খুঁজুন
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

খামেনির মিটিং সন্ধ্যার পরিবর্তে হয় সকালে, এটিও জেনে ফেলে সিআইএ-মোসাদ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
খামেনির মিটিং সন্ধ্যার পরিবর্তে হয় সকালে, এটিও জেনে ফেলে সিআইএ-মোসাদ
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালাচ্ছিল। কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান, চলাফেরা ও বৈঠকের ধরন শনাক্ত করে আসছিল সংস্থাটি। খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আকাশ ও নৌ-অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে রয়টার্স সূত্রে জানানো হয়েছে।

 

 

একজন মার্কিন সূত্রের বরাতে বলা হয়, খামেনির ওই বৈঠকটি প্রথমে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি নেতৃত্ব-সংক্রান্ত কম্পাউন্ডে বৈঠকের তথ্য শনাক্ত করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, সিআইএ নিশ্চিত হয় যে খামেনেয়ি নিজেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

 

 

এই নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার সময়সূচি এগিয়ে আনে বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। এই তথ্য দুই দেশের জন্য ‘সুযোগের জানালা’ খুলে দেয় এবং সেই সুযোগই তারা পরিপূর্ণভাবে তা বাস্তবায়নে করার দিকে এগোয়।

 

 

রয়টার্স জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, বিস্ময় সৃষ্টির জন্য প্রথমে খামেনিকে আঘাত করা প্রয়োজন, আর এমন চান্স হাত ছাড়া করা যায় না। কারণ, সুযোগ পেলে ইরানি নেতা আত্মগোপনে চলে যাবেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

 

ওয়াশিংটনে মধ্যরাতের পরপরই (ইরানে তখন দিন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দেন। জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনার দুই দিন পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। ইসরায়েল ভোর প্রায় ৬টায় অভিযান শুরু করে, দীর্ঘপাল্লার অত্যন্ত নির্ভুল অস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে।

 

 

যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, তেহরান সময় সকাল আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তু কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, সকালের হামলাটি তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে চালানো হয়েছে, যার একটি স্থানে ইরানের রাজনৈতিক-নিরাপত্তা স্তরের শীর্ষ ব্যক্তিরা জড়ো হয়েছিলেন।

 

 

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুদ্ধের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল কৌশলগতভাবে ‘চমক’ দিতে সক্ষম হয়। অভিযানের শুরুতেই তেহরানে খামেনির উচ্চ-নিরাপত্তা কম্পাউন্ডে আঘাত হানা হয় এবং স্যাটেলাইট চিত্রে কম্পাউন্ডটি ধ্বংসের প্রমাণ মেলে। এতে ৪৬ বছরের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক শাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় বদলে যায় এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলে তোলপাড় শুরু হয় ইরানসহ বিশ্বজুড়ে। দেশটির শাসনব্যবস্থায় এই সংকট কীভাবে মোকাবিলা করবে তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

 

 

সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুকে ঘিরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি সর্বোচ্চ নেতার ‘খুনিদের’ শাস্তি দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। আইআরজিসি তাদের টেলিগ্রাম বিবৃতিতে জানায়, খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণ চালানো হবে।

 

 

ইরানের বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে, খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা আলি শামখানি এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুল রহিম মুসাভিও নিহত হয়েছেন।

 

 

হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের সাহসী সেনারা ও মহান জাতি আন্তর্জাতিক দমন-পীড়নকারীদের অবিস্মরণীয় শিক্ষা দেবে।’

 

 

সূত্র: এনডিটিভি

তেহরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু ইসরায়েলের

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ
তেহরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু ইসরায়েলের
শেয়ার করুন

ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। সোমবার (২ মার্চ) ভোরে তেহরানে উড়ে যায় ইসরায়েলি বিমান।

 

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমান তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হানছে।

 

ইসরায়েল যখন এ তথ্য জানাচ্ছে, তখন ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, তেহরানের বেশ কয়েক জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

 

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ধ্বংসস্তূপ থেকে খামেনির দেহ উদ্ধারের ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
ধ্বংসস্তূপ থেকে খামেনির দেহ উদ্ধারের ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
শেয়ার করুন

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধারের একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, লাশ উদ্ধারের দৃশ্য দাবি করে প্রচারিত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।

 

গতকাল শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। আজ রোববার ভোরে আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনির মৃত্যুর কথা স্বীকার করে ইরান সরকার। ৮৬ বছর বয়সী আলী খোমেনি যে ভবনে ছিলেন, তার একাংশ গুঁড়িয়ে গেছে।

 

এরপর ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, যাতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপে আলী খামেনির মরদেহ একটি পিলারের নিচে চাপা পড়ে আছে। তাঁর দেহের পাশেই তাঁর মাথার পাগড়ি ও চোখের চশমাটি পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীরা সেখান থেকে তাঁর লাশ বের করার চেষ্টা করছেন।

 

ভালো করে ছবিটি দেখলে তাতে বেশ কিছু অসংগতি খুঁজে পাওয়া যায়। ছবিতে আলী খামেনির দেহ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চাপা থাকলেও শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় না। এমনকি তাঁর সামনে পড়ে থাকা চশমাটিও পুরোপুরি অক্ষত।

 

সন্দেহ জাগায় নিশ্চিত হতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন ও এআই অর নট দিয়ে যাচাই করে দেখা গেছে, এই ছবি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রবল।

লেবানন থেকে ইসরায়েলে রকেটে নিক্ষেপ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৬:০০ পূর্বাহ্ণ
লেবানন থেকে ইসরায়েলে রকেটে নিক্ষেপ
শেয়ার করুন

দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে লেবানন থেকে রকেট ছোড়া হয়েছে। বাংলাদে সময় সোমবার ভোরে ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করা হয়।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, রকেট নিক্ষেপের কারণে উত্তর ইসরায়েলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে।

 

সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে বন্দরনগরী হাইফা এবং এর আশপাশের অঞ্চলে। এছাড়া আপার গিলিলিতেও সাইরেন বেজেছে।

 

লেবানন থেকে কারা রকেট ছুড়েছে সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুললাহ রকেটগুলো ছুড়েছে। তবে হিজবুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানায়নি।

 

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, যদি হিজবুল্লাহ রকেটগুলো ছোড়ে তাহলে গত কয়েক মাসের মধ্যে এটি তাদের প্রথম রকেট হামলা হবে। এছাড়া ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে ইসরায়েলে প্রথম হামলা হবে এটি। গত বছরের জুনে ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধে অংশ নেয়নি হিজবুল্লাহ।

 

 

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর আর তারা ইসরায়েলে কোনো ধরনের হামলা চালায়নি।

 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি রকেট ভূপাতিত করেছে। আর কয়েকটি রকেট উন্মুক্ত স্থানে পড়েছে। যেহেতু এগুলো উন্মুক্ত স্থানে ছিল ফলে এগুলো আটকাতে কোনো প্রতিরক্ষা মিসাইল ছোড়া হয়নি।

 

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল