খুঁজুন
, ,

কক্সবাজার সৈকত দখল করে ফের চার শতাধিক দোকান নির্মাণ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার সৈকত দখল করে ফের চার শতাধিক দোকান নির্মাণ
শেয়ার করুন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সুগন্ধা ও আশপাশের বালিয়াড়ি দখল করে আবারও দোকানপাট-রেস্তোরাঁ নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাতের অন্ধকারে বালিয়াড়ি দখল করে দোকানপাট গড়ে উঠলেও কেউ বাধা দিচ্ছেন না। গত চার-পাঁচ দিনে অন্তত চার শতাধিক দোকান-রেস্তোরাঁ বসানো হয়েছে। সৈকতের ঝাউবাগান ও অন্যান্য বালিয়িাড়ি দখল করে আরও দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

 

গত ৯ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৯৩০টি দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

 

 

কয়েক দিন পর সুগন্ধা সৈকত পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, উচ্ছেদ করা বালিয়াড়িতে আর কোনো দোকান যেন না বসে, দখল না হয়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সতর্ক থাকবে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা অমান্য করে ঈদুল আজহার ছুটির সময় কতিপয় ব্যক্তি সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে চার শতাধিক দোকানপাট স্থাপন করেছে।

 

গতকাল শনিবার রাতেও কলাতলী সৈকত ও সিগাল হোটেলের সামনে ঝাউবাগান দখল করে বেশ কিছু দোকানপাট বসানো হয়। দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, শামুক-ঝিনুক দিয়ে তৈরি রকমারি পণ্যসামগ্রী, কাপড়, রোদচশমা, আচার-প্রসাধনসামগ্রী, ভাজা মাছ, চা-কফি ও খাবার বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ দোকান করা হয়েছে ভ্যানের ওপর। সেগুলোর নিচে চারটি করে চাকা লাগানো। উচ্ছেদ অভিযানে নামলে যেন দ্রুত দোকানপাট অন্যত্র সরিয়ে ফেলা যায়, এ জন্য এমন ব্যবস্থা বলে দোকানিরা জানালেন।

 

শহরের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতকে ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। সৈকতের জোয়ার-ভাটার অঞ্চল থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত বালিয়াড়িতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নয়ন নিষিদ্ধ। বালিয়াড়িতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। পরিবেশবিষয়ক সংগঠন সেভ দ্য কক্সবাজার শাখার সভাপতি তৌহিদ বেলাল বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একটি চক্র বালিয়াড়িতে দোকান বসানোর সুযোগ দিয়ে লোকজন থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সৈকতে নামার প্রবেশ মুখে এসব ঝুপড়ি দোকানপাট পর্যটকদের দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। গত ১২ মার্চ থেকে জেলা প্রশাসন কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পর পর্যটকের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু ঈদুল আজহার রাত থেকে আবার দোকানপাট নির্মাণ শুরু হওয়ায় হতাশা দেখা দেয়। প্রশাসন বাধা না দেওয়ায় যত্রতত্রে আরও স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। তাতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে।

 

আজ রোববার দুপুরে সৈকতে সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, গত ১২ মার্চ যৌথ বাহিনীর অভিযানে যেসব জায়গা থেকে দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছিল, ঠিক সেসব জায়গায় পুনরায় বসানো হয়েছে দোকানপাট। সুগন্ধা জামে মসজিদের পাশে বালিয়াড়ি দখল করে শতাধিক দোকানপাট বসানো হলেও কোনো দোকানে সাইনবোর্ড বা নাম নেই। দোকানমালিকের নাম পরিচয় জানাতে অনীহা প্রকাশ করেন কর্মচারীরা।

 

একটি দোকানের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দোকানমালিকেরা হাইকোর্টে রিট করেছেন। এরপর তাঁরা (দোকানমালিকেরা) বালিয়াড়িতে নতুন করে দোকানপাট বসানো শুরু করেন। ১২ মার্চ উচ্ছেদের আগে এই দোকান টানা ১০ বছর এখানে ছিল। দোকানে কাপড়চোপড়-আচার, চকলেটসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

 

পাশে ত্রিপলের ছাউনির নিচে ভ্যানগাড়ি দিয়ে বসানো কয়েকটি দোকানেও বিক্রি হচ্ছে শামুক-ঝিনুক, আচার, চা, পান-সিগারেট, প্রসাধনসামগ্রী ইত্যাদি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৈকত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসনের নিয়োগকৃত একজন বিচকর্মী বলেন, ঈদের আগের রাত থেকে ঝুপড়ি দোকান বসানোর কাজ শুরু হয়। গত কয়েক দিনে চার শতাধিক দোকানপাট বসানো হয়েছে। সকাল সাতটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দোকানসমূহে বেচাবিক্রি চলে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

 

পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে আবারও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে শত শত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ-পর্যটকসহ সাধারণ মানুষকে হতাশ করছে। এর দেখাদেখি অনেকে সুগন্ধা, কলাতলী, সিগাল পয়েন্টের বালিয়াড়ি ও ঝাউবাগান দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। এমনকি কলাতলী সৈকতের বালিয়াড়িতে সৃজিত সাগরলতা এলাকা ঘিরে সেখানে রেস্তোরাঁ তৈরি ও বাজার বসানো হয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে সুগন্ধা-কলাতলী-লাবণী পয়েন্ট থেকে ৯ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিলাম। এ ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও ছিল। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত (উচ্ছেদ হওয়া) ব্যক্তিরা উচ্চ আদালতে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রিট করেন। আদালত থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। রিটের জবাব প্রদানের পর আদালতের নির্দেশনা মতে অবৈধ স্থাপনা ও দখলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 

কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, প্রতিবছর কক্সবাজারে ঘুরতে আসেন ৭০ থেকে ৮০ লাখ পর্যটক। বেশির ভাগ পর্যটক একবারের জন্য হলেও সৈকতে নামেন। পর্যটকেরা সৈকতে নামার সময় বালিয়াড়িতে ঝুপড়ি দোকানের বস্তি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সেখানে নানা অপরাধও ঘটে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত ১২ মার্চ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর সৈকতে মুক্ত পরিবেশ ফিরে এসেছিল। এখন উচ্ছেদ হওয়া বালিয়াড়ি দখল করে ফের ঝুপড়ি স্থাপনা নির্মাণ করায় পুরোনো চেহারা ফিরে এসেছে। এ কারণে সন্ধ্যায় ও রাতে পর্যটকেরা সৈকতে নামতে অনীহা প্রকাশ করেন।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’