খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩২

আমরা কোনো হুমকির কাছেই মাথা নত করব না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
আমরা কোনো হুমকির কাছেই মাথা নত করব না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাব দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কোনো হুমকির কাছেই মাথা নত করব না।’

রবিবার (১২ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান সদিচ্ছা দেখাতে ‘খুব ভালো উদ্যোগ’ নিয়েছিল, যার ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল।

 

 

তিনি বলেন, ট্রাম্পের নতুন হুমকি ইরানি জাতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার ভাষায়, ‘আপনি যদি লড়াই করেন, আমরাও লড়াই করব। আর যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন, আমরা যুক্তি দিয়েই মোকাবিলা করব। আমরা কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করব না। তারা চাইলে আবার আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করে দেখুক, যাতে আমরা তাদের আরও বড় শিক্ষা দিতে পারি।’

 

পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর চলমান সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

 

স্থানীয় সময় গত শনিবার (১১ এপ্রিল) এই আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষ হয় রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনেকটা সময় এ নিয়ে কিছুই বলেননি।

 

এরপর নীরবতা ভেঙে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজে প্রবেশ করা বা ছেড়ে আসা সব জাহাজ আটকে দেব আমরা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ‘অবরোধ’ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।

 

এরপর ফক্স নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে আগের হুমকিরই প্রতিধ্বনি করেন তিনি। হরমুজ প্রণালী অবরোধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না, তা ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। হয় সব জাহাজ সেখানে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাবে, নয়তো একটিও পাবে না।’

 

 

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় শিশুকন্যা নিহত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় শিশুকন্যা নিহত
শেয়ার করুন

দক্ষিণ লেবাননে বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় এক শিশুকন্যা নিহত হয়েছে। একই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে তার সাত বছর বয়সি বোনসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। যুদ্ধবিরতির আশার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

বুধবার দক্ষিণ লেবাননের স্রিফা গ্রামে সাঈদ পরিবারের বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়। সেদিনই যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল; যা লেবাননেও প্রভাব ফেলবে বলে অনেকেই আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ওই দিনই দেশজুড়ে হামলায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

 

নিহত শিশুকন্যা তালিনের বয়স ছিল দুই বছরেরও কম। তার দাদা নাসের সাঈদ জানান, পরিবারের সদস্যরা তার ছেলের দাফনে অংশ নিতে গ্রামে জড়ো হয়েছিলেন। হঠাৎই বিমান হামলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ‘আমরা ভেবেছিলাম যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু আচমকাই হামলা শুরু হয় বলেন তিনি।

 

হামলায় আহত সাত বছর বয়সি আলিন সাঈদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

লেবাননে চলমান সংঘাত গত ২ মার্চ শুরু হয়, যখন হিজবুল্লাহ ইসরাইলের অবস্থানে হামলা চালায়। এরপর ইসরাইল ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।

 

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও ইসরাইল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।

 

সূত্র: আল মনিটর

নিজেকে যীশু রূপে এআই ছবি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে জড়ালেন ট্রাম্প

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
নিজেকে যীশু রূপে এআই ছবি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে জড়ালেন ট্রাম্প
শেয়ার করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি, যেখানে তাঁকে যীশু খ্রীষ্টের বেশে দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী ও বিশ্বজুড়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে তাঁর বিবাদ এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

শেয়ার করা ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প যীশুর মতো পবিত্র পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর শরীর থেকে জ্যোতি নির্গত হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি এক মুমূর্ষু ব্যক্তির মাথায় হাত রেখে অলৌকিক উপায়ে সুস্থ করার চেষ্টা করছেন, আর চারপাশে সেনা সদস্য ও নার্সরা বিস্ময়ে তাকিয়ে আছেন।

 

 

ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে অসম্মানজনক ও স্পর্ধাজনক বলে আখ্যা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক প্রচারের জন্য পবিত্র ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করা নৈতিক সীমার লঙ্ঘন। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা একে ডিজিটাল আর্ট বা নিছক কৌতুক হিসেবেই দেখছেন।

 

 

ছবিটি পোস্ট করার ঠিক আগেই ট্রাম্প ভ্যাটিকানের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পোপকে চরম বামপন্থী এবং দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পোপ লিও অপরাধীদের প্রতি সদয় এবং আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির বিরোধী।

 

 

ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি পোপ লিওর ভক্ত নই। তিনি ভালো কাজ করছেন না। আমি এমন কোনো পোপ চাই না যিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া সমর্থন করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছেন বলেই পোপ তাঁর সমালোচনা করছেন।

 

 

মূলত ইরান এবং ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে পোপ ও ট্রাম্পের মধ্যে এই দূরত্বের সৃষ্টি। গত শনিবার সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় এক প্রার্থনা সভায় পোপ লিও কারো নাম না করে বলেন, যুদ্ধের পেছনে সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা শোনেন না যাদের হাত রক্তে রাঙা।

 

 

আফ্রিকা সফরের পথে বিমানে বসে পোপ লিও ট্রাম্পের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভ্যাটিকানের শান্তির আবেদন কোনো রাজনীতি নয়, বরং যিশুর সুসমাচারের প্রতিফলন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না। পোপের ভাষায়, আমার বার্তাকে রাজনৈতিক স্তরে নামিয়ে আনা মানে ধর্মের মূল কথাটিই না বোঝা। চার্চের শান্তির মিশন আমি চালিয়ে যাব।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির এই সংমিশ্রণ মার্কিন জনমতকে গভীরভাবে বিভক্ত করছে। ট্রাম্পের এই যীশু অবতার এবং পোপের সঙ্গে তাঁর সংঘাত আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

 

 

সূত্র: এপি

আমরা সবাই জুলাই প্রোডাক্ট: জামায়াত আমির

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
আমরা সবাই জুলাই প্রোডাক্ট: জামায়াত আমির
শেয়ার করুন

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার, বিরোধীদলসহ দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে “জুলাই প্রোডাক্ট” বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাইয়ের অস্তিত্বের কারণেই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আইডিইবির মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন’ শীর্ষক ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই আছে বলেই আমরা আছি, জুলাই আছে বলেই সরকার ও বিরোধীদল আছে। আমরা সবাই ‘জুলাই প্রোডাক্ট’। জুলাই না থাকলে আমাদেরও অস্তিত্ব থাকত না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না।

 

তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনে আবারও আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও জানান।

 

জুলাই শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগামীর আন্দোলনে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। “যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই প্রয়োজন, ততদিন সংসদে থাকব,”—যোগ করেন তিনি।

 

জামায়াত আমির জোর দিয়ে বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে। তিনি দাবি করেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতেই এই আন্দোলন চলছে।

 

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই আন্দোলন সবার। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কেউ কারো গোলাম হবে না এবং কোনো পারিবারিক শাসন বা ‘রাজতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা পাবে না।”