খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

একা হয়ে গেলেন তারেক রহমান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
একা হয়ে গেলেন তারেক রহমান
শেয়ার করুন

কনকনে ঠাণ্ডার সকাল। কুয়াশাও পড়ছে। হিমশীতল এই দিনে আবালবৃদ্ধবনিতার আরও একটু ঘুমানোর চেষ্টা। কারও আবার ঘুম ভেঙেছে। যারা ঘুম থেকে জেগেছেন, তারা পেলেন গা শিউরে ওঠা দুঃসংবাদ। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে গেলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

 

মুহূর্তেই শোক ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। এভারকেয়ার হাসপাতালে আসতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মী ও জনতা। আগে থেকেই সেখানে ছিলেন পুত্র তারেক রহমান।

 

মায়ের মৃত্যুতে তিনি বড্ড একা হয়ে পড়লেন। নিশ্চয়ই তিনি এই মঙ্গলবার তার সারাজীবনে চাননি। দেশে ফেরার পাঁচদিনের মাথায় হৃদয়বিদারক খবরটি দুমড়েমুচড়ে দিচ্ছে তারেক রহমানকে। হয়তো আমৃত্যুই তাকে পোড়াবে।

 

শেষবারের মতো মায়ের হাসপাতালে যাওয়ার খবর লন্ডনে বসে যখন তারেক রহমান পেলেন, তখন তার ভীষণ মন খারাপের কথা জানা যাচ্ছিল। সেখানকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করছিলেন না। কিছুটা সময় কাটাচ্ছিলেন একান্তে। নিশ্চয়ই তিনি মাকে নিয়ে ভাবছিলেন।

 

 

তার স্মৃতির মানসপটে হয়তো মনে পড়ছিল, দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় মায়ের অবিচল লড়ে যাওয়া। র্দীঘ সময় ধরে দূরে থাকায় মায়ের সেবা করতে না পারা।

 

অথচ বাবা জিয়াউর রহমানকে হারিয়ে মা যখন রাজপথে এলেন, তখন তার পাশেই থেকেছেন তারেক রহমান। সে সময় তারেকের বয়স ছিল খুবই অল্প।

 

কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ হারিয়ে গেলে সেই আঘাত জিয়া পরিবারেও লাগে। ভীষণভাবে লাগে।

 

এই আঘাত তারেক রহমানকে দেশ ছাড়া করে। সইতে হয় শারীরিক-মানসিক নির্যাতন। একই ভাগ্য নেমে এসেছিল ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ক্ষেত্রেও।

 

কোকো তা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন খালেদা জিয়ার ছোটপুত্র। ভাইকে দেখার সুযোগ হয়নি তারেক রহমানের। আর মা খালেদা জিয়া এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে তাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হয়।

 

এর তিন বছরের মাথায় কারাগারে যান খালেদা জিয়া। এই যাত্রায় জিয়া পরিবার ও বিএনপি নেতাকর্মীরা ভেঙে পড়ে। তার পরের অধ্যায়ে খালেদা জিয়ার নানা অসুস্থতার খবর দেশবাসী পায়।

 

গণঅভ্যুত্থানের পরে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে চিকিৎসা নিলে দলের নেতাকর্মীরা আশা দেখছিলেন, তাদের নেত্রী তাদের ছেড়ে যাবেন না সহসাই। ভোট করবেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। প্রকাশ্যে না এলেও আড়ালে থেকে দিক-নির্দেশনা দেবেন।

 

কিন্তু গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে নিয়ে শঙ্কা জাগে। দেশের মানুষের প্রার্থনায় ঠাঁই পান তিনি। এর মাঝে বিদেশে নেয়া, চিকিৎসক নিয়ে আসাসহ সব ধরনের চেষ্টা চালানো হয়।

 

কিন্তু তার শরীর প্রস্তুত ছিল না উড়াল দেয়ার জন্য। হয়তো সৃষ্টিকর্তাও চেয়েছিলেন, তার বিদায় বাংলাদেশের মাটিতেই হোক। কারণ, খালেদা জিয়ার সারাজীবনের আকাঙ্ক্ষা-প্রতিজ্ঞাই তো ছিল এই— ‘আমি দেশ ছেড়ে, দেশের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যাব না। এই দেশই আমার একমাত্র ঠিকানা। দেশের বাইরে আমার কিছু নেই, কোনো ঠিকানাও নেই।’

 

তিনি হয়তো অপেক্ষা করছিলেন ছেলে তারেকের জন্য। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাজসিক প্রত্যাবর্তন দেখতে।

 

সব বাধা কাটিয়ে ছেলে এলেন লাল-সবুজের দেশে। কাড়লেন পুরো দেশের নজর। যা দেশ ছড়িয়ে যায় বিদেশে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।

 

ছুটির দিনেও তারেকের ফেরাকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা অচল হয়ে পড়েছিল। রাস্তায় রাস্তায় সর্বস্তরের মানুষের উপচেপড়া ঢল দেখা গেছে। বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল ৩০০ ফিটে আসতে প্রায় ৭ কিলোমিটারের পথে সময় লাগে দুই ঘণ্টার বেশি।

 

কিন্তু পাঁচদিনের মাথায় তারেক আবারও পরিবারের সদস্য হারানোর বেদনাসিক্ত হলেন। জীবনের কিছুই বুঝে ওঠার আগে ’৮১ সালে পিতাকে হারান তারেক। নির্মম মৃত্যুর এই দৃশ্য কীভাবে আজও ভুলবে তারেক?

 

এরপর ভাইকে নিয়ে মায়ের সাথে লড়ে যান দেশ গড়ার লড়াইয়ে। কিন্তু পথিমধ্যে ভাইকেও হারান। এই মৃত্যুও স্বাভাবিক নয়। নির্যাতনের ক্ষতেই তো দুনিয়া ছাড়েন কোকো।

 

এক দশকের বেশি সময় পর আবার পরিবারের সদস্যের মৃত্যু সংবাদ, এবার এতিম হলেন তারেক রহমান। বাবা বা ভাই হারানোর শোক হয়তো তিনি ভুলতে চেয়েছিলেন ‘আম্মার’ চোখের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু সেই চোখও বুজে গেলো চিরতরে। এই মা হারানো কতটা কষ্টের, কতটা বেদনার, তা কেবল একজন মা-হারা সন্তান-ই জানেন।

 

তবে বিদায়বেলায় তারেককে হয়তো খালেদা জিয়া একটি বার্তা দিয়ে গেলেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও দেশ-দেশের মানুষকে ছেড়ে না যাওয়া, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া। দেশ রক্ষায় ও মানুষের জন্য প্রয়োজনে নিরাপদ জীবনের বদলে কন্টকাকীর্ণ পথ বেছে নেওয়া। একা হয়ে পড়া তারেকের জন্য এ লড়াই নিশ্চয়ই সহজ নয়। কিন্তু পাড়ি যে দিতে হবে দীর্ঘ পথ! সেই পথও যে বন্ধুর, তাও নিশ্চয়ই ‘আম্মা’ তার প্রাণপ্রিয় তারেককে বলে গেছেন।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ নেতা কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ নেতা কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পাঁচ শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তুহিন, কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সম্রাট আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক রনি খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান রাকিব এবং ছাত্রলীগ নেতা সামাদ উল্লাহ।

কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পৌঁছায়নি।

সাকিবকে নিয়ে নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
সাকিবকে নিয়ে নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা
শেয়ার করুন

 

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে নেদারল্যান্ডস। সেই দলের নেতৃত্ব দেবেন স্কট এডওয়ার্ডস। বাংলাদেশ সফরের পর এটি নেদারল্যান্ডসের প্রথম টি-টোয়েন্টি দল। আগের স্কোয়াডের সঙ্গে এই দলে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

দলে ফিরেছেন সাকিব জুলফিকার। গেল বছরের জুলাইয়ের পর থেকে আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচেই খেলেননি তিনি। যার ফলে তার দলে ফেরাটা খানিকটা চমকই উপহার দিয়েছে।

এদিকে রোলোফ ভ্যান ডার মার্ভে, বাস ডি লিডে, মাইকেল লেভিট ও জ্যাক লায়ন-ক্যাশে। তারা সর্বশেষ খেলেছিলেন ইউরোপ অঞ্চল ফাইনালে। ওই টুর্নামেন্টের পর নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিল।

৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার কলিন অ্যাকারম্যানও দলে ফিরেছেন। তিনি সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন। ২০২৫ ভাইটালিটি ব্লাস্টে ডারহামের হয়ে ১৪ ম্যাচে তিনি ৩০৪ রান করেন।

৩৪ বছর বয়সী টিম ভ্যান ডার গুগটেনও দলে জায়গা পেয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের পর প্রথমবার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন। ব্লাস্টে তিনি ১০ ম্যাচে ছয় উইকেট নেন।

মিডিয়াম ফাস্ট বোলার লোগান ভ্যান বেকও ফিরেছেন। তিনি সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে খেলেছিলেন। এরপর নিউজিল্যান্ডের সুপার স্ম্যাশে ওয়েলিংটনের হয়ে সাত ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেন।

কাইল ক্লেইন ও নোয়া ক্রোস এই দলে আছেন। তবে তারা এখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ খেলেননি। নোয়া ক্রোস এডওয়ার্ডসের ব্যাকআপ উইকেটকিপার।

এই দলে নেই তেজা নিডামানুরু, টিম প্রিঙ্গল ও বিক্রমজিৎ সিং। তারা সবাই বাংলাদেশ সিরিজে ছিলেন। একই সঙ্গে বাদ পড়েছেন সেড্রিক ডি লাঙ্গে, সিকান্দার জুলফিকার, সেবাস্তিয়ান ব্রাট, ড্যানিয়েল ডোরাম, শরিজ আহমেদ ও রায়ান ক্লেইন।

দলের প্রধান কোচ রায়ান কুক। সহকারী কোচ হিসেবে আছেন রায়ান ভ্যান নিইকার্ক ও হেইনো কুন।

বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এ’-তে খেলবে নেদারল্যান্ডস। তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে। নামিবিয়ার বিপক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১৩ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ১৮ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদে।

নেদারল্যান্ডস দল–
স্কট এডওয়ার্ডস, নোয়া ক্রোস, ম্যাক্স ও’ডাউড, সাকিব জুলফিকার, আরিয়ান দত্ত, কাইল ক্লেইন, পল ভ্যান মিকারেন, ফ্রেড ক্লাসেন, কলিন অ্যাকারম্যান, বাস ডি লিডে, মাইকেল লেভিট, জ্যাক লায়ন-ক্যাশে, লোগান ভ্যান বেক, রোলোফ ভ্যান ডার মার্ভে ও টিম ভ্যান ডার গুগটেন।

শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট এস এ আল মোমেন, আবারও শ্রেষ্ঠ গ্রুপ কক্সবাজার সরকারি কলেজ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট এস এ আল মোমেন, আবারও শ্রেষ্ঠ গ্রুপ কক্সবাজার সরকারি কলেজ
শেয়ার করুন

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলা ও সদর উপজেলা পর্যায়ে বিএনসিসি শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট পদবী অর্জন করেছেন কক্সবাজার সরকারি কলেজ বিএনসিসি নৌ শাখার প্লাটুন ইনচার্জ ক্যাডেট আন্ডার অফিসার এস এ আল মোমেন।

একই সঙ্গে টানা ৮ম বারের মতো শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি গ্রুপ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে কক্সবাজার সরকারি কলেজ বিএনসিসি নৌ শাখা। শিক্ষা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে ধারাবাহিক সাফল্য ও সক্রিয় অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কক্সবাজার সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, ক্যাডেট এস এ আল মোমেনের নিষ্ঠা, নেতৃত্বগুণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অন্যান্য ক্যাডেটদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে নৌ শাখার ধারাবাহিক সাফল্য কলেজের সুনাম বৃদ্ধি করেছে।

এই অর্জনে কলেজ প্রশাসন, বিএনসিসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে।