খুঁজুন
, ,

অবহেলায় পড়ে আছে ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফের কবর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
অবহেলায় পড়ে আছে ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফের কবর
শেয়ার করুন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া গ্রামে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের আন্দোলনে পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দাঁড়ানো অকুতোভয় ভাষাসৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফ হোসেনের সমাধি। স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের এই সাহসী সৈনিকের সমাধিস্থল সংরক্ষণে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

 

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাগজপত্র জমা নিয়ে সমাধিস্থলটি সংরক্ষণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা আর বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে সমাধিস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাউফলের ধুলিয়া গ্রামে তেতুলিয়া নদীর তীরে পরিবারের সদস্যদের পাশেই ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফের কবর। সমাধিস্থলের চারপাশে বড় কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় গরু-ছাগল অবাধে চলাচল করতে পারে। লতাপাতায় ঢেকে জরাজীর্ণ সমাধির ওপর জমেছে ধুলোবালি। পাশেই কাঠের দুটি খুঁটির সঙ্গে টানানো ভাঙাচোরা একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে শুধু নাম-পরিচয়।

 

জাতির এমন এক গর্বিত সূর্যসন্তানের সমাধিস্থলের করুণ অবস্থা এবং সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

 

সৈয়দ আশরাফ হোসেন ১৯২৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্থানীয় ধুলিয়া বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তিনি ভাষা আন্দোলনে প্রথম সারির সক্রিয় সংগঠক হিসেবে যুক্ত হন। ১৯৬৫ সালে পটুয়াখালী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৮ সালের ৩ মে তিনি ইন্তেকাল করেন।

 

স্থানীয়রা জানান, সৈয়দ আশরাফ হোসেন পটুয়াখালী জেলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। কিন্তু নতুন প্রজন্ম তার সম্পর্কে খুব কমই জানে। তরুণদের কাছে তার অবদান তুলে ধরতে এবং একজন ভাষা সৈনিকের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সৈয়দ আশরাফের স্মৃতি রক্ষার্থে সমাধি কমপ্লেক্স, স্মৃতিফলক ও একটি স্মৃতি পাঠাগার নির্মাণ করা হোক।

 

স্থানীয় কলেজ ছাত্র হুজাইফা ইসলাম বলেন, তার সমাধিস্থলটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এমন একজন ভাষা সৈনিকের বর্ণাঢ্য জীবনের ইতিহাস ও সংগ্রামের গল্প তরুণ প্রজন্মের নিকট তুলে ধরতে একটি স্মৃতি পাঠাগার নির্মাণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

 

ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সৈয়দ আশরাফ হোসেনের স্মৃতি সংরক্ষণে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও ভবিষ্যতে তার সমাধি সংরক্ষণে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

 

সৈয়দ আশরাফের ছেলে সৈয়দ মাইনুল হাসান সুমন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার বাবাসহ আমাদের পরিবারের দেশের প্রতি অনেক অবদান রয়েছে। দেশের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ায় ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে আমাদের বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছিল। বাবা একজন ভাষা সৈনিক ছিলেন, ছিলেন ’৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা, এমপি হয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে কখনোই কিছু প্রত্যাশা করিনি, পাইওনি। শুধুমাত্র একবার জেলা প্রশাসন থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, তাও চরম অব্যবস্থাপনা ছিল—ক্রেস্টে অনেক ভুল ছিল।

 

সমাধির বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত তেতুলিয়া নদীর তীরে আমাদের পারিবারিক সমাধিস্থল অবস্থিত। আমাদের বাগানের প্রায় অর্ধেক নদীতে ভেঙে গেছে। যদিও এখন ভাঙন স্থির রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে নদীভাঙনের এক পর্যায়ে সমাধিস্থল বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো এপ্লিকেশন দেইনি। দুই বছর আগে সমাধিস্থল সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেই যোগাযোগ করে বিভিন্ন কাগজপত্র নেওয়া হয়েছিল। শুনেছিলাম প্ল্যানও পাশ হয়েছিল। অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল- আমার বড় ভাই স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু এরপর এখন পর্যন্ত আর কোনো সংবাদ পাইনি।’

 

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আসলে আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। আমি এখানে যোগদানের পর তাদের পরিবারের কেউ আসেননি। আমি আজই খোঁজ-খবর নেব। পরিবারকে যদি এর আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকে, ইনশাল্লাহ আমরা তা বাস্তবায়ন করব। এখানে যদি কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে, সেটি আমরা যাচাই করব এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলব। আগের পরিকল্পনাটি যথাযথ হলে সেটিই বাস্তবায়ন করব, আর প্রয়োজন হলে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আরও সুন্দরভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।