খুঁজুন
, ,

অনুমোদন পেলো আনোয়ারা-চকরিয়া মহাসড়ক, অগ্রগতি নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
অনুমোদন পেলো আনোয়ারা-চকরিয়া মহাসড়ক, অগ্রগতি নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের
শেয়ার করুন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প’ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

অন্যদিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও অর্থনৈতিক করিডোর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি এখনও পরিকল্পনার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। একনেকে আনোয়ারা-চকরিয়া আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সম্প্রসারণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় মোট ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার আটশ ৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন তিন হাজার আটশ ১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর অন্যতম হলো আনোয়ারা-চকরিয়া সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কালাবিবির দিঘি থেকে শুরু হয়ে চকরিয়ার ঈদমনি পর্যন্ত বিদ্যমান ৫৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে ১০ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্থে উন্নীত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম আঞ্চলিক সড়ক। এ পথে বাঁশখালী ইকোপার্ক, বাঁশখালী সমুদ্রসৈকত, বৈলগাঁও চা-বাগান, নৌবাহিনীর সাবমেরিন ঘাঁটি, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গন্ডামারা বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, কেইপিজেড, পেকুয়া, চকরিয়া ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে যাতায়াত করা হয়। সড়কটি যানবাহনের চাপের তুলনায় সরু হওয়ায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত হবে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে সরাসরি চকরিয়া-বদরখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। ফলে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রায় দুই হাজার মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পরিকল্পনাবিদদের মতে, বর্তমানে ঢাকা থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরগামী যানবাহনকে কর্ণফুলী টানেল হয়ে আনোয়ারা-শিকলবাহা ওয়াই জংশন-পটিয়া বাইপাস-গাছবাড়িয়া-চকরিয়া-বদরখালী-মাতারবাড়ী রুটে প্রায় একশ ৩১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলী টানেল থেকে কালাবিবির দিঘি-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-চকরিয়া-বদরখালী-মাতারবাড়ী রুটে দূরত্ব কমে ৯১ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ এবং প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রাসময় সাশ্রয় হবে। নগরায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের বিকল্প নেই। বিশেষ করে কর্ণফুলী টানেলের কার্যকারিতা বাড়াতে সংযোগ সড়কগুলোকে প্রশস্ত ও উন্নত করতে হবে। এতে মাতারবাড়ী, চট্টগ্রাম বন্দর এবং টানেল ব্যবহারের সুবিধা বাড়বে, দুর্ঘটনা কমবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অন্যদিকে, কক্সবাজারগামী যানবাহন কর্ণফুলী টানেল হয়ে কালাবিবির দিঘি-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-একতাবাজার অথবা ঈদমনি-চকরিয়া রুট ব্যবহার করলে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরত্ব এবং ৪৫ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ৩০ দশমিক ৮৬ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ১৪ লাখ ১০ হাজার সাতশ ৮৩ ঘনমিটার মাটির কাজ, ৪৪ দশমিক তিনশ ৮৯ কিলোমিটার পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ, ৪৮ দশমিক ০৪৮ কিলোমিটার সার্ফেসিং এবং ১০ দশমিক একশ ৫২ কিলোমিটার আরসিসি পেভমেন্ট নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া, ৩০টি বাস-বে, ৭৮টি নতুন আরসিসি বক্স কালভার্ট, ১৩টি কালভার্ট প্রশস্তকরণ, প্রায় ১০ কিলোমিটার ইউ-ড্রেন, ১৫ কিলোমিটার সসার ড্রেন, ১২ হাজার বর্গমিটার সিসি ব্লক, দুই কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, তিন কিলোমিটার এমএস পাইপ প্যালাসাইডিং এবং ৫৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে।

অগ্রগতি নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের

এদিকে কক্সবাজারে পর্যটকদের যাতায়াত, দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো মানুষের দৈনন্দিন চলাচল এবং বাণিজ্যিক পরিবহনের প্রধান ভরসা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক বর্তমানে তীব্র যানজট ও ঘনঘন দুর্ঘটনার কারণে জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সরু দুই লেনের এ মহাসড়কে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সড়কটি চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। যদিও মেগা প্রকল্প হিসেবে এখনও অনুমোদন না পেলেও দুর্ঘটনা এড়াতে সওজ জরুরি কিছু স্থানে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করেছে।

দেখা গেছে, দুর্ঘটনাপ্রবণ হটস্পট হিসেবে পরিচিত লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় নয়শ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। গত ১১ মে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় দোহাজারী হাইওয়ে সড়ক বিভাগের আওতায় এ কাজ শুরু হয়।

সওজ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত আট দশমিক চার কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। এ প্যাকেজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।

লোহাগাড়ার রাজঘাটা থেকে চুনতির মিঠার দোকান এলাকা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছে এমএ কনস্ট্রাকশন, যার ব্যয় ৩৪ কোটি টাকা। আর চুনতির মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন, যার ব্যয় ৩০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া চন্দনাইশ স্টেশন, লোহাগাড়া উপজেলা সদর বটতলী স্টেশন এবং পদুয়া স্টেশন এলাকায় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে মাসুদ হাইটেক নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা।

সওজের চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, আনোয়ারা-চকরিয়া সড়ক প্রকল্পের খসড়া প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠানো হয়েছিল। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে আরও চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক প্রশস্ত করছি, যাতে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা যায়।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।