চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার আন্তর্জাতিক ম্যাচকে ঘিরে যখন সারাদেশে ক্রিকেট উন্মাদনা, ঠিক সেই আবহেই বিশেষ এক অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ১২ বছরের কিশোর তানজিম শাহরিয়ার তুর্য। ‘ফিউচার স্টার’ হিসেবে মাঠে থাকার সুযোগ পেয়ে সে যেন এক ধাপ এগিয়ে গেল তার স্বপ্নের পথেএকদিন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানোর স্বপ্নে।
সোমবার ( ২৭ এপ্রিল ) ম্যাচের দিন ‘ফিউচার স্টার’ হিসেবে মাঠে থাকার বিরল সুযোগ পেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে তুর্য। যার চোখে এখন একটাই স্বপ্ন, একদিন বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করা। জাতীয় দলের তারকাদের একেবারে কাছ থেকে দেখা, মাঠের রোমাঞ্চকর পরিবেশ অনুভব করা এবং হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে তুর্যর জন্য ছিল এটি এক স্মরণীয় মুহূর্ত।
এই অভিজ্ঞতা তাকে শুধু আনন্দই দেয়নি, বরং বড় হয়ে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নকে করেছে আরও দৃঢ়। মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার মনে গেঁথে যায় অনুপ্রেরণার অমলিন স্মৃতি হয়ে। এই যাত্রার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তার মা–বাবা।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের রশিদেরঘোনা এলাকার নাজিম উদ্দীন নিয়াজ ও তানজিনা সুলতানা রিমি দাম্পতির ছেলে তানজিম শাহরিয়ার তুর্য। নগরীর সিডিএ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।পড়ালেখার পাশাপাশি তুর্য চট্টগ্রাম ‘কোয়ালিটি স্কুল অব ক্রিকেট’ একাডেমির নিয়মিত শিক্ষার্থীও ।
ছোটবেলা থেকেই তার খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও, পরিবার বিশেষ করে মা–বাবার উৎসাহই তাকে এই পথে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তুর্যর মা তানজিনা সুলতানা রিমি বলেন, বর্তমান সময়ে বাচ্চারা মোবাইল ও নানা ডিভাইসে বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাই আমরা চেষ্টা করেছি তাকে মাঠমুখী করতে। ক্রিকেটের মাধ্যমে সে শুধু খেলাই শিখছে না, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধও শিখছে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
অন্যদিকে তুর্যর বাবা নাজিম উদ্দিন নিয়াজ বলেন, “ছেলের এই অর্জনে আমরা গর্বিত। এত বড় ম্যাচে ‘ফিউচার স্টার’ হিসেবে মাঠে থাকা তার জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
আমরা চাই, সে ধৈর্য ও পরিশ্রমের এই খুদে ক্রিকেটাররা ওদের প্রিয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে, ওদের স্বপ্নের সীমানা বড় হবে এবং একদিন বাংলাদেশের হয়ে খেলবে।”
তিনি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ জানায় এই উদ্যোগে জন্য।
তুর্য নিজেও তার স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের এত কাছ থেকে দেখে আমি ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছি। একদিন আমিও বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চাই।
একাডেমির কোচদের মতে, তুর্যর মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট সম্ভাবনা। সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিয়মিত অনুশীলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সে আরও ভালো জায়গায় পৌঁছাতে পারবে।
নিয়মিত অনুশীলন, কোচদের দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের উৎসাহে এখন সে হয়ে উঠেছে আত্মবিশ্বাসী এক কিশোর ক্রিকেটার। মাঠে তার পারফরম্যান্স যেমন উন্নত হচ্ছে, তেমনি গড়ে উঠছে শৃঙ্খলাবোধ, দলগত মানসিকতা ও নেতৃত্বগুণ।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড ম্যাচের এই অভিজ্ঞতা তুর্যর জীবনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। পরিবার, কোচ এবং নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিএই তিনের সমন্বয়েই এগিয়ে চলছে তার স্বপ্নপূরণের যাত্রা।
তুর্য একজন প্রতিভাবান অলরাউন্ডার -ব্যাটিং ও বোলিং দু’দিকেই সমান দক্ষতায় নিজেকে প্রমাণ করে চলেছে। মাঠে তার আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স, ভবিষ্যতে বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সে এগিয়ে যাচ্ছে দৃঢ় প্রত্যয়ে।
আপনার মতামত লিখুন