খুঁজুন
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২

অবহেলায় পড়ে আছে ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফের কবর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
অবহেলায় পড়ে আছে ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফের কবর
শেয়ার করুন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া গ্রামে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের আন্দোলনে পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দাঁড়ানো অকুতোভয় ভাষাসৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফ হোসেনের সমাধি। স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের এই সাহসী সৈনিকের সমাধিস্থল সংরক্ষণে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

 

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাগজপত্র জমা নিয়ে সমাধিস্থলটি সংরক্ষণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে সমাধিস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাউফলের ধুলিয়া গ্রামে তেতুলিয়া নদীর তীরে পরিবারের সদস্যদের পাশেই ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফের কবর। সমাধিস্থলের চারপাশে বড় কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় গরু-ছাগল অবাধে চলাচল করতে পারে। লতাপাতায় ঢেকে জরাজীর্ণ সমাধির ওপর জমেছে ধুলোবালি। পাশেই কাঠের দুটি খুঁটির সঙ্গে টানানো ভাঙাচোরা একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে শুধু নাম-পরিচয়।

 

জাতির এমন এক গর্বিত সূর্যসন্তানের সমাধিস্থলের করুণ অবস্থা এবং সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

 

সৈয়দ আশরাফ হোসেন ১৯২৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্থানীয় ধুলিয়া বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তিনি ভাষা আন্দোলনে প্রথম সারির সক্রিয় সংগঠক হিসেবে যুক্ত হন। ১৯৬৫ সালে পটুয়াখালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৮ সালের ৩ মে তিনি ইন্তেকাল করেন।

 

স্থানীয়রা জানান, সৈয়দ আশরাফ হোসেন পটুয়াখালী জেলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। কিন্তু নতুন প্রজন্ম তার সম্পর্কে খুব কমই জানে। তরুণদের কাছে তার অবদান তুলে ধরতে এবং একজন ভাষা সৈনিকের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সৈয়দ আশরাফের স্মৃতি রক্ষার্থে সমাধি কমপ্লেক্স, স্মৃতিফলক ও একটি স্মৃতি পাঠাগার নির্মাণ করা হোক।

 

স্থানীয় কলেজ ছাত্র হুজাইফা ইসলাম বলেন, তার সমাধিস্থলটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এমন একজন ভাষা সৈনিকের বর্ণাঢ্য জীবনের ইতিহাস ও সংগ্রামের গল্প তরুণ প্রজন্মের নিকট তুলে ধরতে একটি স্মৃতি পাঠাগার নির্মাণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

 

ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সৈয়দ আশরাফ হোসেনের স্মৃতি সংরক্ষণে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও ভবিষ্যতে তার সমাধি সংরক্ষণে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

 

সৈয়দ আশরাফের ছেলে সৈয়দ মাইনুল হাসান সুমন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার বাবাসহ আমাদের পরিবারের দেশের প্রতি অনেক অবদান রয়েছে। দেশের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ায় ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে আমাদের বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছিল। বাবা একজন ভাষা সৈনিক ছিলেন, ছিলেন ’৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা, এমপি হয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে কখনোই কিছু প্রত্যাশা করিনি, পাইওনি। শুধুমাত্র একবার জেলা প্রশাসন থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, তাও চরম অব্যবস্থাপনা ছিল—ক্রেস্টে অনেক ভুল ছিল।

 

সমাধির বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত তেতুলিয়া নদীর তীরে আমাদের পারিবারিক সমাধিস্থল অবস্থিত। আমাদের বাগানের প্রায় অর্ধেক নদীতে ভেঙে গেছে। যদিও এখন ভাঙন স্থির রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে নদীভাঙনের এক পর্যায়ে সমাধিস্থল বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো এপ্লিকেশন দেইনি। দুই বছর আগে সমাধিস্থল সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেই যোগাযোগ করে বিভিন্ন কাগজপত্র নেওয়া হয়েছিল। শুনেছিলাম প্ল্যানও পাশ হয়েছিল। অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল- আমার বড় ভাই স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু এরপর এখন পর্যন্ত আর কোনো সংবাদ পাইনি।’

 

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আসলে আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। আমি এখানে যোগদানের পর তাদের পরিবারের কেউ আসেননি। আমি আজই খোঁজ-খবর নেব। পরিবারকে যদি এর আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকে, ইনশাল্লাহ আমরা তা বাস্তবায়ন করব। এখানে যদি কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে, সেটি আমরা যাচাই করব এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলব। আগের পরিকল্পনাটি যথাযথ হলে সেটিই বাস্তবায়ন করব, আর প্রয়োজন হলে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আরও সুন্দরভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কোরআন পড়ানো শিক্ষক আবদুল্লাহ হাজি মারা গেছেন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ
কোরআন পড়ানো শিক্ষক আবদুল্লাহ হাজি মারা গেছেন
শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে মদিনার মসজিদে নববীতে পবিত্র কুরআন ও ১০ কিরাআত শিক্ষাদানে নিবেদিত প্রখ্যাত শিক্ষক শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজি মরা গেছেন। ইসলামী জ্ঞানচর্চার এ বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।ইসলামী জ্ঞান বিতরণে নিবেদিতপ্রাণ এ শিক্ষক যখন মসজিদে নববীতে পাঠদান শুরু করেছিলেন, তখন সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বেশ অভাব ছিল। মসজিদের মেঝেতে কার্পেট বিছানোর অনেক আগে, কেবল কাঁকর বিছানো মেঝেতেই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ছাত্রদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। সময়ের পরিক্রমায় মসজিদে নববীর ব্যাপক সম্প্রসারণ আধুনিকায়ন হলেও, তার এই দারস বা পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত ছিল অবিরাম গতিতে। ও

শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজির দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠা ছিল রীতিমতো কিংবদন্তিতুল্য। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, সুদীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি কখনো কোনো ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেননি। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল তার নিজের বোন মারা যাওয়ার দিনটি। তবে সেদিনও বোনের জানাজা ও দাফনকার্য সম্পন্ন করেই তিনি দ্রুত ফিরে এসেছিলেন তার প্রিয় শিক্ষার্থীদের মাঝে এবং আগের মতোই পাঠদান শুরু করেছিলেন। কুরআনের প্রতি তার এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সাধনার দৃষ্টান্ত মদিনায় আজও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তার এই দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি তৈরি করেছেন অসংখ্য যোগ্য শিক্ষার্থী। তার কাছে শিক্ষা গ্রহণকারী অনেকেই পরবর্তীকালে সুপরিচিত ক্বারি, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীনি দাওয়াতের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।ৱ

শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজির এ অসামান্য শিক্ষা ও অবদান শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা ইসলামী সমাজে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে বিস্তৃত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন

১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে: চীনা রাষ্ট্রদূত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ
১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে: চীনা রাষ্ট্রদূত
শেয়ার করুন

সচিবালয়ে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে ১০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসহ কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে কর্মরত প্রায় এক হাজার চীনা কোম্পানিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভাষা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।’

 

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যৌথ উদ্যোগে চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এ বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও এই কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, দুই দেশ মিলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো পরিদর্শন করে কারিকুলাম আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী কোর্স ও প্রশিক্ষণ কাঠামো পুনর্বিন্যাস করবে।

 

চীনা ভাষা প্রসারে প্রাথমিকভাবে ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩০০টি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ব্রডকাস্টিং সেন্টার স্থাপন এবং ল্যাবে আধুনিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত একটি পাইলট প্রকল্প চলমান রয়েছে।

 

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক হল নির্মাণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে চীনের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং চীনা বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্বকাপ দলে ফেরার স্বপ্নে হোঁচট খেলেন নেইমার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপ দলে ফেরার স্বপ্নে হোঁচট খেলেন নেইমার
শেয়ার করুন

আগামী জুন-জুলাইয়ে মাঠে গড়াবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক আসরের জন্য সব দলই এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে পুরোদমে। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলও ছয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তবে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ দলে ফেরার অভিযানে বড়সড় একটা হোঁচট খেলেন নেইমার জুনিয়র।

 

একের পর এক চোটের কারণে ২০২৩ সালের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে দলে ফিরতে হলে নেইমারকে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর আসন্ন আসরে দলে জায়গা পেতে লড়াইয়ে নেমেছেন ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

 

সে হিসেবে বলা চলে নেইমারের জন্য এখন সামনের প্রত্যেকটা দিন, প্রত্যেকটা ম্যাচ একেকটা ফাইনাল ম্যাচ। তবে জাতীয় দলে ফেরার অভিযানে বড়সড় একটা হোঁচট খেলেন সেলেসাও তারকা। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পাউলিস্তা চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে সিরি বি’র দল গ্রেমিও নোভোরিজোন্তিনোর কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে তার ক্লাব সান্তোস।

 

প্রতিপক্ষের মাঠে এদিন দলের প্রথম গোলটি হজমের জন্য সরাসরি দায়ী ছিলেন নেইমার। বিরতির ঠিক আগে এই ফরোয়ার্ড রক্ষণভাগে বল হারালে রোমুলো গোল করে গ্রেমিও নোভোরিজোন্তিনোকে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়া সান্তোসকে দ্বিতীয়ার্ধের ২০তম মিনিটে সমতায় ফেরান গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো। তবে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে লিও নালদি স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করেন।

 

যদিও বল দখলে এগিয়ে ছিল সান্তোসই। তাই হতাশাজনক হারের পর নেইমার সমালোচনার মুখে পড়েছেন। নিজের ভুলের দায় সঙ্গে সঙ্গেই স্বীকার করেন নেইমার। টিভি সম্প্রচারে দেখা যায়, তিনি সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছেন। সফরকারী দলের হয়ে আদোনিস ফ্রিয়াস ও আলভারো বাররেয়াল শুরু থেকে খেলেন, আর বেঞ্চে ছিলেন বেঞ্জামিন রোলহাইজার।

 

আগামী মার্চের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য ঠিক করলেও সেই স্বপ্নে কিছুটা হলেও ধাক্কা খেলেন নেইমার। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি সোজাসুজিই জানিয়ে দিয়েছেন, নামের ভারে দলে জায়গা মিলবে না। চোটমুক্ত হয়ে পারফর্ম করেই দলে ফিরতে হবে নেইমারকে। পাউলিস্তার পারফরম্যান্স সেই সম্ভানা আরও ধূসর করে তুলল।