খুঁজুন
, ,

একবছরে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণীর পরিবারে এসেছে শতাধিক নতুন অতিথি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
একবছরে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণীর পরিবারে এসেছে শতাধিক নতুন অতিথি

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":4},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

শেয়ার করুন

একবছরে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণীর পরিবারে এসেছে শতাধিক নতুন অতিথি

মাতৃত্বকালীন সময়ে কোলাহল মুখর পরিবেশ এড়িয়ে নিবিড় পরিচর্যায় কোয়ারান্টাইনে রেখে সেবা দেয়ার

সুফল হিসেবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রাণীকুলে বেড়েছে ব্যাপক প্রজনন সক্ষমতা। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বারোমাসে সাফারি পার্কের শতাধিক প্রাণীর সংসারে চমকে উঠার মতো বংশবিস্তার ঘটেছে। এরইমধ্যে পার্কের অন্যতম আকর্ষণ জ্রেবা জলহস্তী ও নীলগাই পরিবারে এসেছে নতুন শাবক।

 

একদিকে অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশে বদলে যাচ্ছে সাফারি পার্কের পর্যটন স্পটসমুহ। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের নিবিড় তদারকিতে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে রাখা প্রাণীকুলে এসেছে একের পর এক নতুন অতিথি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তেমন রোগবালাই না থাকায় পার্কের বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর সংসারে সুস্থভাবে শতাধিক নতুন অথিতি (শাবক) জন্ম নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পার্কের রেঞ্জ অফিসার মোঃ মনজুরুল আলম।

 

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (রেঞ্জ অফিসার) মোঃ মনজুরুল আলম বলেন, বিগত বছরের

জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সাফারি পার্কের বিভিন্ন অবকাঠামোত উন্নয়ন কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় সাফারি পার্কের নির্ধারিত বেস্টনীর প্রাণী ছাড়া সন্তানসম্ভবা বেশিরভাগ প্রাণীকে মাতৃত্বকালীন সময়ে কোলাহলমুক্ত পরিবেশ এড়িয়ে নিবিড় পরিচর্যায় কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়। ফলে এই প্রচেষ্টার সুফল হিসেবে একবছরে সাফারি পার্কের প্রাণীকুলে এসেছে একের পর নতুন অতিথি।

 

জন্ম নেয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে চার গয়াল শাবক। আগে থেকে আছে ২২টি গয়াল। নিরীহ তৃণভোজী প্রাণী গয়ালের প্রধান খাবার ঘাস। গয়াল আট মাসে প্রজননে সক্ষম। পার্কে আগে থেকে নীলগাই আছে দুটি। এবছর জন্ম দিয়েছে একটি পুরুষ শাবক। বয়স দুইমাস অতিক্রম করেছে। একইভাবে সাফারি পার্কে আগে থেকে জেব্রা আছে ৬টি। নতুন জন্ম হয়েছে দুটি। এখন জেব্রা পরিবারে সদস্য সংখ্যা দাড়িয়েছে আটে। এই প্রাণীকে দিনে একবেলা ভুষি ও দু্বেলা সবজি খেতে দিতে হয়। জলহস্তী আছে ১০টি। এবছর জন্ম দিয়েছে একটি শাবক। তিনমাস বয়সী শাবকটি এখন মায়ের সঙ্গে বেস্টনীতে ঘুরেফিরে বেড়ে উঠছে। তৃণভোজী প্রাণী জলহস্তির খাদ্য হিসেবে দিতে হয় ঘাস ও সবজি।

সাফারি পার্কের ৫৫ হেক্টর জমির বিশাল বেস্টনীতে আগে থেকে আছে তিনটি ওয়াইল্ডবিস্ট। তৎমধ্যে একটি স্ত্রী লিঙ্গের। এবছর তাদের সংসারে এসেছে দুটি শাবক। পার্কের বেস্টনীতে আগে থেকে আছে ৪৩টি চিত্রা হরিণ ও ৬টি মায়া হরিণ। এবছর নতুন এসেছে ৬টি চিত্রা হরিণ শাবক। ইতোমধ্যে এসব হরিণ শাবকের বয়স চারমাস পেরিয়েছে। পাশাপাশি বন মোরগ, ময়ুর, কালিমপাখী এবছরও ব্যাপক প্রজনন সক্ষমতা দেখিয়েছে।

 

সাফারি পার্কের রেঞ্জ অফিসার মনজুরুল আলম বলেন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে এবছর সুদুর আফ্রিকা থেক কার্গো বিমানে করে আনা হয়েছে তিনটি বাঘ। এই তিনটি বাঘের বয়স এখন ১৫ থেকে ১৮ মাস। টানা ২১ দিন নিবিড় পরিচর্যায় কোয়ারান্টাইনে পর্যবেক্ষণে রাখার পর ইতোমধ্যে বাঘগুলোকে বেস্টনীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

পার্কে আগে থেকে চারটি বাঘ রয়েছে, যার মধ্যে দুটি পুরুষ ও দুটি নারী বাঘ। নতুন করে সংগ্রহ করা তিনটির মধ্যে রয়েছে দুটি নারী ও একটি পুরুষ বাঘ। এখন ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে মোট বাঘের সংখ্যা দাঁড়াল সাতটি।

এছাড়াও পার্কের বেস্টনীতে মিঠাপানির কুমির আছে ১৯টি ও নোনা পানির কুমির আছে ১১টি। কুমির গুলোকে সপ্তাহে একবার খাবার দেওয়া হয়। ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আগে থেকে রয়েছে তিনটি সিংহ, প্রশিক্ষতি একাধিক হাতি, ভাল্লুক, বিপুল পরিমাণ বানর, অজগর সাপ, লামচিতা, শকুন, ধনেশ, বন গরু, কচ্ছপ, পাখির মধ্যে শকুন, রাজ ধনেশ, ইগল, সাদা বক, রঙ্গিলা বক, সারস, কাস্তে চরা, মথুরা, নিশিবক, কানিবকসহ নানা ধরনের দেশি-বিদেশি প্রাণী রয়েছে। এসবের মধ্যে অনেক প্রজাতির প্রাণী বর্তমানে বাংলাদেশের বনাঞ্চল থেকে বিপন্ন বা বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

 

সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাতৃত্বকালীন সময়ে আমরা সন্তানসম্ভবা প্রাণীগুলোকে প্রতিবছর নিবিড় পরিচর্যা রেখে দেখভাল করি। চেষ্টা করি কোলাহলমুক্ত পরিবেশ থেকে তাদেরকে সরিয়ে নিয়ে নীরব এরিয়ায় রাখতে। এরই ফলশ্রুতিতে পার্কের বেশিরভাগ প্রাণী এবছর ভালো বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

 

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, প্রজনন মৌসুমে জন্ম নেয়া বেশিরভাগ প্রাণীকে পার্কের ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসক সহকর্মীরা নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে তুলছেন। সেইজন্য পার্কের ভেটেরিনারী বিভাগের সবাই কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, জন্ম নেওয়া প্রাণী যাতে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে, সেইজন্য পার্কের ভেটেরিনারী বিভাগের চিকিৎসক কর্মকর্তা সবাইকে যত্নসহকারে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছি।

 

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দয্যের লীলাভূমি কক্সবাজার জেলার প্রবেশদ্বার চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই পার্ক। পার্কটি মূলত বিলুপ্তপ্রায় এবং বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রজননের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অবশ্য তাঁর আগে ১৯৮০-৮১ সালে এটি একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে শুরু হয় এবং পরে এটি দেশের প্রথম সাফারি পার্ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, যা পরবর্তীতে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক নামেও পরিচিত হয়।

এরপর থেকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধিসহ মানুষের চিত্ত বিনোদন, গবেষণা ইত্যাদি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেসময় সরকার কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে স্থাপন করেন দেশের প্রথম “এই সাফারি পার্ক”।

 

সেই থেকে সাফারি পার্কে ভ্রমনে আসা দেশ-বিদেশী পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে রয়েছে হাজার প্রজাতির দেশি-বিদেশী পশু-পাখি। সাফারি পার্ক ও চিড়িয়াখানার মধ্যে পার্থক্য হলো-সাফারী পার্কে পশুপাখি থাকে মুক্ত পরিবেশে আর দর্শনার্থীরা থাকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে। তবে এখনো সাফারি পার্কের প্রাণীগুলো রাখা হচ্ছে নির্ধারিত বেস্টনীতে।

 

পার্কের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বরাদ্দে ১২৬ কোটি টাকার বিপরীতে মেগাউন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চারবছর আগে ২০২১ সালে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়। নানাবিধ জটিলতায় গৃহীত মেগাউন্নয়ন প্রকল্পের ১২৬ কোটি টাকার সিংহভাগ বরাদ্দ বাতিল হলেও এখনো ওই প্যাকেজের আওতায় সুচারুভাবে অনেকগুলো অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে। কাজগুলো বাস্তবায়ন করা শেষ হলে আগামী কয়েকবছরের মধ্যে উন্নতদেশের আদলে একটি পুনার্ঙ্গ সাফারি পার্কে উপনীত হবে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’