খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

দুর্নীতির শত শত অভিযোগ সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির শত শত অভিযোগ সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে
শেয়ার করুন

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শত শত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ে। দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এসব লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যে হারে অভিযোগ আসছে তাতে মনে হচ্ছে, অভিযোগের রেকর্ড হবে। অধিকাংশ অভিযোগে অভিযোগকারী নাম প্রকাশ করেননি, তবে কয়েকটি অভিযোগে অভিযোগকারী নাম-পরিচয় উল্লেখ করেই লিখিত চিঠি দিয়েছেন দুদকে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুদক অন্য সব অভিযোগ যেভাবে যাচাই করে, এসব অভিযোগও একইভাবে যাচাই করা হবে। এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সূত্র জানিয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের। গ্রামীণ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ড. ইউনূস কীভাবে নিজের নামে একটি ট্রাস্ট করে গ্রামীণ কল্যাণ এবং গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ আত্মসাৎ করছেন, তার বিবরণ তুলে ধরেছেন। এই অভিযোগে বলা হয়েছে, আয়কর ফাঁকি এবং অর্থ আত্মসাতের জন্য ড. ইউনূস তাঁর নিজের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছেন।
এই ট্রাস্টের একমাত্র কাজ হলো, ড. ইউনূসের পরিবারের দেখাশোনা করা। এভাবে ড. ইউনূস বিপুল পরিমাণ আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে ড. ইউনূস বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলেও একাধিক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়ন এবং অন্যান্য দুর্নীতি।একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, আসিফ নজরুল জামিন বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অভিযোগে একটি শিল্প গ্রুপের সিইও, জালিয়াতির মাধ্যমে ভাই এবং বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। ছোট বোন তার বিরুদ্ধে মামলা করে, পিবিআই মামলা তদন্ত করে জালিয়াতির প্রমাণ পায়। আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু আসিফ নজরুল ২০ কোটি টাকা নিয়ে ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন। গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসের জামিন আসিফ নজরুল বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে করিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত তথ্যও অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এভাবে আসিফ নজরুল ১৮ মাসে টাকার বিনিময়ে বহু জামিন করিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় বিচারক বদলিতে আসিফ নজরুল ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নিতেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। সাব রেজিস্ট্রার পদায়নে তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আসিফ নজরুল উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, সাভারের মতো লাভজনক এলাকার সাব রেজিস্ট্রার বদলি করেন। এসব বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি অভিযোগ এখন পর্যন্ত জমা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ অন্যতম। এ ছাড়াও রিজওয়ানার বিরুদ্ধে অন্যের সম্পত্তি জোর করে দখল করার অভিযোগও করা হয়েছে। একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। রিজওয়ানার স্বামী আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন কি না তা তদন্ত করার জন্য দুদককে অনুরোধ জানিয়েছেন একজন।
সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিরুদ্ধে সামিট গ্রুপের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, হাসপাতালের কেনাকাটায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ অভিযোগই ভুক্তভোগীরা নাম-ঠিকানাসহ করেছেন। ঘুষ নিয়ে কাজ না দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণও দেওয়া হয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন একজন। এভাবে প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকের সূত্রগুলো বলেছে, এসব অভিযোগ তারা যাচাইবাছাই করছে। যেসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে সেগুলো অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।

জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায় এবং সেগুলো আমলযোগ্য হলে তা তদন্ত করা উচিত। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের সত্যতা পেলে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আগেও কোনো কোনো উপদেষ্টার দপ্তরের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় কিন্তু দুদকের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এখন যেহেতু তারা সরকারে নেই তাহলে দুদক তদন্ত করে দেখতে পারে। আগেও আমরা দেখেছি যারা সরকারে থাকে তাদের বিরুদ্ধে দুদক কোনো পদক্ষেপ নেয় না। এখনো তেমন ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে যদি কারও অভিযোগ আমলযোগ্য হয় সেটারও যুক্তি দুদকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে এবং আমলযোগ্য না হওয়ারও যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে কেউ যেন কারও দ্বারা হয়রানির শিকার না হন সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামছেন জেলেরা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামছেন জেলেরা
শেয়ার করুন

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে দেশের নদ-নদীতে আবারও ইলিশ ধরা শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর জেলে পাড়াগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ ও নদীতে নামার শেষ প্রস্তুতি চলছে।

 

এর আগে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলাসহ ছয় জেলার পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ ও সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। এই সময়ে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের অভিযান প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ইলিশ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলে পাড়াগুলোতে নৌকা মেরামত, জাল সেলাই এবং ইঞ্জিন প্রস্তুতের কাজ শেষ করে নদীতে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলেরা। তবে অনেকে ঋণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন।

 

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালাতে এবং নৌকা-জাল মেরামতে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন নদীতে মাছ না পেলে তারা আর্থিক সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।

 

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, দুই মাসে অভয়াশ্রম এলাকায় কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বহু জেলেকে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে জাটকা রক্ষা ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য বিজিএফ চালসহ খাদ্য সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।

প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর 

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর 
শেয়ার করুন

প্রবাসীর মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ নামে এক প্রবাসী ও তার স্ত্রীর

‎প্রবাসী  আব্দুল্লাহর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল নিয়ে দেশে এসে নিখোঁজ রয়েছেন রহমতুল্লাহ নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী, অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ তার পরিচিত প্রবাসী রহমতুল্লাহর মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের জন্য কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র পাঠান। এসবের মধ্যে ছিল একটি আইফোন, একটি সোনার চেইন, দুটি দামী ঘড়ি, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, অন্যান্য দামী আসবাবপত্র এবং প্রায় ১৫ হাজার সৌদি রিয়াল।

‎জানা গেছে, রহমতুল্লাহর স্ত্রী প্রবাসে গিয়ে প্রায় তিন মাস অবস্থান করার পর দেশে ফেরার সময় এসব মালামাল তার হাতে তুলে দেন আব্দুল্লাহ, যাতে তিনি সেগুলো আব্দুল্লাহর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। কিন্তু দেশে আসার পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি।

‎অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ জানান, একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রহমতুল্লাহ ফোন বন্ধ করে দেন এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে রহমতুল্লাহর স্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে আব্দুল্লাহ,

‎এ ঘটনায় রহমতুল্লাহর দেশের বাড়ির ঠিকানা বা অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হলে তা ভুল বলে জানা যায়। বর্তমানে রহমতুল্লাহ সৌদি আরবে অবস্থান করলেও তিনি কোনোভাবেই আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না।

‎এদিকে, রহমতুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ।

ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট
শেয়ার করুন

দেশের বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে মোট ভোটারের ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন ৬৬ শতাংশ ভোটারই।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন কালবেলাকে জানান, প্রথম দিনে ভোট দেন দুই হাজার ৭৫৯ জন। আর দ্বিতীয় দিনে ভোট দেন চার হাজার ৩১০ জন আইনজীবী।

 

তিনি আর বলেন, সবমিলে দুই দিনে সাত হাজার ৬৯ জন আইনজীবী নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মোট ভোটার ২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবী।

 

অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন হয়েছে খুবই উৎসবমুখরভাবে। ভোটাররা যেন ভালোভাবে ভোট দিতে পারে তার জন্য বুথ বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

ফলাফলের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আগামীকাল জুমার নামাজের পর ভোট গণনা শুরু হবে। ভোটার স্লিপগুলো ঠিকভাবে সিরিয়াল করে গণনা শুরু হবে। সেক্ষেত্রে শুক্রবার রাত অথবা শনিবার সকালে ফলাফল ঘোষণা হতে পারে।

 

এদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনে গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হয় ভোটগ্রহণ হয়। দুই দিনেই বৃষ্টির মাঝেই আইনজীবীরা ভোট দিতে আসেন।

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে ভোটগ্রহণ হয়। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

উভয় প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ছাড়াও স্বতন্ত্র আটজন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

তবে নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সমর্থিত সাদা প্যানেল। প্যানেল না থাকলেও আওয়ামী সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চাইলে মনোনয়ন নিতে বাঁধার সম্মুখীন হন বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন কয়েকজন আইনজীবী।

 

নির্বাচনে বিএনপি জোট নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপর দিকে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১১ জোটের সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক লড়ছেন।

 

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা।

 

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। এতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এরপর থেকেই তারা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।