খুঁজুন
বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

২ কোটি মানুষকে আগামী ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
২ কোটি মানুষকে আগামী ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
শেয়ার করুন

পাবনার ঈশ্বরদীতে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। তাতে দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন মাইলফলক তৈরি হবে। কেন্দ্রটি চালুর পর স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়ে এখান থেকে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ।

 

তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরো ৩০ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটির আয়ু বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে। ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্যদিয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যের পথে এক বিশাল ধাপ এগিয়ে যাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এর মধ্যে দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী তালিকায় প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

 

 

বার্তা বাজার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে প্রতি ইউনিটের খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এখন দাম ১২ টাকা পড়বে। এককথায় এ কেন্দ্র চালু দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আজ মঙ্গলবার জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করা হবে। তবে এর পরও শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি থাকবে।

 

সবশেষে কয়েক মাস পর ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

কেন্দ্রটিতে একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে চলবে টানা দেড় বছর। ফলে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা কেনার ঝক্কি-ঝামেলা নেই। দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।

 

এ ছাড়া, রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট।

 

 

এবার প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপন করা হচ্ছে। এই ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল। প্রতিটি বান্ডেলে থাকে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম প্লেটসমৃদ্ধ রড। দুই বছর আগেই বাংলাদেশ ১৬৮টি এমন বান্ডেল সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষণে রাখা হবে।

ইউরেনিয়াম বান্ডেল চুল্লিতে স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর ধীরে ধীরে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন করা হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে টারবাইন ঘুরাবে, যার মাধ্যমে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় পরিশোধের সময় ২৮ বছর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় পরিশোধের সময় ২৮ বছর
শেয়ার করুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সব সহযোগিতা করছে রাশিয়া। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে শুরুতে প্রতি ইউনিটের খরচ ছয় টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এখন দাম প্রায় ১২ টাকা পড়তে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তিতে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। প্রায় ৬০ বছর আয়ুষ্কালের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরো ৩০ বছর পর্যন্ত চালু রাখা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ অত্যন্ত কম, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক। একই সঙ্গে কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাবে এই কেন্দ্র। পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক থাকলেও আধুনিক বাস্তবতায় এটি এখন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়।

প্রথমে ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট ট্যাবলেটের মতো জ্বালানি দানা (প্যালেট) বানানো হয়। এগুলোর ব্যাস সাধারণত আট থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার। এমন অনেক জ্বালানি দানা প্রায় চার মিটার দীর্ঘ ধাতব নলের ভেতরে সাজিয়ে তৈরি হয় জ্বালানি রড। আবার নির্দিষ্ট কাঠামোয় অনেক রড একসঙ্গে যুক্ত করলে তৈরি হয় জ্বালানি বান্ডেল বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান
এরপর আসে আরো কয়েকটি চালান। বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে অক্টোবরে রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হয় জ্বালানি। এরপর এটি মজুদ করে রাখা হয় রূপপুরে। অতিরিক্ত একটিসহ মোট ১৬৪টি বান্ডেল দেশে আনা হয়। রূপপুরে ব্যবহৃত প্রতিটি বান্ডেলে ৩১২টি জ্বালানি রড আছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই জ্বালানি বান্ডেল চুল্লির কেন্দ্রে বসানো হচ্ছে। প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি বসালে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ব্যবহৃত জ্বালানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকে। তাই তা বিশেষ নিরাপত্তায় রাশিয়ায় নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে প্রতিটি জ্বালানি বান্ডেলের হিসাব থাকবে।

রি-অ্যাক্টরের ডিজাইন অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রি-অ্যাক্টর কোরে স্থাপন করতে হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করে সম্পন্ন করতে হয় এবং বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ। এ পর্যায়ে ডিজাইন অনুযায়ী নিউক্লিয়ার ফিশন রি-অ্যাকশন ঘটানো হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, যার জন্য প্রায় ৩৪ দিন সময় প্রয়োজন হবে। পরীক্ষা শেষে রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে পর্যায়ক্রমে ৩ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৪০ দিন। রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ৩ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি চলবে নিরাপত্তাবিষয়ক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।

নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। অর্থাৎ এই সময়ে জ্বালানি আমদানি নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। এরপর বাংলাদেশকে জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে। তবে সেই জ্বালানি দুই বছর পর পর পরিবর্তন করলেই চলবে।

বজ্রপাতে প্রাণ গেল বাবার, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচল মেয়ে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
বজ্রপাতে প্রাণ গেল বাবার, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচল মেয়ে
শেয়ার করুন

 

রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৭টার দিকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মজ্জৎকোল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুমন ওই গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে।

সুমনের বন্ধু মফিজুল ইসলাম রুবেল জানান, সুমন একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। তবে সম্প্রতি তিনি চাকরি ছেড়ে বাড়িতেই ছিলেন। সকাল পৌনে ৭টার দিকে তিনি সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে কিছু বাজার আনতে যাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় এবং সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেয়ে সাফিয়ার নাক ও কান দিয়ে সামান্য রক্ত বের হলেও বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে।

মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, সুমন মন্ডলের আকস্মিক মৃত্যুতে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে যাচ্ছে

বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে পথচলা ‘ফিউচার স্টার’ তুর্যের 

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে পথচলা ‘ফিউচার স্টার’ তুর্যের 
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার আন্তর্জাতিক ম্যাচকে ঘিরে যখন সারাদেশে ক্রিকেট উন্মাদনা, ঠিক সেই আবহেই বিশেষ এক অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ১২ বছরের কিশোর তানজিম শাহরিয়ার তুর্য। ‘ফিউচার স্টার’ হিসেবে মাঠে থাকার সুযোগ পেয়ে সে যেন এক ধাপ এগিয়ে গেল তার স্বপ্নের পথেএকদিন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানোর স্বপ্নে।

 

সোমবার ( ২৭ এপ্রিল ) ম্যাচের দিন ‘ফিউচার স্টার’ হিসেবে মাঠে থাকার বিরল সুযোগ পেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে তুর্য। যার চোখে এখন একটাই স্বপ্ন, একদিন বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করা। জাতীয় দলের তারকাদের একেবারে কাছ থেকে দেখা, মাঠের রোমাঞ্চকর পরিবেশ অনুভব করা এবং হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে তুর্যর জন্য ছিল এটি এক স্মরণীয় মুহূর্ত।

 

এই অভিজ্ঞতা তাকে শুধু আনন্দই দেয়নি, বরং বড় হয়ে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নকে করেছে আরও দৃঢ়। মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার মনে গেঁথে যায় অনুপ্রেরণার অমলিন স্মৃতি হয়ে। এই যাত্রার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তার মা–বাবা।

 

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের রশিদেরঘোনা এলাকার নাজিম উদ্দীন নিয়াজ ও তানজিনা সুলতানা রিমি দাম্পতির ছেলে তানজিম শাহরিয়ার তুর্য। নগরীর সিডিএ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।পড়ালেখার পাশাপাশি তুর্য চট্টগ্রাম ‘কোয়ালিটি স্কুল অব ক্রিকেট’ একাডেমির নিয়মিত শিক্ষার্থীও ।

 

ছোটবেলা থেকেই তার খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও, পরিবার বিশেষ করে মা–বাবার উৎসাহই তাকে এই পথে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

 

তুর্যর মা তানজিনা সুলতানা রিমি বলেন, বর্তমান সময়ে বাচ্চারা মোবাইল ও নানা ডিভাইসে বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাই আমরা চেষ্টা করেছি তাকে মাঠমুখী করতে। ক্রিকেটের মাধ্যমে সে শুধু খেলাই শিখছে না, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধও শিখছে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

 

অন্যদিকে তুর্যর বাবা নাজিম উদ্দিন নিয়াজ বলেন, “ছেলের এই অর্জনে আমরা গর্বিত। এত বড় ম্যাচে ‘ফিউচার স্টার’ হিসেবে মাঠে থাকা তার জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

 

আমরা চাই, সে ধৈর্য ও পরিশ্রমের এই খুদে ক্রিকেটাররা ওদের প্রিয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে, ওদের স্বপ্নের সীমানা বড় হবে এবং একদিন বাংলাদেশের হয়ে খেলবে।”

 

তিনি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ জানায় এই উদ্যোগে জন্য।

 

 

তুর্য নিজেও তার স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের এত কাছ থেকে দেখে আমি ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছি। একদিন আমিও বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চাই।

 

একাডেমির কোচদের মতে, তুর্যর মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট সম্ভাবনা। সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিয়মিত অনুশীলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সে আরও ভালো জায়গায় পৌঁছাতে পারবে।

 

নিয়মিত অনুশীলন, কোচদের দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের উৎসাহে এখন সে হয়ে উঠেছে আত্মবিশ্বাসী এক কিশোর ক্রিকেটার। মাঠে তার পারফরম্যান্স যেমন উন্নত হচ্ছে, তেমনি গড়ে উঠছে শৃঙ্খলাবোধ, দলগত মানসিকতা ও নেতৃত্বগুণ।

 

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড ম্যাচের এই অভিজ্ঞতা তুর্যর জীবনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। পরিবার, কোচ এবং নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিএই তিনের সমন্বয়েই এগিয়ে চলছে তার স্বপ্নপূরণের যাত্রা।

 

তুর্য একজন প্রতিভাবান অলরাউন্ডার -ব্যাটিং ও বোলিং দু’দিকেই সমান দক্ষতায় নিজেকে প্রমাণ করে চলেছে। মাঠে তার আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স, ভবিষ্যতে বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সে এগিয়ে যাচ্ছে দৃঢ় প্রত্যয়ে।