটনা থামলেও তা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে দেশের ভাবমূর্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

এবারে কাইজ্যার আশঙ্কা বেশি কেন? গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন জাতিসংঘে যান তখন আওয়ামী লীগ ছিল বিপর্যন্ত। সর্বাত্মক প্রতিরোধ তথা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া আওয়ামী লীগের প্রবাসী নেতাকর্মীরা ছিল দিকভ্রান্ত-নির্দেশনাহীন। তাছাড়া আন্দোলন দমনে আওয়ামী সরকারের তরফে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ তথা গণহত্যার অভিযোগে দলটির নেতাকর্মীরা সাধারণের তোপের মুখে পড়ার আশঙ্কায় ছিল। কিন্তু এবার তারা আগের চেয়ে সংগঠিত এবং প্রতিরোধের নির্দেশনাপ্রাপ্ত। স্থানীয় সূত্রের দাবি শুরুতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মাঠ ছিল তাদের দখলে এক তরফাভাবে। কিন্তু সরকার প্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নাম ঘোষণার পর পরিস্থিতি খানিকটা জটিল হয়েছে। গতকাল জামায়াত এবং এনসিপি’র আরও দুই নেতার নাম প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তারা হলেন- এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা, ও জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ড. নাকিবুর রহমান তারেক। নাকিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন। তিনি সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার বহরে যুক্ত হবেন।

প্রধান উপদেষ্টা ও নেতাদের সফর ঘিরে বিএনপি, জামায়াত এনসিপি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে এবারে বহুপক্ষীয় কাইজ্যা হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ নিজেদের আমলের ঘটনাগুলো আড়াল করে এবার ফলাও করে ড. ইউনূসের শাসনামলে দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে ইত্যাদি প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত এবং এনসিপি ‘শান্তি সমাবেশ’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীরা: স্থানীয় সূত্র এটা নিশ্চিত করেছে যে, নিউ ইয়র্কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীরা। তাদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নোট ভারবাল পাঠানো হয়েছে। তার সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য নিউ ইয়র্ক পুলিশ, মেয়র অফিস এবং ফরেন সার্ভিসের কাছে বাড়তি সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। চিঠিতে নোবেলবিজয়ী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর, হোটেল এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে গণজমায়েতের ঘোষণা দিয়েছেন।

একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও সেই সব স্থানের কাছাকাছি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ব্যাপারে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মাদ মোজাম্মেল হক মানবজমিনকে রোববার সন্ধ্যায় বলেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে আওয়ামী লীগের তরফে প্রধান উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হবে। এ কারণে আমরা স্থানীয় প্রশাসন, নিউ ইয়র্ক পুলিশ, মেয়র অফিসের কাছে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। একইভাবে নিউ ইয়র্কের ফরেন সার্ভিসকে বিষয়টি অবগত করেছি। আশা করি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সহায়তা করবেন। কনসাল জেনারেল বলেন- প্রধান উপদেষ্টার সফর ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। উল্লেখ্য, ২২শে সেপ্টেম্বর মুহাম্মদ ইউনূস নিউ ইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৬শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তার ভাষণে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতান্ত্রিক সংস্কার, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এবং সাবেক স্বৈরাচারী শাসন-পরবর্তী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি তার ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু, অর্থায়ন, এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পেতে পারে। তার ভাষণে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ভাষণ দেয়া ছাড়াও সাইড লাইনে উচ্চপর্যায়ের কিছু বৈঠকে অংশ নেবেন ড. ইউনূস। তাছাড়া প্রবাসীদের একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নিবেন।

লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণ, ফের বন্ধ হরমুজ প্রণালি: ইরানি গণমাধ্যম

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণ, ফের বন্ধ হরমুজ প্রণালি: ইরানি গণমাধ্যম
শেয়ার করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতিবাদে তেহরান পুনরায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

 

বুধবার (৮ এপ্রিল) এমনটাই জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম ফার্স নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, এদিন সকালে ইরানের অনুমতি নিয়ে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার প্রণালি অতিক্রম করতে পারলেও, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এর চলাচল বন্ধ রয়েছে।

 

 

মূলত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল অব্যাহত রাখা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

 

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলেছেন। তেহরান থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা এই শান্তিচুক্তি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে এবং পাল্টা আঘাত হানবে।

 

 

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শাহবাজ শরিফের সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে।

 

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটামের মুখে ইরান মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছিল, যা বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম কিছুটা কমিয়েছিল। তবে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, ইসরায়েলে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, ইসরায়েলে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
শেয়ার করুন

লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। ইসরায়েলকে শাস্তি দিতে যুদ্ধবিরতি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে তেহরান।

 

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননে সংঘটিত ‘অপরাধ’ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলকে শাস্তি দেওয়া হবে।

 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, “লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, চলমান যুদ্ধবিরতি পুরো অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে। তার ভাষায়, “ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য পরিচিত এবং তাদের কেবল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

 

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এক অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় আকস্মিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এসব হামলায় ৮৯ জন নিহত এবং সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

 

ইসরায়েল আগেই জানায়, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননে তাদের চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান দাবি করেছে, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত।

 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এটিকে চলমান যুদ্ধে সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলা বলে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ১০০টির বেশি হিজবুল্লাহ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, যা বৈরুত, দক্ষিণ লেবানন এবং পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকাজুড়ে চালানো হয়।

 

হামলার পর সমুদ্রতীরবর্তী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ব্যস্ত বিকালে হঠাৎ বিস্ফোরণে থমকে যায় যানবাহনের শব্দ। অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও বিধ্বস্ত ভবনের মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। অনেক হামলা হয়েছে জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকায়, ফলে রাস্তায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, বৈরুতের অন্তত পাঁচটি এলাকায় এসব বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

অনলাইন ক্লাসের পক্ষে মত দেওয়ার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন ক্লাসের পক্ষে মত দেওয়ার ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর
শেয়ার করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সাশ্রয়ের কারণে অনলাইন ক্লাস চালানোর পক্ষে মন্ত্রীপরিষদে মতামত দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

 

বুধবার (৮ এপ্রিল) তিনি রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস বিষয়ক মতামত অনুষ্ঠানে এ ইঙ্গিত দেন।

 

সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর সমাধান উঠে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

 

স্কুলের ক্লাস আওয়ার কিছুটা কমিয়ে বিদ্যুতের ব্যবহার হ্রাস করা।

জানালা বেশি খোলা রাখার মাধ্যমে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা, ফলে লাইট কম জ্বালানো।

যেসব স্কুলে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর ব্যবহার সীমিত করা।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের সেমিনারে আমরা দেখেছি, ইতোমধ্যে বেশ কিছু সমাধান উঠে এসেছে। যেমন- আমরা চাইলে স্কুলের ক্লাস আওয়ার কিছুটা কমাতে পারি, ক্লাসের সময় বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব। জানালাগুলো বেশি খোলা রাখলে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা যাবে, ফলে লাইট কম জ্বালাতে হবে। যেসব স্কুলে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার হয়, সেগুলোর ব্যবহারও সীমিত করা যেতে পারে। এ ধরনের আরও অনেক কার্যকর সমাধান রয়েছে। আমরা আপনাদের কাছ থেকেও নতুন নতুন আইডিয়া শুনতে চাই। আপনারা আজকের সেমিনারেও আপনাদের মতামত জানাবেন।

 

এছাড়া বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের কিছু নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত (হাইব্রিড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে অনলাইন ক্লাস হলেও শিক্ষকদের স্কুলে গিয়েই ক্লাস নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।