খুঁজুন
, ,

গোপন ভিডিও মুছতে প্রেমিকা তারিনের পরিকল্পনায় খুন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
গোপন ভিডিও মুছতে প্রেমিকা তারিনের পরিকল্পনায় খুন
শেয়ার করুন

কক্সবাজারে ছাত্রদল কর্মী ও জুলাই আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম হত্যাকাণ্ডে পুলিশ এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। তবে যুগান্তরের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য ওঠে এসেছে। প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত ‘গোপন ভিডিও’ ঘিরেই এই নির্মম হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ মার্চ রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগানের কবিতা চত্বরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় খোরশেদকে।

নুসন্ধান বলছে, নিজের গোপন ভিডিও মুছে ফেলতে পেশাদার ছিনতাইকারী-সন্ত্রাসী ভাড়া করেছিলেন প্রেমিকা তারিন। তার পরিকল্পনাতেই খোরশেদ খুন হন। এতে নেতৃত্ব দেয় মোহাম্মদ হারুন, মোহাম্মদ জিসান (বাসানি) ও বেলাল ওরফে ঘোড়া বেলাল। ঘটনার পর তারা সমিতিপাড়া এলাকায় বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রজেক্টে কাজ করা নাইটগার্ড রিয়াদের আশ্রয়ে রাত কাটায় এবং মাদক সেবন করে। মাত্র ৫টি ইয়াবার বিনিময়ে রিয়াদ তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় মামলা হলেও অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত আসামিরা বাদ পড়েছে এবং তারিনকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও কয়েকটি মাথার খোপা (ফুল) উদ্ধার করা হয়। ছুরিটি তারিনের বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খুনিদের পরিচয় : খোরশেদ হত্যায় ৪/৫ জনের সম্পৃক্ততা থাকলেও তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন-পেশাদার ছিনতাইকারী মোহাম্মদ হারুন। সে ক্রসফায়ারে নিহত খারুল আমিনের ভাই। তার বাবার নাম বশির আহমেদ। স্থায়ী ঠিকানা মহেশখালী। তার বিরুদ্ধে অন্তত তিন ডজন মামলা রয়েছে। সম্প্রতি ছিনতাইকারী হিসাবে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে। মোহাম্মদ জিসান (বাসানি) বিচ বাইকচালক হলেও পেশাদার ছিনতাইকারী। তার বাবা নূরুল ইসলাম বাসানি। সমিতিপাড়া ১ নম্বর মসজিদ গেট এলাকার বাসিন্দা। বেলাল ওরফে ঘোড়া বেলালের বাবার নাম নুরু সালাম। বালিকা মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা সে। সেও পেশাদার ছিনতাইকারী।

গোপন ভিডিও ঘিরে দ্বন্দ্ব : অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের কারণে খোরশেদের কাছে তারিনের সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর একাধিক ভিডিও ও ছবি ছিল। সম্প্রতি তারিন ঢাকায় গিয়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিরোধ একপর্যায়ে এমন অবস্থায় পৌঁছায়, দুজনই একে অপরকে হুমকি দিতে শুরু করেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে খোরশেদ ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে তারিনকে দমানোর চেষ্টা করেন। এতে তারিন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত ‘সমঝোতার’ কথা বলে সৈকতের কবিতা চত্বরে দুজনের দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।

ছিনতাইকারী হারুনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হারুনের মোবাইলে একটি কল আসে। কলদাতা জানায়, কবিতা চত্বরে এক ছেলে ও এক মেয়ে দেখা করবে; বনিবনা না হলে ছেলেটির মোবাইল ছিনতাই করে মেয়েটির কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তার দাবি, কলদাতা আয়ুব নামের এক ব্যক্তি, যিনি হারুনের বন্ধু এবং তারিনেরও ঘনিষ্ঠ।

যেভাবে খোরশেদ হত্যাকাণ্ড : ঘটনার দিন রাত ৯টার পর খোরশেদ ও তারিন আলাদা রিকশায় কবিতা চত্বরে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা সৈকতের বালিয়াড়িতে নেমে কথা বলতে শুরু করেন, যা দ্রুত তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একপর্যায়ে তারিন ব্যাগ থেকে একটি ছুরি বের করে আঘাতের চেষ্টা করলে খোরশেদ আত্মরক্ষায় তার চুলের মুঠি ধরে ধস্তাধস্তি করেন। ঠিক তখনই ঝাউবনের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে ওতপেতে থাকা হারুন, জিসান ও বেলালসহ অন্তত চারজন। তারা ছুরি দেখিয়ে খোরশেদের মোবাইলসহ সবকিছু দিতে বলে। আশ্চর্যজনকভাবে ঝগড়া ভুলে তারিনও খোরশেদকে মোবাইল ছিনতাকারীদের দিয়ে দিতে বলেন। তবে খোরশেদ প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও কিল-ঘুসি মারে তারা। একপর্যায়ে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার পর সেটি তারিনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তারিন ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে ফোনটি যাচাই করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, সেসব ভিডিও তখনই মুছে ফেলা হয়। হামলাকারীরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

সূত্র বলছে, ঘটনার প্রায় ২০ মিনিট পর তারিন আবার খোরশেদের কাছে ফিরে যান। ততক্ষণে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয় খোরশেদের।

আগেই দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তারিন : নিহত খোরশেদের বন্ধু রবিউল হোসেন জানান, ১৯ মার্চ রাতে আপন টাওয়ারের পাশে তাদের অস্থায়ী হালিম-বিরিয়ানি দোকানে উপস্থিত হন তারিন। এ সময় খোরশেদ কোথায়-জানতে চাইলে তারা জানান, জানেন না। এ সময় রবিউল ছাড়াও আকিব, ফেরদৌস ও ইয়াসিন উপস্থিত ছিলেন। পরে তারিন বলেন, তার ফোনে ব্যালেন্স নেই এবং একটি ফোন চান। ইয়াসিন তার ফোনটি দিলে খোরশেদকে কল করেন তারিন। ওইদিন ইয়াসিনের ব্যবহৃত ০১৮৮৩৪৯৬০৭০ নম্বর থেকে রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে ২ মিনিট ১১ সেকেন্ড কথা বলেন তারিন। এ সময় খোরশেদকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ৫ মিনিটের মধ্যে তার কাছে না এলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে জানান রবিউল।

তারিনের যত অসংগতিপূর্ণ আচরণ : সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, খোরশেদ বাসা থেকে বের হন রাত ৯টা ১৭ মিনিটে এবং তারিন রিকশায় কবিতা চত্বরে পৌঁছান ৯টা ২৭ মিনিটে। লাশ উদ্ধার করা খোরশেদের বন্ধু শাহজাহান জানান, রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তারিন নিজের মোবাইল থেকে তাকে কল দেন, তবে তিনি রিসিভ করেননি। পরে ১০টা ২৪ মিনিটে খোরশেদের মোবাইল থেকে কল পেয়ে তিনি জানান, খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে খোরশেদকে উদ্ধার করে ১০টা ৪১ মিনিটে হাসপাতালে নেন, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহজাহানের দাবি, ফোন পাওয়ার ১ মিনিটের মধ্যেই তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা দেন এবং ১০ মিনিটের কম সময়ে পৌঁছান। তারিন তাদেরকে দেখে চিৎকার করে বলেন, ছিনতাইকারীরা খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করেছে। তিনি প্রায় ৩০০ ফুট দূর থেকে খোরশেদের অবস্থান দেখিয়ে দেন। শাহজাহান জানান, খোরশেদকে গাড়িতে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তারিন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তারিন খোরশেদের মোবাইল থেকে কল দিলেও সেদিন খোরশেদের প্যান্টের পকেটেই তার মোবাইল পাওয়া যায়।

শাহাজান আরও জানান, ঘটনাস্থলে তারিনকে থ্রি-পিস পরা অবস্থায় দেখা গেলেও হাসপাতালে তিনি বোরকা ও মাস্ক পরে আসেন এবং অন্তত ২০-৩০ মিনিট পর সেখানে পৌঁছান, যা ছিল রহস্যজনক।

খোরশেদের মা সাবেকুন নাহার বলেন, তারিনই তাকে ডেকে নিয়ে হত্যার ফাঁদে ফেলেছে। তিনি দাবি করেন, তাদের মধ্যে তিন মাস ধরে কোনো সম্পর্ক ছিল না।

মামলার বাদী খোরশেদের ছোট ভাই নাওশাদ ও ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার ছুরিটি তারিনেরই ছিল। সেটা দিয়ে সে সবসময় বন্ধুদের ভয় দেখাতো।

এদিকে ঘটনার পর থেকে তারিনকে নিয়ে নানা অভিযোগ উঠলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গত তিন সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি প্রতিবেদক। কয়েক দফায় সামনাসামনি কথা বলার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি এড়িয়ে যান। তবে ফোনে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অন্যদিকে মামলার কয়েকজন আসামি ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, খোরশেদ হত্যার বিষয়ে কয়েকদিনের মধ্যে অগ্রগতি পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, মামলায় কার নাম আছে বা নেই, সেটি বড় বিষয় নয়, পুলিশ প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।