কক্সবাজারে টিকিট কালোবাজারি, ধরা পড়ায় বুকিং সহকারীকে বদলি
কক্সবাজারের আইকনিক রেল স্টেশন কেন্দ্রিক টিকিট কালোবাজারিদের একটি বড় সিন্ডিকেটের অসাধু কর্মকাণ্ড শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে ধরা পড়েছে। টিকিট কালোবাজারিদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার স্টেশনের একজন টিকিট বুকিং সহকারীকে হাসানপুর রেল স্টেশনে বদলি করা হয়েছে। তবে স্টেশনে কর্মরত সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য রেল কর্মচারীরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
স্টেশন মাস্টার গোলাম রাব্বানী মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টিকিট কেলেঙ্কারির ঘটনা উদঘাটনের পর টিকিট বুকিং সহকারী ইব্রাত হোসেনকে ফেনীর হাসানপুর স্টেশনে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কক্সবাজারে রেল যোগাযোগ শুরু হওয়ার পর থেকেই টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের তৎপরতার কারণে ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে যাতায়াতকারী পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীরা নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে টিকিট কেলেঙ্কারির ফলে পর্যটকরা নানাভাবে হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন। যদিও বহুবার স্টেশন মাস্টারকে অভিযোগ জানানো হয়েছে, কিন্তু গত দুই বছর ধরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর ফলে রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের কিছু কর্মচারীরা বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইকনিক স্টেশনের টিকিট বুকিং কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেজামুদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন বুকিং সহকারীর যোগসাজসে কালোবাজারি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় টিকিট কালোবাজারিদের হাতে সরাসরি কাউন্টার থেকে টিকিট সরবরাহ করা হয়। যাত্রী কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে ফিরে গেলে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা পর্যটক ও যাত্রীদের দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেন।
অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজারের আইকনিক রেল স্টেশনের টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আছেন চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের অডিট বিভাগের তারিফ নামের একজন অডিটরও।
প্রতিমাসে অডিটের নামে তিনি কক্সবাজারে এসে স্থানীয় হোটেলে থাকেন, এবং হোটেলের বিল পরিশোধ করা হয় টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের তহবিল থেকে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে কক্সবাজার-ঢাকা রেলপথে দৈনিক ২টি এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলপথে ২টি ট্রেনে ৮ হাজারেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করছেন।

আপনার মতামত লিখুন