খুঁজুন
, ,

পেকুয়ায় দরিদ্রের বরাদ্দে ইউএনও-পিআইও’র থাবা

এক কোদালের দাম ৭৫০০ টাকা

জসিম উদ্দিন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
এক কোদালের দাম ৭৫০০ টাকা
শেয়ার করুন

৪০০ টাকার একটি কোদালের দাম সাড়ে ৭ হাজার টাকা! অবিশ্বাস্য হলেও কক্সবাজারের পেকুয়ায় হতদরিদ্র শ্রমিকদের জন্য সরকারের বিশেষ কর্মসূচি ইজিপিপি নন-ওয়েজের বরাদ্দে এ ঘটনা ঘটেছে। ২ লাখ টাকার কোদাল-ঝুড়ি কিনে বরাদ্দের প্রায় সব টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হিসাবে কাগজপত্র উপস্থাপন করা হলেও উলটো লুটপাটের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈনুল হোসেন চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পেকুয়ায় ইজিপিপি নন-ওয়েজের প্রায় ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ থেকে শ্রমিকদের জন্য দুই লাখ টাকার ঝুড়ি ও কোদাল কিনে বাকি ১৫ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ইউএনও মো. মঈনুল হোসেন চৌধুরী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু তাহেরের বিরুদ্ধে। তাদের দুজনের নেতৃত্বে পিআইও অফিসকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে সরকারি বরাদ্দ লুটপাটের মহোৎসবে মেতেছেন। শুধু তাই নয়, ইউএনও মঈনুলের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ লুটপাটসহ আরও অভিযোগ রয়েছে।

বরাদ্দের কাগজে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের অতিদরিদ্রদের জন্য প্রাস (ইজিপিপি+) কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইউএনওর অনুকূলে নন-ওয়েজের ১৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দ কাগজে ঠিক থাকলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন।

পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের ইজিপিপি প্রকল্পের ৬৩ জন শ্রমিকের মধ্যে অন্তত ৫৫ জন জানিয়েছেন, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শ্রমিকদের জন্য ৩৬টি কোদাল, ১৮৫টি ঝুড়ি, শিলখালী ইউনিয়নে ২৯টি কোদাল, ১০৪টি ঝুড়ি, বারবাকিয়া ইউনিয়নে ২৬টি কোদাল, ১০৪টি ঝুড়ি, মগনামা ইউনিয়নে ২৭টি কোদাল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা পেয়েছেন ৬টি কোদাল ও ১৪২টি ঝুড়ি। উজানটিয়া ইউনিয়নের শ্রমিকরা কোদাল পাননি, তবে ঝুড়ি পেয়েছেন ১৩৪টি। টইটং ইউনিয়নে কোদাল ৩৯টি, ঝুড়ি ১২৬টি; রাজাখালী ইউনিয়নে কোদাল ৩৯টি, ঝুড়ি ৯৭টি দেওয়া হয়েছে। পুরো উপজেলায় কোদাল দেওয়া হয়েছে ১৯২টি ও ঝুড়ি ৮৯২টি।

উপকারভোগী মাঝিরা (শ্রমিক) জানান, এসব কোদাল ও ঝুড়ি তারা পিআইও অফিসের জিয়াবুল স্যারের কাছ থেকে নিয়েছেন। কিন্তু যাকে তারা ‘স্যার’ সম্বোধন করেন, তিনি পিআইও অফিসের উমেদার হিসাবে কাজ করেন।

বর্তমান এসব পণ্যের বাজার মূল্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, একটি কোদালের মূল্য ৪০০ টাকা এবং প্রতিটি ঝুড়ির দাম ১৪০ টাকা। পুরো উপজেলায় ১৯২টি কোদালের বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৭৬ হাজার টাকা এবং ৮৯২ ঝুড়ির মূল্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ইউএনওর অনুকূলে বরাদ্দ ১৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উপজেলার সাত ইউনিয়নে নন-ওয়েজ থেকে কোনো প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি। বাকি ১৫ লাখ টাকার খোঁজ মেলেনি।

৪০০ টাকার কোদালের দাম সাড়ে ৭ হাজার : ইউএনও মো. মঈনুল হোসেন চৌধুরীর দাবি অনুযায়ী, এসব কোদাল ও ঝুড়ি ‘কয়েক হাত ঘুরে কিনতে হয়েছে’, তাই দাম বেশি পড়েছে। তার হিসাব অনুযায়ী, ঝুড়ি ২৮০ টাকা ধরে ৮৯২টি কিনতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬০ টাকা। বাকি ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকায় ১৯২টি কোদাল কেনা হয়েছে দেখানো হয়েছে। ফলে প্রতিটি কোদালের ক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা।

স্থানীয়রা জানান, পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জিয়াবুল করিম ও মো. তানভীর উমেদার হিসাবে কাজ করছেন। তারা পিআইও অফিসের মূল কর্মী না হলেও ইউএনও ও পিআইওর পছন্দের লোক হওয়ায় সব কার্যক্রম তারা নিয়ন্ত্রণ করেন। এ দুজনের মাধ্যমে যাবতীয় লুটপাটের নথিপত্র তৈরি ও পরিচালিত হয়। এভাবে ইউএনও ও পিআইওসহ চারজনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরকারি বরাদ্দকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও আবু তাহের প্রথমে বরাদ্দ হয়নি দাবি করেন। পরে ডকুমেন্ট পাঠানো হলে ফোন রিসিভ করেননি। তবে সংবাদ প্রকাশ ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন।

লুটপাটের পক্ষে যুক্তি দিলেন ইউএনও : অভিযোগের তথ্য দেখানো হলে ইউএনও মো. মঈনুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘কোদাল-ঝুড়ি ঠিকঠাক বিতরণ হয়েছে, আমি ছবিতে তা দেখেছি। সরাসরি কিনতে পারিনি; ছয়-সাত হাত বদল হয়েছে। তাই দাম বেশি হয়েছে। তবে পরে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে প্রতিবেদকের কাছে তদবির করেছেন অভিযুক্তরা।

বিষয়টি অবগত করে জানতে চাইলে কক্সবাজার নবাগত জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘তথ্য যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।