খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

অবহেলায় পড়ে আছে ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফের কবর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
অবহেলায় পড়ে আছে ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফের কবর
শেয়ার করুন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া গ্রামে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের আন্দোলনে পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দাঁড়ানো অকুতোভয় ভাষাসৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফ হোসেনের সমাধি। স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের এই সাহসী সৈনিকের সমাধিস্থল সংরক্ষণে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

 

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাগজপত্র জমা নিয়ে সমাধিস্থলটি সংরক্ষণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে সমাধিস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাউফলের ধুলিয়া গ্রামে তেতুলিয়া নদীর তীরে পরিবারের সদস্যদের পাশেই ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফের কবর। সমাধিস্থলের চারপাশে বড় কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় গরু-ছাগল অবাধে চলাচল করতে পারে। লতাপাতায় ঢেকে জরাজীর্ণ সমাধির ওপর জমেছে ধুলোবালি। পাশেই কাঠের দুটি খুঁটির সঙ্গে টানানো ভাঙাচোরা একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে শুধু নাম-পরিচয়।

 

জাতির এমন এক গর্বিত সূর্যসন্তানের সমাধিস্থলের করুণ অবস্থা এবং সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

 

সৈয়দ আশরাফ হোসেন ১৯২৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্থানীয় ধুলিয়া বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তিনি ভাষা আন্দোলনে প্রথম সারির সক্রিয় সংগঠক হিসেবে যুক্ত হন। ১৯৬৫ সালে পটুয়াখালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৮ সালের ৩ মে তিনি ইন্তেকাল করেন।

 

স্থানীয়রা জানান, সৈয়দ আশরাফ হোসেন পটুয়াখালী জেলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। কিন্তু নতুন প্রজন্ম তার সম্পর্কে খুব কমই জানে। তরুণদের কাছে তার অবদান তুলে ধরতে এবং একজন ভাষা সৈনিকের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সৈয়দ আশরাফের স্মৃতি রক্ষার্থে সমাধি কমপ্লেক্স, স্মৃতিফলক ও একটি স্মৃতি পাঠাগার নির্মাণ করা হোক।

 

স্থানীয় কলেজ ছাত্র হুজাইফা ইসলাম বলেন, তার সমাধিস্থলটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এমন একজন ভাষা সৈনিকের বর্ণাঢ্য জীবনের ইতিহাস ও সংগ্রামের গল্প তরুণ প্রজন্মের নিকট তুলে ধরতে একটি স্মৃতি পাঠাগার নির্মাণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

 

ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সৈয়দ আশরাফ হোসেনের স্মৃতি সংরক্ষণে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও ভবিষ্যতে তার সমাধি সংরক্ষণে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

 

সৈয়দ আশরাফের ছেলে সৈয়দ মাইনুল হাসান সুমন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার বাবাসহ আমাদের পরিবারের দেশের প্রতি অনেক অবদান রয়েছে। দেশের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ায় ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে আমাদের বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছিল। বাবা একজন ভাষা সৈনিক ছিলেন, ছিলেন ’৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা, এমপি হয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে কখনোই কিছু প্রত্যাশা করিনি, পাইওনি। শুধুমাত্র একবার জেলা প্রশাসন থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, তাও চরম অব্যবস্থাপনা ছিল—ক্রেস্টে অনেক ভুল ছিল।

 

সমাধির বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত তেতুলিয়া নদীর তীরে আমাদের পারিবারিক সমাধিস্থল অবস্থিত। আমাদের বাগানের প্রায় অর্ধেক নদীতে ভেঙে গেছে। যদিও এখন ভাঙন স্থির রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে নদীভাঙনের এক পর্যায়ে সমাধিস্থল বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো এপ্লিকেশন দেইনি। দুই বছর আগে সমাধিস্থল সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেই যোগাযোগ করে বিভিন্ন কাগজপত্র নেওয়া হয়েছিল। শুনেছিলাম প্ল্যানও পাশ হয়েছিল। অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল- আমার বড় ভাই স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু এরপর এখন পর্যন্ত আর কোনো সংবাদ পাইনি।’

 

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আসলে আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। আমি এখানে যোগদানের পর তাদের পরিবারের কেউ আসেননি। আমি আজই খোঁজ-খবর নেব। পরিবারকে যদি এর আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকে, ইনশাল্লাহ আমরা তা বাস্তবায়ন করব। এখানে যদি কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে, সেটি আমরা যাচাই করব এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলব। আগের পরিকল্পনাটি যথাযথ হলে সেটিই বাস্তবায়ন করব, আর প্রয়োজন হলে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আরও সুন্দরভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামছেন জেলেরা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামছেন জেলেরা
শেয়ার করুন

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে দেশের নদ-নদীতে আবারও ইলিশ ধরা শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর জেলে পাড়াগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ ও নদীতে নামার শেষ প্রস্তুতি চলছে।

 

এর আগে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলাসহ ছয় জেলার পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ ও সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। এই সময়ে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের অভিযান প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ইলিশ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলে পাড়াগুলোতে নৌকা মেরামত, জাল সেলাই এবং ইঞ্জিন প্রস্তুতের কাজ শেষ করে নদীতে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলেরা। তবে অনেকে ঋণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন।

 

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালাতে এবং নৌকা-জাল মেরামতে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন নদীতে মাছ না পেলে তারা আর্থিক সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।

 

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, দুই মাসে অভয়াশ্রম এলাকায় কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বহু জেলেকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে জাটকা রক্ষা ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য বিজিএফ চালসহ খাদ্য সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।

প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর 

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর 
শেয়ার করুন

প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর

‎প্রবাসী  আব্দুল্লাহর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল নিয়ে দেশে এসে নিখোঁজ রয়েছেন রহমতুল্লাহ নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী, অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ তার পরিচিত প্রবাসী রহমতুল্লাহর মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের জন্য কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র পাঠান। এসবের মধ্যে ছিল একটি আইফোন, একটি সোনার চেইন, দুটি দামী ঘড়ি, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, অন্যান্য দামী আসবাবপত্র এবং প্রায় ১৫ হাজার সৌদি রিয়াল।

‎জানা গেছে, রহমতুল্লাহর স্ত্রী প্রবাসে গিয়ে প্রায় তিন মাস অবস্থান করার পর দেশে ফেরার সময় এসব মালামাল তার হাতে তুলে দেন আব্দুল্লাহ, যাতে তিনি সেগুলো আব্দুল্লাহর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। কিন্তু দেশে আসার পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি।

‎অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ জানান, একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রহমতুল্লাহ ফোন বন্ধ করে দেন এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে রহমতুল্লাহর স্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে আব্দুল্লাহ,

‎এ ঘটনায় রহমতুল্লাহর দেশের বাড়ির ঠিকানা বা অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হলে তা ভুল বলে জানা যায়। বর্তমানে রহমতুল্লাহ সৌদি আরবে অবস্থান করলেও তিনি কোনোভাবেই আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না।

‎এদিকে, রহমতুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ।

ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট
শেয়ার করুন

দেশের বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে মোট ভোটারের ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন ৬৬ শতাংশ ভোটারই।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন কালবেলাকে জানান, প্রথম দিনে ভোট দেন দুই হাজার ৭৫৯ জন। আর দ্বিতীয় দিনে ভোট দেন চার হাজার ৩১০ জন আইনজীবী।

 

তিনি আর বলেন, সবমিলে দুই দিনে সাত হাজার ৬৯ জন আইনজীবী নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটার ২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবী।

 

অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন হয়েছে খুবই উৎসবমুখরভাবে। ভোটাররা যেন ভালোভাবে ভোট দিতে পারে তার জন্য বুথ বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

ফলাফলের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আগামীকাল জুমার নামাজের পর ভোট গণনা শুরু হবে। ভোটার স্লিপগুলো ঠিকভাবে সিরিয়াল করে গণনা শুরু হবে। সেক্ষেত্রে শুক্রবার রাত অথবা শনিবার সকালে ফলাফল ঘোষণা হতে পারে।

 

এদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনে গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হয় ভোটগ্রহণ হয়। দুই দিনেই বৃষ্টির মাঝেই আইনজীবীরা ভোট দিতে আসেন।

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে ভোটগ্রহণ হয়। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

উভয় প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ছাড়াও স্বতন্ত্র আটজন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

তবে নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সমর্থিত সাদা প্যানেল। প্যানেল না থাকলেও আওয়ামী সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চাইলে মনোনয়ন নিতে বাঁধার সম্মুখীন হন বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন কয়েকজন আইনজীবী।

 

নির্বাচনে বিএনপি জোট নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপর দিকে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১১ জোটের সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক লড়ছেন।

 

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা।

 

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। এতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এরপর থেকেই তারা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।