খুঁজুন
, ,

প্রতিমাসে অর্ধকোটি টাকার খেল

কক্সবাজারে ট্রাফিক পুলিশ ও দালালের চাঁদার রাজত্ব

রবিউল ইমরান
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে ট্রাফিক পুলিশ ও দালালের চাঁদার রাজত্ব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিস্তৃত টোকেন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার বৈধ ও অবৈধ লাইসেন্সবিহীন সিএনজি চালক ও মালিকদের কাছ থেকে মাসিক চুক্তির মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

 

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমাসে মাসোহারার অর্ধ কোটি টাকা ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্দিষ্ট দালালের কাছ সংগ্রহ করে ট্রাফিক ইনচার্জ এডমিন খসরু পারভেজকে বুঝিয়ে দেন। খসরু পারভেজ নিজেই জুনিয়র ট্রাফিক পুলিশদের মাসোহারার টাকা বন্টন করে দেন এবং উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে ভাগের টাকা পৌছিয়ে দেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের অন্তত ১০টি সিএনজি স্টেশনকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এসব চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবৈধ সিএনজি অটোরিকশাগুলোকে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয় মাসিক নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে। প্রতিটি বৈধ গাড়ি থেকে আদায় করা হয় ১ হাজার আর অবৈধ লাইসেন্সবিহীন মাসে ২ হাজার টাকা।

 

অনুসন্ধানে সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেট হিসেবে উঠে এসেছে “কোম্পানি” নামে পরিচিত একটি চক্রের নাম। স্থানীয় সূত্র বলছে, নিউটিন নামের এক ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় দুই হাজার অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা।

 

মাঠপর্যায়ে শাহাবুদ্দিন, শাহাজাহান, শহিদুল্লাহ, ভূট্টো, আমান উল্লাহ, মমতাজ, ছালামতসহ আরও কয়েকজন এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট মাসিক চুক্তির আওতায় থাকা গাড়িগুলোকে বিভিন্ন চেকপোস্টে বাধাহীন চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জেলার বিভিন্ন রুট ভাগ করে নিয়েছে কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র।

বাস টার্মিনাল থেকে রামু পর্যন্ত রুট নিয়ন্ত্রণ করেন শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি। তার অধীনে রয়েছে প্রায় এক হাজার অবৈধ সিএনজি।

 

লিংক রোড হয়ে মরিচ্যা, কোর্টবাজার ও উখিয়া পর্যন্ত রুট পরিচালনা করেন শহিদুল নামের আরেক ব্যক্তি। “এ প্লাস” নামে পরিচিত তার সিন্ডিকেটের আওতায় রয়েছে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ সিএনজি।

 

কক্সবাজার থেকে চকরিয়া রুট নিয়ন্ত্রণ করেন ভুট্টো, আমান উল্লাহ ও মমতাজ নামের তিন ব্যক্তি। তাদের অধীনে রয়েছে আরও প্রায় এক হাজার সিএনজি। সব মিলিয়ে জেলার বিভিন্ন সড়কে অন্তত পাঁচ হাজার অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

 

প্রতিটি গাড়ি থেকে গড়ে মাসে ১ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করা হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এই টাকা সংগ্রহ করা হয় ট্রাফিক পুলিশের নাম ব্যবহার করে এবং পরে তা মাসিক ভিত্তিতে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়।

 

অনুসন্ধানে ট্রাফিক বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে এই টোকেন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট মাঈন উদ্দিন, ট্রাফিক সার্জেন্ট রোবায়েত, টিআই অ্যাডমিন খসরু পারভেজ এবং রেকার চালক সুকর্ণ দাশ।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা সবাই অস্বীকার করেন। তবে টিআই এডমিন খসরু পারভেজ বলেন, মাসোহারার বিষয়ে যদি কোন তথ্য প্রমাণ থাকে নিউজ করে দেন।

 

বাস টার্মিনাল এলাকার সোলাইমান নামের এক সিএনজি চালক জানান, তার কোম্পানির অধীনে তিনটি সিএনজি রয়েছে। প্রতিটি গাড়ির জন্য তাকে মাসে ২ টাকা করে দিতে হয়। তার দাবি, সম্প্রতি জেলগেইট পুলিশ লাইন সংলগ্ন একটি চেকপোস্টে তার গাড়ি আটক করা হয়েছিল। পরে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মাঈন উদ্দিনকে “কোম্পানির” নাম বলার পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

খুরুশকুল এলাকার আরেক চালক ফরিদ জানান, তিনি আগে শাহজাহানের মাধ্যমে গাড়ি চালালেও বর্তমানে সরাসরি পুলিশের এক সদস্যের মাধ্যমে মাসিক চুক্তিতে গাড়ি চালান। এজন্য তাকে প্রতি মাসে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হয়।

 

লালদিঘীর পাড়স্থ প্যানোয়া সড়কের কয়েকজন চালক জানান, তাদের লাইনে প্রায় ৭০টি সিএনজি রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৪০টি লাইসেন্সবিহীন। এসব গাড়ি মাসিক চুক্তির আওতায় বাহারছড়া-শাপলাপুর থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচল করে। চালকদের অভিযোগ, এসআই জসিম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই লাইনের গাড়িগুলো পরিচালিত হয়। প্রতি গাড়ি থেকে আদায় করা হয় ২ হাজার টাকা।

 

 

লাইসেন্সবিহীন ও অনটেস্ট গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের কথা বলা হলেও বাস্তবে সড়কে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাসিক টোকেন ব্যবস্থার কারণেই প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে এই অবৈধ পরিবহন নেটওয়ার্ক।

 

মাসোহারার বিষয়ে কোন ট্রাফিক কর্মকর্তা জড়িত থাকার প্রমাণ থাকলে পুলিশ সুপারকে অবগত করার জন্য বলে দায় এড়িয়ে যান কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার বলেন।

 

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, ট্রাফিক পুলিশের মাসোহারার বিষয়টি আমার জানা নেই।সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে যদি কেউ অভিযোগ করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।