খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩২

বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় শিশুকন্যা নিহত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় শিশুকন্যা নিহত
শেয়ার করুন

দক্ষিণ লেবাননে বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় এক শিশুকন্যা নিহত হয়েছে। একই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে তার সাত বছর বয়সি বোনসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। যুদ্ধবিরতির আশার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

বুধবার দক্ষিণ লেবাননের স্রিফা গ্রামে সাঈদ পরিবারের বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়। সেদিনই যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল; যা লেবাননেও প্রভাব ফেলবে বলে অনেকেই আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ওই দিনই দেশজুড়ে হামলায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

 

নিহত শিশুকন্যা তালিনের বয়স ছিল দুই বছরেরও কম। তার দাদা নাসের সাঈদ জানান, পরিবারের সদস্যরা তার ছেলের দাফনে অংশ নিতে গ্রামে জড়ো হয়েছিলেন। হঠাৎই বিমান হামলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ‘আমরা ভেবেছিলাম যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু আচমকাই হামলা শুরু হয় বলেন তিনি।

 

হামলায় আহত সাত বছর বয়সি আলিন সাঈদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

লেবাননে চলমান সংঘাত গত ২ মার্চ শুরু হয়, যখন হিজবুল্লাহ ইসরাইলের অবস্থানে হামলা চালায়। এরপর ইসরাইল ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।

 

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও ইসরাইল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।

 

সূত্র: আল মনিটর

নিজেকে যীশু রূপে এআই ছবি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে জড়ালেন ট্রাম্প

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
নিজেকে যীশু রূপে এআই ছবি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে জড়ালেন ট্রাম্প
শেয়ার করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি, যেখানে তাঁকে যীশু খ্রীষ্টের বেশে দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী ও বিশ্বজুড়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে তাঁর বিবাদ এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

শেয়ার করা ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প যীশুর মতো পবিত্র পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর শরীর থেকে জ্যোতি নির্গত হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি এক মুমূর্ষু ব্যক্তির মাথায় হাত রেখে অলৌকিক উপায়ে সুস্থ করার চেষ্টা করছেন, আর চারপাশে সেনা সদস্য ও নার্সরা বিস্ময়ে তাকিয়ে আছেন।

 

 

ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে অসম্মানজনক ও স্পর্ধাজনক বলে আখ্যা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক প্রচারের জন্য পবিত্র ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করা নৈতিক সীমার লঙ্ঘন। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা একে ডিজিটাল আর্ট বা নিছক কৌতুক হিসেবেই দেখছেন।

 

 

ছবিটি পোস্ট করার ঠিক আগেই ট্রাম্প ভ্যাটিকানের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পোপকে চরম বামপন্থী এবং দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পোপ লিও অপরাধীদের প্রতি সদয় এবং আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির বিরোধী।

 

 

ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি পোপ লিওর ভক্ত নই। তিনি ভালো কাজ করছেন না। আমি এমন কোনো পোপ চাই না যিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া সমর্থন করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছেন বলেই পোপ তাঁর সমালোচনা করছেন।

 

 

মূলত ইরান এবং ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে পোপ ও ট্রাম্পের মধ্যে এই দূরত্বের সৃষ্টি। গত শনিবার সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় এক প্রার্থনা সভায় পোপ লিও কারো নাম না করে বলেন, যুদ্ধের পেছনে সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা শোনেন না যাদের হাত রক্তে রাঙা।

 

 

আফ্রিকা সফরের পথে বিমানে বসে পোপ লিও ট্রাম্পের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভ্যাটিকানের শান্তির আবেদন কোনো রাজনীতি নয়, বরং যিশুর সুসমাচারের প্রতিফলন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না। পোপের ভাষায়, আমার বার্তাকে রাজনৈতিক স্তরে নামিয়ে আনা মানে ধর্মের মূল কথাটিই না বোঝা। চার্চের শান্তির মিশন আমি চালিয়ে যাব।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির এই সংমিশ্রণ মার্কিন জনমতকে গভীরভাবে বিভক্ত করছে। ট্রাম্পের এই যীশু অবতার এবং পোপের সঙ্গে তাঁর সংঘাত আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

 

 

সূত্র: এপি

আমরা সবাই জুলাই প্রোডাক্ট: জামায়াত আমির

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
আমরা সবাই জুলাই প্রোডাক্ট: জামায়াত আমির
শেয়ার করুন

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার, বিরোধীদলসহ দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে “জুলাই প্রোডাক্ট” বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাইয়ের অস্তিত্বের কারণেই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আইডিইবির মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন’ শীর্ষক ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই আছে বলেই আমরা আছি, জুলাই আছে বলেই সরকার ও বিরোধীদল আছে। আমরা সবাই ‘জুলাই প্রোডাক্ট’। জুলাই না থাকলে আমাদেরও অস্তিত্ব থাকত না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না।

 

তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনে আবারও আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও জানান।

 

জুলাই শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগামীর আন্দোলনে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। “যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই প্রয়োজন, ততদিন সংসদে থাকব,”—যোগ করেন তিনি।

 

জামায়াত আমির জোর দিয়ে বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে। তিনি দাবি করেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতেই এই আন্দোলন চলছে।

 

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই আন্দোলন সবার। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কেউ কারো গোলাম হবে না এবং কোনো পারিবারিক শাসন বা ‘রাজতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা পাবে না।”

রামুতে বালিশচাপায় আদিবাসী কিশোরী হত্যা, পেছনে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
রামুতে বালিশচাপায় আদিবাসী কিশোরী হত্যা, পেছনে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রামুতে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ১৬ বছরের এক চাকমা সম্প্রদায়ের আদিবাসী কিশোরীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য তার মৃতদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ১২ এপ্রিল দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর নাম মায়া চাকমা (১৬)। উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড

তেলখোলা গ্রামের ক্যউছিং চাকমার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মায়া চাকমা আনুমানিক বছরখানেক ধরে কক্সবাজার জেলার রামুর পশ্চিম পাড়া মেরোরুওয়া গ্রামে সাধন বড়ুয়া নামে এক বাসায় কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করে আসছিল।

ঘটনার মাস খানেক আগে মায়ার সাথে তার বাবার ফোনে যোগাযোগ হয়, মায়া বেশ হাসি খুশিতেই ছিল, সবকিছু ছিল ঠিকঠাক। একসময় তার বাবা ক্যউছিং চাকমা তার মেয়েকে বাড়িতে যাওয়ার কথা বললে মায়া বলেন, “তার বাড়ির মালিক অথাৎ সাধন বড়ুয়া পহেলা বৈশাখের আগে নিজে তাকে বাড়িতে দিয়ে আসবে।” এই বলে আরও কয়েকদিন থাকতে বাবাকে অনুরোধ করলে তিনি থাকতে দিতে রাজি হন।

কিন্তু রোজকার দিনের মতো ১২ এপ্রিল, সকালে মায়ার বাবা তার মেয়ের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ফোন দিলে সেখান থেকে কেউ সারা দেননি অথাৎ সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

মায়ার বাবা মনে করতে থাকেন, তারা হয়তো কাজে ব্যস্ত, তাই তিনি আর বারবার কাউকে ফোন করেননি এবং পরে তার মোবাইলে পর্যাপ্ত পরিমাণে চার্জ না থাকায় ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকাল অনুমানিক ৪/৫ ঘটিকায় মায়ার খালার ফোনে সাধন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে ফোন করে বলা হয়, “তোমরা তাড়াতাড়ি এখানে এসো।” এই বলে কল কেটে দেয়া হয়।

তারপর মায়ার পরিবারের লোকজন ফোন পাওয়ার সাথে সাথে তাৎক্ষণিক রামুর উদ্দেশে রওনা দিয়ে রাত ৮টার দিকে তারা রামুর সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে পৌঁছালে দেখতে পান তাদের মেয়ের মৃতদেহ সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা।

সাধন বড়ুয়াদের থেকে এ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তাদেরকে বলা হয়, মায়া গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজে নিজেই আত্মহনন করেছে।

তবে মায়ার মা-বাবা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউই এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে পারেননি এবং মায়ার আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণও তারা খুঁজে পাননি। তাদের সকলের ধারণা, মায়া আত্মহত্যা করেনি, বরঞ্চ তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এছাড়া মায়ার গলায় ফাঁসের কোনো আলামত তারা পাইনি বলে জানান।

জানা গেছে, সাধন বড়ুয়ার দুই ছেলে প্রবাসে থাকে। গত কয়েকদিন আগে তার এক ছেলে ফ্রান্স থেকে বাড়িতে এসেছে। সেই ছেলেই মায়াকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

অন্যদিকে সাধন বড়ুয়া ক্যউছিং চাকমাকে তার অর্থনৈতিক দৈন্যদশা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “তোমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তোমরা গরীব মানুষ, মামলা করলে টাকা ছাড়া পুলিশ তোমাদের মামলা গ্রহণ করবে না। তুমি মেয়ের ঘটনা নিয়ে মামলা করো না। তার চেয়ে তোমার মেয়ের সাপ্তাহিক ক্রিয়ার সমস্ত খরচ আমি বহন করব। মামলা করার চিন্তা বাদ দাও।”

সাধন বড়ুয়ার মুখ থেকে এমন কথা শোনার পর ক্যউছিং চাকমা একপ্রকার নিশ্চিত হয়েছেন যে তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

তারা মায়ার মৃত্যুর সুস্থ তদন্ত করে অতিশীঘ্রই খুনীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।