রামু-উখিয়া রুটের আন্ডারগ্রাউন্ড ‘ইয়াবা কিং’ মরিচ্যার কামাল
রামু ও উখিয়া অঞ্চলে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে দাপটের সঙ্গে ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছেন কথিত শীর্ষ মাদক কারবারি কামাল। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন ‘অঘোষিত ইয়াবা কিং’ হিসেবেই পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি আজও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন
অনুসন্ধানে জানা যায়, কামালের অপরাধ জগতের উত্থান নতুন নয়। তার পিতাও একসময় কালোবাজারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অবৈধ পথে নিষিদ্ধ পণ্য পাচার ও চোরাচালানই ছিল তার প্রধান পেশা। সেই পথ ধরেই কামালের অপরাধ জগতে প্রবেশ। শুরুতে অবৈধ সিগারেট, মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান করলেও একপর্যায়ে তিনি জড়িয়ে পড়েন ইয়াবা কারবারে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ইয়াবা ব্যবসায় নামার পরই কামালের ভাগ্যের চাকা দ্রুত ঘুরতে থাকে। চুনোপুঁটি কারবারি থেকে তিনি বর্তমানে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। কক্সবাজার শহর, রামু ও উখিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে তার নামে–বেনামে দোকান, ফ্ল্যাট, বাড়ি ও জমিসহ বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সংস্থার তথ্যমতে, উখিয়া ও রামু এলাকার শীর্ষ ইয়াবা কারবারিদের অন্যতম কামাল। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের একাধিক পয়েন্ট ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা দেশে ঢুকছে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী, কুতুপালং ও কোটবাজার এলাকায় তার সহযোগীদের মাধ্যমে কারবার পরিচালিত হয় বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি।
সূত্র জানায়, মরিচ্যা এলাকার পাগলিরবিল সড়কের মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা ভবনকে তার ইয়াবা কারবারের মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে রাতে সিন্ডিকেটের সদস্যরা জড়ো হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের পরিকল্পনা ও সমন্বয় করেন।
এ ছাড়া তার বাড়ি ও উক্ত ভবনে ইয়াবা মজুত করে সিএনজি ও অন্যান্য পরিবহনের মাধ্যমে স্থানীয় ও বাইরের কারবারিদের কাছে সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কামাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাসে প্রায় এক হাজার কাট বা প্রায় এক কোটি পিস ইয়াবা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এসব ইয়াবা কক্সবাজার ও রামু হয়ে চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বশেষ শীর্ষ ইয়াবা কারবারির তালিকায় কামালের নাম উঠে এসেছে। যদিও এর আগে একটি তালিকা থেকে তিনি নাম বাদ দিতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক, বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি এবং নানা কৌশলের কারণে তিনি বারবার গ্রেপ্তার এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে কামালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে পরিবহন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নয় বলে জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মাদকের ভয়াল থাবায় আরও গভীর সংকটে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন