খুঁজুন
, ,

ভারতকে তো হারানো গেল, কোন পথে হামজার বাংলাদেশ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
ভারতকে তো হারানো গেল, কোন পথে হামজার বাংলাদেশ
শেয়ার করুন

রাত ১১টার কাঁটা ছুঁই ছুঁই। সাংবাদিকদের ভরা কক্ষে হামজা চৌধুরী প্রবেশ করতেই করতালিতে ফেটে পড়লেন সবাই। ভারতকে হারানোর আনন্দে মাতোয়ারা সংবাদ সম্মেলন কক্ষ। সামনে বসতেই অভিনন্দন জানানো হলো হামজা চৌধুরীকে, গত রাতে ১–০ গোলে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ককে।

২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি তখনো কাঁপছে। লাল-সবুজের ঢেউয়ে ভেসেছে দেশের ফুটবলতীর্থ। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় শুধুই একটা জয় নয়, এর চেয়েও বেশি কিছু। যখন আপনি জানবেন ভারতের কাছে হারের বা ড্র করার একের পর হতাশার গল্প, যখন জানবেন জিততে জিততে ড্র কিংবা হেরে মন খারাপ করে মাঠ ছাড়ার কাহিনি আছে অনেক, তখন এই জয় শুধু একটি জয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না—হয়ে ওঠে অনেক আবেগময়।

২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে যে আবেগে ভেসেছিল গোটা দেশ; মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে ভারতকে হারিয়ে সাফের ফাইনালে উঠেছিল জর্জ কোটানের বাংলাদেশ। এরপর গত ২২ বছরের দুই দলের ১০ সাক্ষাতে বাংলাদেশ একটি ম্যাচও জেতেনি—৬ ড্র, ৪ হার। প্রায় দুই যুগ পর আবার ভারতকে হারাতে পারল লাল–সবুজের দল। সেদিক থেকে এই জয়ের মাহাত্ম্য অনেক। আর দশটা জয় থেকে পুরোপুরি আলাদা, যেখানে মিশে আছে গর্ব, অপেক্ষা ফুরোনোর তৃপ্তিও।

এমন উৎসবের রাতেই আরেকবার আলোয় উঠে এলেন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া, লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ জেতা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। গতকাল ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের এই ম্যাচে গোল করে হয়তো নায়ক শেখ মোরছালিন, তবে দুরন্ত হেডে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে হামজাও কেড়ে নেন আলো। অবশ্য হাজমার জন্য এ আর নতুন কি! বাংলাদেশের হয়ে আগের ছয় ম্যাচে চার গোল করে আলো ছড়িয়েছেন তো আগেই।

শিলংয়ে ভারতের বিরুদ্ধে দারুণ পারফরম্যান্স, ঢাকায় দ্বিতীয় ম্যাচেই গোল—তারপর হামজা বাংলাদেশ দলের শক্তির নিয়মিত উৎস। ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দুর্দান্ত হেড, হংকং চায়নার বিপক্ষে ফ্রি–কিক, নেপালের বিপক্ষে পেনাল্টি ও অবিস্মরণীয় বাইসাইকেল কিকে গোল। প্রতিটি গোলেই নতুন করে স্বপ্ন দেখানো। হামজা যেন নেমে এসেছেন নতুন আলোর মতো। তাঁকে অনুসরণ করতে, তাঁকে নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করতে লেস্টার সিটির ইউটিউব থেকে প্রতিনিধি এসেছেন ঢাকায়, সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী। তাঁরা ঢাকায় এসে ছায়ার মতো অনুসরণ করেছেন হামজাকে। আর এতে বাংলাদেশের ফুটবলের বিজ্ঞাপন হচ্ছে বিদেশে।

শুধু ‘পোস্টার বয়’ হামজা নন, আজ জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলার সাতজন—জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজী, কাজেম শাহ, হামজা চৌধুরী, ফাহামিদুল ইসলাম, শমিত সোম এবং সর্বশেষ যোগ দিয়েছেন কিউবা মিচেল। তাঁদের আগমন এক নতুন সম্ভাবনার আভাস দিচ্ছে নিঃসন্দেহে। দল হয়েছে শক্তিশালী। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এই বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি সমীহ পাচ্ছে। সেটি শুধু হামজার মতো বিশ্বমানের ফুটবলার আছেন বলেই নয়, একটা দল হয়ে খেলতে পারার কারণেও।

এটিকে বাংলাদেশে ফুটবল–বিপ্লবের পূর্ণতা দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ বলছেন অনেকে। বলতেই পারেন। বাংলাদেশ নিজেদের শক্তিটা দেখিয়েছে। মানুষের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে পেরেছে যে আরও কিছুটা সামনে এগোনো সম্ভব। যদিও বাংলাদেশের আপাতত কোনো ম্যাচ নেই। আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে শেষ ম্যাচ। তারপর বাংলাদেশ কোথায় খেলবে, কোন প্রতিযোগিতায় খেলবে, তা এখনো অজানা।

তবে এটা জানা যে এই বাংলাদেশ লড়াকু—যারা গোল করে ৭৯ মিনিট তা ধরে রাখার দৃঢ়তা দেখাতে পারে। এই বাংলাদেশের খেলা দেখতে মাঠে ছোটেন দর্শক। কালোবাজারিতে ৬০০ টাকার টিকিট বিক্রি হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়। যাঁরা কখনো ফুটবল দেখতেন না, তাঁদের কাছেও ফুটবল এখন বেশ আকর্ষণীয়। ঢাকার রাস্তায় ফুটবল জনতার মিছিল হচ্ছে। কাল ভারত ম্যাচের আগে স্টেডিয়াম এলাকায় তেমন মিছিল দেখে মুগ্ধ হতে হয়েছে। অনেক নারী দর্শক মাঠে যাচ্ছেন ফুটবল দেখতে। সবার মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা, স্বপ্ন আর বিশ্বাস; বাংলাদেশ পারবে।

কিন্তু স্বপ্নের আড়ালে লুকিয়ে আছে কঠিন বাস্তবতা। এই উৎসব সত্ত্বেও কড়া সত্যটি হলো, বাংলাদেশ উঠতে পারেনি ২০২৭ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে। চার দলের গ্রুপে সেরা হতে পারলে তবেই যাওয়া যেত। কিন্তু ঘরের মাঠে হংকং ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভালো খেলেও হার, ভারতে অ্যাওয়ে ম্যাচে সুযোগ পেয়েও ড্রয়ের কারণে হয়নি।

কালকের জয় স্বস্তি দিলেও বড় লক্ষ্য পূরণ হয়নি। হামজা-শমিতের মতো খেলোয়াড় নিয়েও অনেকটা আগেই এশিয়ান কাপের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়া ব্যর্থতাই। ইতিহাসে সেরা শক্তির দল নিয়েও পারল না বাংলাদেশ। যদিও দশ ম্যাচ পর এই প্রথম এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে জয় এসেছে।

সেই আনন্দ নিয়ে কাল রাতে সংবাদ সম্মেলনে হামজা যখন বললেন, সামনে কোনো টুর্নামেন্ট জিততে চান, তবেই ‘পুরোপুরি তৃপ্ত’ হবেন, তখন দেশের ফুটবলের বাস্তব ছবিটা সামনে আসে। সেই বাস্তবতার নাম ঘরোয়া ফুটবলের ভয়াবহ অবস্থা। জাতীয় দল ২২ বছর ধরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে না। এই লম্বা সময়ে দেশে ফুটবল অবকাঠামো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। ভেঙে পড়া ঘরোয়া কাঠামোই বাংলাদেশ ফুটবলের আসল সমস্যা আজও। দেশের প্রিমিয়ার লিগের বেশির ভাগ ক্লাবের নেই নিজস্ব মাঠ, নেই সমর্থক, নেই পৃষ্ঠপোষকতা। ক্লাবগুলো দিন দিন দুর্বল হচ্ছে। ভালো বিনিয়োগ করতে পারছে না। ৯০ শতাংশ ক্লাবে নেই পেশাদারত্ব। ন্যূনতম একটা ওয়েবসাইট পর্যন্ত নেই ক্লাবের। ফুটবলাররা বেতন পান না নিয়মিত। নিচের লিগগুলো অনিয়মিত, অনেক জেলায় ঘরোয়া ফুটবল প্রায় মৃত।

তাই প্রশ্ন আসে, হামজাসহ শুধু প্রবাসীদের আলোয় ভর করে কত দূর যাবে জাতীয় দল? এক-আধ ম্যাচ জয় উৎসব আনে, কিন্তু ঢেকে রাখতে পারে না কাঠামোগত বিপর্যয়। ফুটবল এক দিনের খেলা নয়, এটা দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ। যেখানে প্রয়োজন অবকাঠামো, পরিকল্পনা, তৃণমূল লিগ, কোচিং, রেফারিং আর একটি সুদৃঢ় ক্লাব কাঠামো। এর কোনোটিই শক্তিশালী অবস্থানে নেই।

গত বছর দেশে সরকারবদলের পর প্রিমিয়ার লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে দুই ক্লাব। ফুটবলারদের বাজারে ধস নেমেছে। কোটি টাকার ফুটবলারের দাম নেমে এসেছে ৪০ লাখে। বহু খেলোয়াড় মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পান, তা–ও নিয়মিত নয়। কান পাতলেই শোনা যায় ফুটবলারদের হাহাকার। তাই হামজা, জামাল, তারিকরা যতই আলো আনুন, সেই আলো আরও স্পষ্ট করে ঘরোয়া ফুটবলের অন্ধকার। ইংল্যান্ড-ডেনমার্ক-কানাডা-ইতালি থেকে আসা প্রতিভারা দলকে শক্তি দিচ্ছেন, কিন্তু দেশের ফুটবলে পায়ের নিচে মাটি নেই।

একটা ফুটবল দল শুধু ফরোয়ার্ড লাইনের ওপর দাঁড়ায় না, দেশের ফুটবলও দাঁড়ায় না শুধু প্রবাসীদের ওপর। কিশোর লিগ, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিযোগিতা, রেফারিদের সম্মান, কোচিংয়ে উন্নয়ন, সঠিক লাইসেন্সিং—এসবই ফুটবল উন্নয়নের আসল ভিত। এই ভিত না থাকলে জাতীয় দলের আলো ক্ষণিকের, যা দীর্ঘদিন টেকে না।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।