খুঁজুন
, ,

‘হ্যান্ড অব গডের’ ৪০ বছর পূর্তি আজ, যে রাতে অমর হয়েছিলেন ম্যারাডোনা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
‘হ্যান্ড অব গডের’ ৪০ বছর পূর্তি আজ, যে রাতে অমর হয়েছিলেন ম্যারাডোনা
শেয়ার করুন

৪০ বছর পূর্তি

ফকল্যান্ড যুদ্ধের ৪ বছর পর মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটাকেই প্রতিশোধের যথার্থ মঞ্চ বানিয়ে ফেলেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। ২২ জুন, বিকেলে ১ লাখের বেশি দর্শককে স্বাক্ষী রেখে পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার ছোটখাট মানুষটা জন্ম দিলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তের। মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল, যা আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি ম্যারাডোনাকে দিয়েছে অমরত্ব; কারো চোখে ইতিহাসের নায়ক, কারো কাছে চরম বিতর্কিত এক খলনায়ক।

সোমবার (২২ জুন) রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে নামছে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। কাকতালীয়ভাবে দিনটি মিলে গেছে ৪০ বছর আগের এক বিখ্যাত ঘটনার সঙ্গে। সেদিন অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে এক আর্জেন্টাইন পেয়েছিলেন অমরত্বের স্বাদ। একই ম্যাচে ৫১ ও ৫৬ মিনিটে মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে ফুটবলের এই মহান গল্পকার জন্ম দিয়েছিলেন ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে বিখ্যাত দুই গল্পের।

হ্যান্ড অব গড: কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচের গোলশূন্য প্রথমার্ধ দেখে কেউই আশা করেনি দ্বিতীয়ার্ধে তাদের জন্য কী বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। দ্বিতীয়ার্ধের ৬ মিনিটে ম্যারাডোনা নিজেদের বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সতীর্থ হোর্হে ভালদানোকে পাস দেন। ভালদানো কয়েকজন ইংলিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বলটি প্রতিপক্ষের দখলে চলে যায়। এরপর কয়েকবার এদিক-ওদিক হওয়ার পর ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার স্টিভ হজ বলটি নিজেদের গোলের দিকে উঁচু করে ক্লিয়ার করেন।

খেলোয়াড়দের অবস্থানের কারণে ম্যারাডোনা অফসাইডে পড়তে পারতেন, কিন্তু বলটি যেহেতু একজন ইংলিশ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে এসেছিল, তাই অফসাইডের কোনো অপরাধ হয়নি। পেনাল্টি বক্সে একা দাঁড়িয়ে থাকা ম্যারাডোনা নিচে নামতে থাকা বলটির জন্য ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে লড়াইয়ে নামেন। শিলটন উচ্চতায় ম্যারাডোনার চেয়ে প্রায় ২০ সেন্টিমিটার (৮ ইঞ্চি) বেশি ছিলেন।

শিলটন ডান হাত উঁচিয়ে সামনে ঝাঁপ দেন, আর ম্যারাডোনা বাঁ হাত প্রসারিত করে লাফিয়ে ওঠেন। মারাডোনার মাথার কাছে তোলা মুষ্টিবদ্ধ বাঁ হাতটি সবার আগে বলে স্পর্শ করে। ফলে বলটি শিলটনের মাথার ওপর দিয়ে লুপ খেয়ে জালে ঢুকে যায়।

গোল হওয়ার পর ম্যারাডোনা উদযাপন শুরু করেন, তবে একই সঙ্গে পাশ ফিরে রেফারি ও লাইন্সম্যানের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হতে চান যে গোলটি দেওয়া হয়েছে কি না। গোলের স্বীকৃতি পাওয়ার পর তিনি পূর্ণ উদযাপনে মেতে ওঠেন।

তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের প্রথমে গোলটি মেনে নেন। তবে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তিনি তার সহকারী লাইন্সম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করেন। লাইন্সম্যান গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

ম্যাচের পর ম্যারাডোনা অ্যাজটেকার ড্রেসিং রুমে ‘ক্রোনিকা’কে বলেছিলেন, ‘গোলটি হয়েছিল একটু আমার মাথা দিয়ে, আর একটু ঈশ্বরের হাত (হ্যান্ড অব গড) দিয়ে।’ তখনই প্রথম ‘হ্যান্ড অব গড’ শব্দটি উঠে আসে এবং পরবর্তীতে এই বিতর্কিত গোলটি এই নামেই পরিচিতি পায়।

সেই গোলের ১২ বছর পর ১৯৯৮ সালে ম্যারাডোনা এক ডকুমেন্টারিতে বলেন, ‘আমি ইংরেজদের অজান্তে তাদের মানিব্যাগ চুরি করেছি, একবারও চোখের পলক না ফেলে। শিলটন, সব গোলকিপারই বোকা, আর তুমি তার ব্যতিক্রম নও।’

মেক্সিকান ফটোগ্রাফার আলেহান্দ্রো ওহেদা কার্বাহাল সেদিন সেই মুহূর্তটি ছবিতে ধারণ করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায় ম্যারাডোনা গোল করার ঠিক আগমুহূর্তে তার বাঁ হাত দিয়ে বলটি স্পর্শ করেছিলেন।

২০০৫ সালে, সেই গোলের ১৯ বছর পর, ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার টেলিভিশন অনুষ্ঠান লা নোচে দেল টেনে স্বীকার করেন যে তিনি সেই গোলটি হাত দিয়ে করেছিলেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ম্যারাডোনার এই স্বীকারোক্তি/ক্ষমা প্রার্থনার খবর প্রকাশ করে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটন সেই ক্ষমা প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, এটি অনেক দেরিতে এসেছে।

গোল অব দ্য সেঞ্চুরি: ম্যারাডোনার সেই হাত দিয়ে করা গোলের বিতর্কের নিচে ঢাকা পড়ে গেছে একই ম্যাচে ৪ মিনিট পর করা তার অসাধারণ সেই গোল। যে গোলকে বিশ্বকাপ তো বটেই, ফুটবল ইতিহসেরই সেরা গোলের মর্যাদা দেয়া হয়।

ম্যাচের ৫৬ মিনিটে নিজের অর্ধে পাস পান ম্যারাডোনা। এরপরই তিনি শুরু করেন তার ৬০ গজ, ১০ সেকেন্ডের সেই দৌড়, যেখানে তিনি একে একে পিটার বিয়ার্ডসলি, পিটার রিড, টেরি বুচার (দুবার) এবং টেরি ফেনউইক এই চার ইংলিশ আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে কাটিয়ে যান।

 

এই আক্রমণ শেষ হয় ম্যারাডোনার এক চমৎকার ফেইন্টে, যা গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে মাটিতে ফেলে দেয়, এরপর তিনি বলটি ফাঁকা জালে ঠেলে দেন।স্কোর ২–০, আর্জেন্টিনার পক্ষে।

পরবর্তীতে গোলটি সম্পর্কে মারাদোনা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আসলে ভ্যালদানোকে পাস দেওয়ার জন্য খেলাটি শুরু করেছিলাম, কিন্তু যখন আমি বক্সে পৌঁছাই, তারা আমাকে ঘিরে ফেলে এবং আমার কোনো জায়গা ছিল না। তাই আমাকে আক্রমণ চালিয়ে নিজেই শেষ করতে হয়েছে।’

তিনি পরে ইংল্যান্ড দলের ফেয়ার প্লে-এর প্রশংসাও করেন, বলেন, ‘আমি মনে করি না আমি এটা অন্য কোনো দলের বিপক্ষে করতে পারতাম, কারণ তারা সবাই আপনাকে ট্যাকল করে ফেলে দিত। তারা সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে ভদ্র দলগুলোর একটি।’

২০০২ ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ফিফার ওয়েবসাইটে এই গোলটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে নির্বাচিত হয়। এটি ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েনের ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে করা গোলকে হারিয়ে প্রথম হয়, আর ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপের আরেকটি গোল (বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেমিফাইনাল) চতুর্থ স্থান পায়।

স্প্যানিশভাষী দেশগুলোতে এই গোলটি সাধারণত উরুগুয়ের সাংবাদিক ভিক্টর হুগো মোরালেসের আবেগঘন লাইভ ধারাভাষ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তার স্প্যানিশ ধারাভাষ্যের অনুবাদ অনেকটা এমন, ‘“এখানে ম্যারাডোনা… দুইজনকে কাটাল… ম্যারাডোনা বল নিয়ে দৌড়াচ্ছে… জিনিয়াস, জিনিয়াস, জিনিয়াস… গোল! গোল! আমি কাঁদতে চাই… ঈশ্বর! ফুটবলের জন্য ধন্যবাদ… ম্যারাডোনা… কী অসাধারণ গোল!”’

ম্যাচের ৮১ মিনিটে ইংল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন গ্যারি লিনেকার।

সেই ম্যাচের ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও আলোচনা থামেনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ম্যারাডোনা নিজেও সেই দুই গোলের মোহগ্রস্ত দশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ইনফোবায়েতে ২০২০ সালে, জীবনের শেষ দিকের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘ওই গোলটা আমাকে এখনো নাড়িয়ে দেয়, কারণ আমি এতে সবসময় নতুন কিছু খুঁজে পাই। শিলটনের ভুল ক্লিয়ারেন্স বা ব্ল্যাক এনরিকের পাস, কারণ অন্য কেউ হলে শুধু বলটা দূরে মেরে দিত, কিন্তু সে আমাকে দেখে পাস দিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে আমি বলেছি দ্বিতীয় গোলটা করেছি যেন কেউ না বলতে পারে আমি হাতে এক গোল করেছি।’

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসায় নিজের কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পর ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন শাহজালাল রুমি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগে তিনি বাসা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভবনটির কেয়ারটেকার। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানা যায়নি।

ভবনটির কেয়ারটেকার জানান, টঙ্গীর মাদ্রাসায় ওই ঘটনার পর থেকেই রুমি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায়ও ছিলেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন রুমি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখা যায়। কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ভয়ের কারণে রুমির পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না।

 

হাবিবুর রহমান আরও জানান, যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন।

রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী।

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

 

পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

 

তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

 

মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়

 

ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।