খুঁজুন
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

 

 

সংগঠনটি বিবৃতিতে উল্লেখ করে, ২০০৩-২০০৪ সালে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে তৎকালীন খাকি পোশাক পরিবর্তন করে বর্তমান পোশাকে রূপ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া, দিন ও রাতে ডিউটি পালনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতা এবং অন্য বাহিনীর সঙ্গে যেন সাদৃশ্য না থাকেএমন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা হয়েছিল।

 

 

 

তবে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া নতুন পোশাকের সিদ্ধান্তে এসব বাস্তবসম্মত বিষয়গুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে দাবি করেছে অ্যাসোসিয়েশন। তাদের মতে, নতুন ইউনিফর্মের সঙ্গে অন্য কয়েকটি সংস্থার পোশাকের সাদৃশ্য থাকায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

 

 

অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেই অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে তাদের ভূমিকা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সংগঠনের মতে, এই পোশাক কেবল একটি ইউনিফর্ম নয়, বরং এটি বাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।

 

 

 

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, পোশাক পরিবর্তন একটি বিশাল ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন ইউনিফর্ম তৈরির চেয়ে সেই অর্থ পুলিশের আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ নিশ্চিত করা, লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি এবং সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও মনোবল উন্নয়নে ব্যয় করা অনেক বেশি যৌক্তিক হবে। সংগঠনটি মনে করে, পোশাকের রঙ বা নকশার চেয়ে পুলিশ সদস্যদের মনোভাব ও পেশাদারিত্বের উন্নয়নই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

সার্বিক দিক বিবেচনা করে এবং পুলিশ সদস্যদের আবেগ ও বাস্তবতাকে মূল্যায়ন করে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে তারা জনমত যাচাইয়ের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

কোরআন পড়ানো শিক্ষক আবদুল্লাহ হাজি মারা গেছেন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ
কোরআন পড়ানো শিক্ষক আবদুল্লাহ হাজি মারা গেছেন
শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে মদিনার মসজিদে নববীতে পবিত্র কুরআন ও ১০ কিরাআত শিক্ষাদানে নিবেদিত প্রখ্যাত শিক্ষক শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজি মরা গেছেন। ইসলামী জ্ঞানচর্চার এ বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।ইসলামী জ্ঞান বিতরণে নিবেদিতপ্রাণ এ শিক্ষক যখন মসজিদে নববীতে পাঠদান শুরু করেছিলেন, তখন সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বেশ অভাব ছিল। মসজিদের মেঝেতে কার্পেট বিছানোর অনেক আগে, কেবল কাঁকর বিছানো মেঝেতেই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ছাত্রদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। সময়ের পরিক্রমায় মসজিদে নববীর ব্যাপক সম্প্রসারণ আধুনিকায়ন হলেও, তার এই দারস বা পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত ছিল অবিরাম গতিতে। ও

শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজির দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠা ছিল রীতিমতো কিংবদন্তিতুল্য। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, সুদীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি কখনো কোনো ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেননি। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল তার নিজের বোন মারা যাওয়ার দিনটি। তবে সেদিনও বোনের জানাজা ও দাফনকার্য সম্পন্ন করেই তিনি দ্রুত ফিরে এসেছিলেন তার প্রিয় শিক্ষার্থীদের মাঝে এবং আগের মতোই পাঠদান শুরু করেছিলেন। কুরআনের প্রতি তার এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সাধনার দৃষ্টান্ত মদিনায় আজও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তার এই দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি তৈরি করেছেন অসংখ্য যোগ্য শিক্ষার্থী। তার কাছে শিক্ষা গ্রহণকারী অনেকেই পরবর্তীকালে সুপরিচিত ক্বারি, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীনি দাওয়াতের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।ৱ

শায়খ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাজির এ অসামান্য শিক্ষা ও অবদান শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তা ইসলামী সমাজে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে বিস্তৃত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন

১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে: চীনা রাষ্ট্রদূত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ
১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষা দেওয়া হবে: চীনা রাষ্ট্রদূত
শেয়ার করুন

সচিবালয়ে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে ১০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসহ কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে কর্মরত প্রায় এক হাজার চীনা কোম্পানিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভাষা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।’

 

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যৌথ উদ্যোগে চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এ বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও এই কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, দুই দেশ মিলে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো পরিদর্শন করে কারিকুলাম আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী কোর্স ও প্রশিক্ষণ কাঠামো পুনর্বিন্যাস করবে।

 

চীনা ভাষা প্রসারে প্রাথমিকভাবে ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩০০টি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ব্রডকাস্টিং সেন্টার স্থাপন এবং ল্যাবে আধুনিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত একটি পাইলট প্রকল্প চলমান রয়েছে।

 

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক হল নির্মাণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে চীনের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং চীনা বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্বকাপ দলে ফেরার স্বপ্নে হোঁচট খেলেন নেইমার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপ দলে ফেরার স্বপ্নে হোঁচট খেলেন নেইমার
শেয়ার করুন

আগামী জুন-জুলাইয়ে মাঠে গড়াবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক আসরের জন্য সব দলই এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে পুরোদমে। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলও ছয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তবে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ দলে ফেরার অভিযানে বড়সড় একটা হোঁচট খেলেন নেইমার জুনিয়র।

 

একের পর এক চোটের কারণে ২০২৩ সালের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে দলে ফিরতে হলে নেইমারকে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর আসন্ন আসরে দলে জায়গা পেতে লড়াইয়ে নেমেছেন ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

 

সে হিসেবে বলা চলে নেইমারের জন্য এখন সামনের প্রত্যেকটা দিন, প্রত্যেকটা ম্যাচ একেকটা ফাইনাল ম্যাচ। তবে জাতীয় দলে ফেরার অভিযানে বড়সড় একটা হোঁচট খেলেন সেলেসাও তারকা। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পাউলিস্তা চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে সিরি বি’র দল গ্রেমিও নোভোরিজোন্তিনোর কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে তার ক্লাব সান্তোস।

 

প্রতিপক্ষের মাঠে এদিন দলের প্রথম গোলটি হজমের জন্য সরাসরি দায়ী ছিলেন নেইমার। বিরতির ঠিক আগে এই ফরোয়ার্ড রক্ষণভাগে বল হারালে রোমুলো গোল করে গ্রেমিও নোভোরিজোন্তিনোকে এগিয়ে দেন। পিছিয়ে পড়া সান্তোসকে দ্বিতীয়ার্ধের ২০তম মিনিটে সমতায় ফেরান গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো। তবে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে লিও নালদি স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করেন।

 

যদিও বল দখলে এগিয়ে ছিল সান্তোসই। তাই হতাশাজনক হারের পর নেইমার সমালোচনার মুখে পড়েছেন। নিজের ভুলের দায় সঙ্গে সঙ্গেই স্বীকার করেন নেইমার। টিভি সম্প্রচারে দেখা যায়, তিনি সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছেন। সফরকারী দলের হয়ে আদোনিস ফ্রিয়াস ও আলভারো বাররেয়াল শুরু থেকে খেলেন, আর বেঞ্চে ছিলেন বেঞ্জামিন রোলহাইজার।

 

আগামী মার্চের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য ঠিক করলেও সেই স্বপ্নে কিছুটা হলেও ধাক্কা খেলেন নেইমার। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি সোজাসুজিই জানিয়ে দিয়েছেন, নামের ভারে দলে জায়গা মিলবে না। চোটমুক্ত হয়ে পারফর্ম করেই দলে ফিরতে হবে নেইমারকে। পাউলিস্তার পারফরম্যান্স সেই সম্ভানা আরও ধূসর করে তুলল।