খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩২

শিশুদের টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
শিশুদের টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আবেদন
শেয়ার করুন

হাম ও অন্যান্য রোগের শিশুদের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তপূর্বক সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।

 

 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ ও ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন দাখিল করেন।

 

আবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাকে মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে। সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক। হামে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমের দায় রয়েছে বলে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মতামত ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হামের টিকা এবং সিরিঞ্জের অভাবকে পূর্ববর্তী সরকারের সৃষ্ট সমস্যা বলে মন্তব্য করছে।

 

 

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই পরিবর্তন আনে। স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট (প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা) বাজেট থাকা সত্ত্বেও তারা সময়মতো হামসহ অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং শিশুদের টিকা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়ে গেছে, যা একটি মহামারি আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায় যে, ইতোমধ্যে শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজার হাজার শিশু অপ্রতুল প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। হাম একটি সংক্রামক ব্যাধি যা দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

 

আবেদনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ক্রয়ে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয় না করার বিষয়টি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ না করা এবং স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট বাজেট থাকা সত্ত্বেও অর্থের সঠিক ব্যবহার না করা দুর্নীতি ও অনিয়মের ইঙ্গিত প্রদান করে। বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য খাতে টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে সরাসরি অনিয়মের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য খাতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থ খাত রক্ষা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় জনস্বার্থে এ জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক তদন্ত করা আবশ্যক। হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং প্রদানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আবেদনে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় শিশুকন্যা নিহত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় শিশুকন্যা নিহত
শেয়ার করুন

দক্ষিণ লেবাননে বাবার দাফনে গিয়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় এক শিশুকন্যা নিহত হয়েছে। একই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে তার সাত বছর বয়সি বোনসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। যুদ্ধবিরতির আশার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

 

বুধবার দক্ষিণ লেবাননের স্রিফা গ্রামে সাঈদ পরিবারের বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়। সেদিনই যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল; যা লেবাননেও প্রভাব ফেলবে বলে অনেকেই আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে ওই দিনই দেশজুড়ে হামলায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

 

নিহত শিশুকন্যা তালিনের বয়স ছিল দুই বছরেরও কম। তার দাদা নাসের সাঈদ জানান, পরিবারের সদস্যরা তার ছেলের দাফনে অংশ নিতে গ্রামে জড়ো হয়েছিলেন। হঠাৎই বিমান হামলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ‘আমরা ভেবেছিলাম যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু আচমকাই হামলা শুরু হয় বলেন তিনি।

 

হামলায় আহত সাত বছর বয়সি আলিন সাঈদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

লেবাননে চলমান সংঘাত গত ২ মার্চ শুরু হয়, যখন হিজবুল্লাহ ইসরাইলের অবস্থানে হামলা চালায়। এরপর ইসরাইল ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।

 

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও ইসরাইল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।

 

সূত্র: আল মনিটর

নিজেকে যীশু রূপে এআই ছবি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে জড়ালেন ট্রাম্প

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
নিজেকে যীশু রূপে এআই ছবি প্রকাশ করে নতুন বিতর্কে জড়ালেন ট্রাম্প
শেয়ার করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি, যেখানে তাঁকে যীশু খ্রীষ্টের বেশে দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী ও বিশ্বজুড়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে তাঁর বিবাদ এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

শেয়ার করা ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প যীশুর মতো পবিত্র পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর শরীর থেকে জ্যোতি নির্গত হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি এক মুমূর্ষু ব্যক্তির মাথায় হাত রেখে অলৌকিক উপায়ে সুস্থ করার চেষ্টা করছেন, আর চারপাশে সেনা সদস্য ও নার্সরা বিস্ময়ে তাকিয়ে আছেন।

 

 

ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে অসম্মানজনক ও স্পর্ধাজনক বলে আখ্যা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক প্রচারের জন্য পবিত্র ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করা নৈতিক সীমার লঙ্ঘন। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা একে ডিজিটাল আর্ট বা নিছক কৌতুক হিসেবেই দেখছেন।

 

 

ছবিটি পোস্ট করার ঠিক আগেই ট্রাম্প ভ্যাটিকানের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পোপকে চরম বামপন্থী এবং দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পোপ লিও অপরাধীদের প্রতি সদয় এবং আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির বিরোধী।

 

 

ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি পোপ লিওর ভক্ত নই। তিনি ভালো কাজ করছেন না। আমি এমন কোনো পোপ চাই না যিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া সমর্থন করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছেন বলেই পোপ তাঁর সমালোচনা করছেন।

 

 

মূলত ইরান এবং ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে পোপ ও ট্রাম্পের মধ্যে এই দূরত্বের সৃষ্টি। গত শনিবার সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় এক প্রার্থনা সভায় পোপ লিও কারো নাম না করে বলেন, যুদ্ধের পেছনে সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা শোনেন না যাদের হাত রক্তে রাঙা।

 

 

আফ্রিকা সফরের পথে বিমানে বসে পোপ লিও ট্রাম্পের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভ্যাটিকানের শান্তির আবেদন কোনো রাজনীতি নয়, বরং যিশুর সুসমাচারের প্রতিফলন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না। পোপের ভাষায়, আমার বার্তাকে রাজনৈতিক স্তরে নামিয়ে আনা মানে ধর্মের মূল কথাটিই না বোঝা। চার্চের শান্তির মিশন আমি চালিয়ে যাব।

 

 

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির এই সংমিশ্রণ মার্কিন জনমতকে গভীরভাবে বিভক্ত করছে। ট্রাম্পের এই যীশু অবতার এবং পোপের সঙ্গে তাঁর সংঘাত আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

 

 

সূত্র: এপি

আমরা সবাই জুলাই প্রোডাক্ট: জামায়াত আমির

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
আমরা সবাই জুলাই প্রোডাক্ট: জামায়াত আমির
শেয়ার করুন

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার, বিরোধীদলসহ দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে “জুলাই প্রোডাক্ট” বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাইয়ের অস্তিত্বের কারণেই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আইডিইবির মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন’ শীর্ষক ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই আছে বলেই আমরা আছি, জুলাই আছে বলেই সরকার ও বিরোধীদল আছে। আমরা সবাই ‘জুলাই প্রোডাক্ট’। জুলাই না থাকলে আমাদেরও অস্তিত্ব থাকত না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না।

 

তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনে আবারও আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও জানান।

 

জুলাই শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগামীর আন্দোলনে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। “যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই প্রয়োজন, ততদিন সংসদে থাকব,”—যোগ করেন তিনি।

 

জামায়াত আমির জোর দিয়ে বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে। তিনি দাবি করেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতেই এই আন্দোলন চলছে।

 

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই আন্দোলন সবার। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কেউ কারো গোলাম হবে না এবং কোনো পারিবারিক শাসন বা ‘রাজতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা পাবে না।”