খুঁজুন
, ,

ভারতকে তো হারানো গেল, কোন পথে হামজার বাংলাদেশ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
ভারতকে তো হারানো গেল, কোন পথে হামজার বাংলাদেশ
শেয়ার করুন

রাত ১১টার কাঁটা ছুঁই ছুঁই। সাংবাদিকদের ভরা কক্ষে হামজা চৌধুরী প্রবেশ করতেই করতালিতে ফেটে পড়লেন সবাই। ভারতকে হারানোর আনন্দে মাতোয়ারা সংবাদ সম্মেলন কক্ষ। সামনে বসতেই অভিনন্দন জানানো হলো হামজা চৌধুরীকে, গত রাতে ১–০ গোলে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ককে।

২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি তখনো কাঁপছে। লাল-সবুজের ঢেউয়ে ভেসেছে দেশের ফুটবলতীর্থ। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় শুধুই একটা জয় নয়, এর চেয়েও বেশি কিছু। যখন আপনি জানবেন ভারতের কাছে হারের বা ড্র করার একের পর হতাশার গল্প, যখন জানবেন জিততে জিততে ড্র কিংবা হেরে মন খারাপ করে মাঠ ছাড়ার কাহিনি আছে অনেক, তখন এই জয় শুধু একটি জয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না—হয়ে ওঠে অনেক আবেগময়।

২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে যে আবেগে ভেসেছিল গোটা দেশ; মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে ভারতকে হারিয়ে সাফের ফাইনালে উঠেছিল জর্জ কোটানের বাংলাদেশ। এরপর গত ২২ বছরের দুই দলের ১০ সাক্ষাতে বাংলাদেশ একটি ম্যাচও জেতেনি—৬ ড্র, ৪ হার। প্রায় দুই যুগ পর আবার ভারতকে হারাতে পারল লাল–সবুজের দল। সেদিক থেকে এই জয়ের মাহাত্ম্য অনেক। আর দশটা জয় থেকে পুরোপুরি আলাদা, যেখানে মিশে আছে গর্ব, অপেক্ষা ফুরোনোর তৃপ্তিও।

এমন উৎসবের রাতেই আরেকবার আলোয় উঠে এলেন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া, লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ জেতা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। গতকাল ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের এই ম্যাচে গোল করে হয়তো নায়ক শেখ মোরছালিন, তবে দুরন্ত হেডে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে হামজাও কেড়ে নেন আলো। অবশ্য হাজমার জন্য এ আর নতুন কি! বাংলাদেশের হয়ে আগের ছয় ম্যাচে চার গোল করে আলো ছড়িয়েছেন তো আগেই।

শিলংয়ে ভারতের বিরুদ্ধে দারুণ পারফরম্যান্স, ঢাকায় দ্বিতীয় ম্যাচেই গোল—তারপর হামজা বাংলাদেশ দলের শক্তির নিয়মিত উৎস। ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দুর্দান্ত হেড, হংকং চায়নার বিপক্ষে ফ্রি–কিক, নেপালের বিপক্ষে পেনাল্টি ও অবিস্মরণীয় বাইসাইকেল কিকে গোল। প্রতিটি গোলেই নতুন করে স্বপ্ন দেখানো। হামজা যেন নেমে এসেছেন নতুন আলোর মতো। তাঁকে অনুসরণ করতে, তাঁকে নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করতে লেস্টার সিটির ইউটিউব থেকে প্রতিনিধি এসেছেন ঢাকায়, সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী। তাঁরা ঢাকায় এসে ছায়ার মতো অনুসরণ করেছেন হামজাকে। আর এতে বাংলাদেশের ফুটবলের বিজ্ঞাপন হচ্ছে বিদেশে।

শুধু ‘পোস্টার বয়’ হামজা নন, আজ জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলার সাতজন—জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজী, কাজেম শাহ, হামজা চৌধুরী, ফাহামিদুল ইসলাম, শমিত সোম এবং সর্বশেষ যোগ দিয়েছেন কিউবা মিচেল। তাঁদের আগমন এক নতুন সম্ভাবনার আভাস দিচ্ছে নিঃসন্দেহে। দল হয়েছে শক্তিশালী। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এই বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি সমীহ পাচ্ছে। সেটি শুধু হামজার মতো বিশ্বমানের ফুটবলার আছেন বলেই নয়, একটা দল হয়ে খেলতে পারার কারণেও।

এটিকে বাংলাদেশে ফুটবল–বিপ্লবের পূর্ণতা দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ বলছেন অনেকে। বলতেই পারেন। বাংলাদেশ নিজেদের শক্তিটা দেখিয়েছে। মানুষের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে পেরেছে যে আরও কিছুটা সামনে এগোনো সম্ভব। যদিও বাংলাদেশের আপাতত কোনো ম্যাচ নেই। আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে শেষ ম্যাচ। তারপর বাংলাদেশ কোথায় খেলবে, কোন প্রতিযোগিতায় খেলবে, তা এখনো অজানা।

তবে এটা জানা যে এই বাংলাদেশ লড়াকু—যারা গোল করে ৭৯ মিনিট তা ধরে রাখার দৃঢ়তা দেখাতে পারে। এই বাংলাদেশের খেলা দেখতে মাঠে ছোটেন দর্শক। কালোবাজারিতে ৬০০ টাকার টিকিট বিক্রি হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়। যাঁরা কখনো ফুটবল দেখতেন না, তাঁদের কাছেও ফুটবল এখন বেশ আকর্ষণীয়। ঢাকার রাস্তায় ফুটবল জনতার মিছিল হচ্ছে। কাল ভারত ম্যাচের আগে স্টেডিয়াম এলাকায় তেমন মিছিল দেখে মুগ্ধ হতে হয়েছে। অনেক নারী দর্শক মাঠে যাচ্ছেন ফুটবল দেখতে। সবার মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা, স্বপ্ন আর বিশ্বাস; বাংলাদেশ পারবে।

কিন্তু স্বপ্নের আড়ালে লুকিয়ে আছে কঠিন বাস্তবতা। এই উৎসব সত্ত্বেও কড়া সত্যটি হলো, বাংলাদেশ উঠতে পারেনি ২০২৭ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে। চার দলের গ্রুপে সেরা হতে পারলে তবেই যাওয়া যেত। কিন্তু ঘরের মাঠে হংকং ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভালো খেলেও হার, ভারতে অ্যাওয়ে ম্যাচে সুযোগ পেয়েও ড্রয়ের কারণে হয়নি।

কালকের জয় স্বস্তি দিলেও বড় লক্ষ্য পূরণ হয়নি। হামজা-শমিতের মতো খেলোয়াড় নিয়েও অনেকটা আগেই এশিয়ান কাপের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়া ব্যর্থতাই। ইতিহাসে সেরা শক্তির দল নিয়েও পারল না বাংলাদেশ। যদিও দশ ম্যাচ পর এই প্রথম এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে জয় এসেছে।

সেই আনন্দ নিয়ে কাল রাতে সংবাদ সম্মেলনে হামজা যখন বললেন, সামনে কোনো টুর্নামেন্ট জিততে চান, তবেই ‘পুরোপুরি তৃপ্ত’ হবেন, তখন দেশের ফুটবলের বাস্তব ছবিটা সামনে আসে। সেই বাস্তবতার নাম ঘরোয়া ফুটবলের ভয়াবহ অবস্থা। জাতীয় দল ২২ বছর ধরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে না। এই লম্বা সময়ে দেশে ফুটবল অবকাঠামো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। ভেঙে পড়া ঘরোয়া কাঠামোই বাংলাদেশ ফুটবলের আসল সমস্যা আজও। দেশের প্রিমিয়ার লিগের বেশির ভাগ ক্লাবের নেই নিজস্ব মাঠ, নেই সমর্থক, নেই পৃষ্ঠপোষকতা। ক্লাবগুলো দিন দিন দুর্বল হচ্ছে। ভালো বিনিয়োগ করতে পারছে না। ৯০ শতাংশ ক্লাবে নেই পেশাদারত্ব। ন্যূনতম একটা ওয়েবসাইট পর্যন্ত নেই ক্লাবের। ফুটবলাররা বেতন পান না নিয়মিত। নিচের লিগগুলো অনিয়মিত, অনেক জেলায় ঘরোয়া ফুটবল প্রায় মৃত।

তাই প্রশ্ন আসে, হামজাসহ শুধু প্রবাসীদের আলোয় ভর করে কত দূর যাবে জাতীয় দল? এক-আধ ম্যাচ জয় উৎসব আনে, কিন্তু ঢেকে রাখতে পারে না কাঠামোগত বিপর্যয়। ফুটবল এক দিনের খেলা নয়, এটা দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ। যেখানে প্রয়োজন অবকাঠামো, পরিকল্পনা, তৃণমূল লিগ, কোচিং, রেফারিং আর একটি সুদৃঢ় ক্লাব কাঠামো। এর কোনোটিই শক্তিশালী অবস্থানে নেই।

গত বছর দেশে সরকারবদলের পর প্রিমিয়ার লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে দুই ক্লাব। ফুটবলারদের বাজারে ধস নেমেছে। কোটি টাকার ফুটবলারের দাম নেমে এসেছে ৪০ লাখে। বহু খেলোয়াড় মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পান, তা–ও নিয়মিত নয়। কান পাতলেই শোনা যায় ফুটবলারদের হাহাকার। তাই হামজা, জামাল, তারিকরা যতই আলো আনুন, সেই আলো আরও স্পষ্ট করে ঘরোয়া ফুটবলের অন্ধকার। ইংল্যান্ড-ডেনমার্ক-কানাডা-ইতালি থেকে আসা প্রতিভারা দলকে শক্তি দিচ্ছেন, কিন্তু দেশের ফুটবলে পায়ের নিচে মাটি নেই।

একটা ফুটবল দল শুধু ফরোয়ার্ড লাইনের ওপর দাঁড়ায় না, দেশের ফুটবলও দাঁড়ায় না শুধু প্রবাসীদের ওপর। কিশোর লিগ, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিযোগিতা, রেফারিদের সম্মান, কোচিংয়ে উন্নয়ন, সঠিক লাইসেন্সিং—এসবই ফুটবল উন্নয়নের আসল ভিত। এই ভিত না থাকলে জাতীয় দলের আলো ক্ষণিকের, যা দীর্ঘদিন টেকে না।

আইজিপি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন, তার বক্তব্য সংবিধান পরিপন্থি: জামায়াত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
আইজিপি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন, তার বক্তব্য সংবিধান পরিপন্থি: জামায়াত
শেয়ার করুন

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ক্রসফায়ার নিয়ে মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলমের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ পুলিশের। পুলিশ নাগরিকদের সেবক, শাসক নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান ব্যক্তি হয়ে আজ ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিকের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে তাহলে আমরা সেটাই করবো’ বলে তিনি তার চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন। আমি তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

 

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে এদেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, বিনাবিচারে মানুষ হত্যা করা হতো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে নাগরিকদের তুলে নিয়ে হত্যা, ক্রসফায়ার ও গুম করতো। সেই একই কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির হুমকি ও ইঙ্গিত দিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। তার এমন বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। সরকার তার বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে আমি আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির মধ্যে আইজিপির এমন বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত। তার বক্তব্য দেশে ভয়ের সংস্কৃতিতে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দেয়। রাষ্ট্রকে আবারও নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্তের নকশা। রাষ্ট্রকে সংকটে ফেলার যে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা সরকারের এবং সরকারদলীয় বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হচ্ছে। দেশে বিএনপির সন্ত্রাসীদের দমন করতে না পারা, চাঁদাবাজি বন্ধ ও মাদক নির্মূল করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতার পরিচয়। নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর
শেয়ার করুন

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতেই তিনি শব্দটি উল্লেখ করেছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকালে রাধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপির বক্তব্যে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও শিরোনাম পুলিশ সদর দপ্তরের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের অপরাধী ও সংঘবদ্ধ হামলাকারীদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চার পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

এতে আরও বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইন, বিশেষ করে দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, আইজিপি মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এ শব্দ ব্যবহার করেননি।

 

একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির মন্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। অসাবধানতাবশত ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

টেকনাফে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে যুবলীগ নেতা খোকনের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় ঠিকাদারের ওপর হামলা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
টেকনাফে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে যুবলীগ নেতা খোকনের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় ঠিকাদারের ওপর হামলা
শেয়ার করুন

টেকনাফে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণকাজে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদার আবু বকর ছিদ্দিকের ওপর দফায় দফায় হামলা, মারধর, গলা চেপে হত্যাচেষ্টা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোকন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এর আগেও ঠিকাদারকে কয়েকবার আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

 

এ ঘটনায় গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকায় দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মাঠে হামলার অভিযোগ এনে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার আবু বকর ছিদ্দিক। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকার বাসিন্দা।

 

এজাহারে আমজাদ হোসেন খোকনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

অভিযুক্ত অপর ৫ জন হলেন, জিয়াউর রহমান, জিল্লুর রহমান, সাকের উল্লাহ, সাইফুল্লাহ ও কামাল হোসেন।

 

অভিযুক্ত খোকন সহ সকলে একাধিক মামলার আসামি।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবু বকর ছিদ্দিক দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উত্তর শীলখালী এলাকায় একটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পান। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি নির্মাণকাজ শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই আমজাদ হোসেন খোকনের নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে খোকন তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে ওই এলাকায় কোনো ঠিকাদারি কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদার। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া এবং প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

 

এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪ অক্টোবর আশ্রয়কেন্দ্রটির ছাদ ঢালাইয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। এ উপলক্ষে সকাল ১০টার দিকে ঠিকাদার আবু বকর ছিদ্দিক তাঁর সহযোগী নুরুল আলম হেলালীকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকায় যান। সেখানে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির, দুর্যোগ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পের জেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে খোকন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ঢালাইয়ের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বলেন। এ সময় ঠিকাদার কাজ বন্ধ করার কারণ জানতে চাইলে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং আগের দাবিকৃত ২০ লাখ টাকা না দিলে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।

 

এজাহারে আরও বলা হয়, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদারকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে হত্যা এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে খোকন মুঠোফোনে তাঁর সহযোগীদের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্য অভিযুক্তরা এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজন দা, কিরিচ ও লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

 

এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ঠিকাদারকে জাপটে ধরে মারধর করেন। তাঁকে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল ও ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। অন্যরা তাঁর হাত-পা চেপে ধরলে খোকন তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর পকেটে থাকা শ্রমিকদের মজুরির জন্য রাখা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।

ঠিকাদার ও শ্রমিকদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় পুনরায় নির্মাণকাজ করতে গেলে তাঁকে অপহরণ করে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

পরে সহকর্মীরা আহত ঠিকাদারকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঠিকাদারের দাবি, ঘটনার ভিডিও মুঠোফোনে সংরক্ষিত রয়েছে এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। এর আগেও তাঁকে কয়েকবার আটকে রেখে হয়রানি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এসব ঘটনার কারণে সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও তাঁর অভিযোগ।

 

এব্যাপারে যুবলীগ নেতা বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকনের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

 

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।