খুঁজুন
, ,

* এক দিনের কাজ, ৩০ দিনের বিল * ৪ বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত * অভিযুক্তদের গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন * ‘মঞ্জু সিন্ডিকেটে’ তদন্ত প্রভাবিত

একদিনের ক্রেন ভাড়া ৪৬ লাখ! বিসিআইসিতে ‘মঞ্জু সিন্ডিকেট’

শাহেদ ফেরদৌস হিরু
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
একদিনের ক্রেন ভাড়া ৪৬ লাখ! বিসিআইসিতে ‘মঞ্জু সিন্ডিকেট’
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আওতাধীন আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডে (এএফসিসিএল) এক দিনের জন্য ব্যবহৃত দুটি ক্রেনের বিপরীতে এক মাসের ভাড়া দেখিয়ে প্রায় ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৭৫৬ টাকা পরিশোধের অভিযোগের চার বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ হয়নি। অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তদন্তের আওতায় থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এতে বিসিআইসির অভ্যন্তরে তদন্তের নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি এবং দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

দুর্নীতির অভিযোগটি ঘিরে বিসিআইসি একাধিকবার তদন্ত কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ৮ জুন জারি করা এক পুনঃদপ্তর আদেশে বিসিআইসির মহাব্যবস্থাপক সাইফুল আলমকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। আদেশে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চিফ পারসোনেল বরাবর জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রায় দেড় মাস পার হয়ে গেলেও প্রতিবেদন জমা হয়নি।
এর আগে ১১ জুন জারি করা তদন্ত নোটিশে দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে নয়জন কর্মকর্তাকে তলব করা হয়। তারা হলেন— মহাব্যবস্থাপক মো. মনজুরুল হক, নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আশরাফুল জাকারিয়া, ভারপ্রাপ্ত প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা আবুল কাশেম (রনি), উপ-প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ মোতালেব, ভারপ্রাপ্ত প্রধান রসায়নবিদ মো. রফিক, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. জাহিদ হাসান, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. শফিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জসিম উদ্দিন আহমেদ তুহিন এবং অবসরপ্রাপ্ত রসায়নবিদ মো. তোতাসেম হক।
তদন্তের আওতায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক মো. মনজুরুল হক বর্তমানে বিসিআইসির ৩৪ বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই প্রকল্পে কর্মরত রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল জাকারিয়াও। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিয়েও অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্থানীয় ক্রয়াদেশের মাধ্যমে এএফসিসিএলের জন্য ১৫০ মেট্রিক টন ও ৫০ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ক্রেন ৩০ দিনের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ক্রেন দুটি কারখানায় হস্তান্তরের পর ৩০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু কারখানার গেট রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, ক্রেন দুটি ২০২২ সালের ২৯ মার্চ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কারখানায় প্রবেশ করে এবং পরদিন ৩০ মার্চ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে কারখানা ত্যাগ করে। অর্থাৎ বাস্তবে মাত্র এক দিন অবস্থান করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলমগীর এন্টারপ্রাইজকে পুরো ৩০ দিনের ভাড়া বাবদ ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৭৫৫ টাকা ৯০ পয়সা পরিশোধ করা হয়।
বিসিআইসির নিরীক্ষা বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে ক্রেন ব্যবহার না করেই পূর্ণ বিল পরিশোধের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে দায় নির্ধারণ করে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ নিরীক্ষা বিভাগকে অবহিত করার সুপারিশও করা হয়। তবে সেই সুপারিশের বাস্তবায়ন চার বছরেও হয়নি।
এদিকে তদন্ত দীর্ঘসূত্রতার পেছনে বিসিআইসির অভ্যন্তরে প্রভাবশালী একটি কর্মকর্তা-কেন্দ্রিক বলয় কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিসিআইসির একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, এই প্রভাবের কারণেই তদন্ত বারবার বিলম্বিত হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিসিআইসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মো. মনজুরুল হককে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে উঠেছে, যা অভ্যন্তরীণভাবে ‘মঞ্জু সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত।
তাদের দাবি, তদন্ত কমিটির সদস্যরা নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দিলে প্রভাবশালী মহলের বিরাগভাজন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। আবার অভিযুক্তদের পক্ষে মত দিলে ভবিষ্যতে আইনি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে পারেন— এমন শঙ্কাও রয়েছে। এই দ্বৈত চাপের কারণেই তদন্ত কার্যক্রম বারবার বিলম্বিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে ‘মঞ্জু সিন্ডিকেট’ কিংবা তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সম্পর্কে বিসিআইসির কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিসিআইসির মহাব্যবস্থাপক সাইফুল আলম বলেন, আমাদের অফিসের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এই তদন্তের কাজ করতে হচ্ছে। পূর্বের কমিটির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে হচ্ছে, নতুন করে প্রত্যেকের সাক্ষাৎকার নিতে হচ্ছে। কয়েকজনের সাক্ষাৎকার এখনো বাকি আছে। তবে তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সহসাই আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।
অন্যদিকে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান বলেন, এই তদন্তের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব কেন তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে না। যদি তদন্তে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চার বছর ধরে ঝুলে থাকা এই তদন্ত শুধু একটি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের নিষ্পত্তির প্রশ্ন নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি, তদন্তের কার্যকারিতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, নাকি তদন্ত আরও দীর্ঘসূত্রতার জালে আটকে থাকবে— এখন সেই উত্তরই অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।