ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে ‘গোপন’ বৈঠকের কথা জানালেন জামায়াত আমীর
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পর ঐক্যমত্যের সরকার বা ‘ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ গঠনে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৩১শে ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এ কথা জানান। এই সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি বছরের শুরুর দিকে এক ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে তার বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামায়াত আমির দাবি করেছেন, ভারতীয় ওই কূটনীতিকই তাকে বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছেন। এজন্য এটি গোপন রাখা হয়েছে।
বুধবার (৩১শে ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এ কথা জানান। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পর ঐক্যমত্যের সরকার বা ‘ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ গঠনে নিজেদের আগ্রহের কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শফিকুর রহমান জানান, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা তার সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা করলেও, ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের সবার প্রতি এবং একে অপরের প্রতি উন্মুক্ত হতে হবে এবং সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও, ভারত সরকারের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এছাড়া শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, তারা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল দেশ দেখতে চান এবং দলগুলো একত্রিত হলে তারা মিলেমিশে সরকার পরিচালনা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো ঐক্যমত্যের সরকারের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন হতে হবে একটি যৌথ এজেন্ডা।
সরকার প্রধান নির্বাচনের বিষয়ে তিনি জানান, যে দল সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হবে, প্রধানমন্ত্রী তাদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হবেন। পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং কোনো নির্দিষ্ট একটি দেশের দিকে ঝুঁকতে আগ্রহী নন।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন যে, জামায়াত অন্তর্ভুক্ত কোনো সরকার তার সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না। এ বিষয়ে বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। জনমত জরিপ বলছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপির পরেই দ্বিতীয় শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারে জামায়াত।

আপনার মতামত লিখুন