খুঁজুন
, ,

জামায়াতের কাছে বারবার গিয়েও মেলেনি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন শাহে আলম

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
জামায়াতের কাছে বারবার গিয়েও মেলেনি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন শাহে আলম
শেয়ার করুন

১৩ বছর আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছিলেন শিবিরের তৎকালীন নেতা সাব্বির প্রামাণিক। শরীরে ৬৪টি সেলাই, একের পর এক অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ চিকিৎসা আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন তিনি। অথচ দুঃসময়ে যে সংগঠনের নেতাদের কাছে বারবার চাকরির জন্য ধরনা দিয়েছেন, সেই জামায়াতে ইসলামী থেকে মেলেনি সহযোগিতা। সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে খোলা চিঠি লিখেও পাননি সাড়া। শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনসংগ্রামের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সাব্বিরকে একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা ও মাছের খামার দেখাশোনার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্মানজনক পদে নিয়োগের পাশাপাশি তাকে দেওয়া হচ্ছে ভালো বেতন। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে তার পরিবারে।

জানা গেছে, সাব্বিরের জীবনসংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের। প্রতিবেদনটি পড়েই তার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন তিনি। পরে সাব্বিরকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

চাকরি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সাব্বির বলেন, ‘আমি অনেকবার জামায়াতের কাছে চাকরির জন্য গিয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে চাকরি দেয়নি। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আমাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ভালো বেতন দিচ্ছেন। এখন আল্লাহ আমাদের পরিবারকে ভালো রেখেছেন। আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি।’

সাব্বিরের জীবনসংগ্রামের শুরু ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হন তিনি। হামলায় তার সহকর্মী শিবির নেতা আবু রুহানী নিহত হন। সাব্বিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হার্ট, ফুসফুস, কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। শরীরে দিতে হয়েছে ৬৪টি সেলাই। এমনকি একপর্যায়ে সংবাদপত্রে তাকে মৃত বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বেঁচে ফেরেন তিনি।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও শারীরিক জটিলতা কাটেনি। স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হননি। জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালানো শুরু করলেও অসুস্থতার কারণে সেই কাজ বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেননি। একদিকে চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে পরিবারের ভরণপোষণ, সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার।

এ অবস্থায় নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন সাব্বির। একসময় সংগঠনের রাজপথের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখলেও দুঃসময়ে যথাযথ চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। চাকরির জন্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর সহায়তা পাননি বলে জানান। তার অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চাকরির ব্যবস্থা করেনি জামায়াত।

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, কর্মহীনতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন এই চাকরি সাব্বিরের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ফিরেছে স্বস্তি। তাদের প্রত্যাশা, নতুন কর্মজীবনের মধ্য দিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা সাব্বির।

নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির
শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি এ অনুরোধ জানান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন ছাত্রদল সভাপতি।

 

স্ট্যাটাসে রাকিবুল ইসলাম রাকিব লেখেন, ‘জামায়াতের বি-টিমের মুখপাত্র নাহিদ ইসলামের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। নিজেকে এভাবে জাতির সামনে হাস্যকর হিসেবে উপস্থাপন না করার জন্য নাহিদ ইসলামকে অনুরোধ করছি। লক্ষ লক্ষ পোশাক শ্রমিকের মাঝে কিছুসংখ্যক শ্রমিকও আপনার নির্দেশ পালন করলেন না।’

 

তিনি লেখেন, ‘আপনার এ ধরনের অপমান আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হয়। জামায়াতকেন্দ্রিক পিছুটান থাকায় দেশের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করতে না পারলে প্রয়োজনে চুপ থাকুন। তারপরও জুলাইয়ের অগ্রসৈনিক হিসেবে নিজের ইমেজকে ভূলুণ্ঠিত করবেন না।’

 

এর আগে, বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত গার্মেন্টস শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় বাধা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে। শ্রমিক ভাইবোনদের বলব, আপনারা সতর্ক থাকবেন। আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে আছি।’ মানচিত্র দেখুন

 

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সহিংসতা করে সেখান থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে আপনাদের দমন করার চেষ্টা করা হবে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে।’

শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখন সুস্পষ্ট দাবি হচ্ছে, নিহত শ্রমিক তৌফিককে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার এবং অন্যায়ভাবে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে শ্রমিক নেতা ও শ্রমিক কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’

মেয়াদ শেষ, রুম সিলগালা করে দফতর ছাড়লেন সালাহউদ্দিন আম্মার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
মেয়াদ শেষ, রুম সিলগালা করে দফতর ছাড়লেন সালাহউদ্দিন আম্মার
শেয়ার করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ১৭তম সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রুম সিলগালা করে দফতর ছেড়েছেন। রাকসুর কোষাধ্যক্ষের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে তিনি দফতর ছাড়েন। বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে দফতর ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সালাহউদ্দিন আম্মার।

 

পোস্টে তিনি লেখেন, প্রিয় রাবিয়ানরা! আপনারা আমার মতো নগণ্য মানুষকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এই সম্মান দিয়েছিলেন। আমি আপনাদের জন্য নিজের সামর্থ্য, সময়, শ্রম দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। অনেক ভুল করেছি, সেগুলোর জন্য আপনাদের কাছে আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী। আমি আপনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আমাকে আপনারা একটা নতুন জীবন দিয়েছেন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত না করলে হয়তোবা নীরবে-নিভৃতে হারিয়ে যেতাম কচুরিপানার মতো।

 

আম্মার লেখেন, প্রশাসনের চিঠি অনুযায়ী ৪ নভেম্বর রাকসুর চাবি ও আসবাবপত্র হস্তান্তরের কথা ছিল। বড় একটি দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়েছেন জানিয়ে তিনি লেখেন, শেষ সময়টা ভাগ করে নিয়েছেন রাকসুর এক বছরের সঙ্গী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে। এখন থেকেই পরবর্তী রাকসুর লড়াই এবং বিগত ৯ দফা আন্দোলনের লড়াই রাবি সংস্কার আন্দোলন প্ল্যাটফর্মে চলবে।

 

তিনি আরও লেখেন, এখান থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। শিক্ষার্থীদের জরুরি যেকোনও সমস্যায় তাকে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের আর্থিক বিষয়গুলো ইনশাআল্লাহ নভোকালচার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবেন।

উচ্ছেদ ঠেকাতে ম্যাজিস্ট্রেটকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিত মব!

টেলিগ্রাম প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ ঠেকাতে ম্যাজিস্ট্রেটকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিত মব!
শেয়ার করুন

রাজধানীর উত্তরায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমাকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে অবরুদ্ধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তুলে স্থানীয় লোকজন তাকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পুলিশের দাবি, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। জরিমানার রসিদ দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা থেকে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

 

অন্যদিকে, কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, এটি নিছক ভুল বোঝাবুঝি নয়; ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান ঠেকাতেই পরিকল্পিতভাবে ম্যাজিস্ট্রেটকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে মব সৃষ্টি করা হয়। তাদের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে একটি পক্ষ ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে লোকজনকে উত্তেজিত করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনতার হাতে হেনস্তার শিকার হন।

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের মোড়ের পাকার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছিল ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের একপর্যায়ে একটি ফলের দোকানে জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা। তবে জরিমানার রসিদ দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানির সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে তারা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবরুদ্ধ করেন এবং মারধর করেন।

 

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর এশিয়া পোস্টকে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে আটক করা হয়নি; বরং পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে সেখানে গিয়েছিলেন। সিটি করপোরেশনের একটি দল হকার উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছিল।

 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওসি বলেন, পাকার মাথা এলাকায় একটি ফলের দোকানে জরিমানা করেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। তবে জরিমানার রসিদ দিতে দেরি হওয়ায় দোকানির সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হন। পরে পুলিশের একটি দল গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

 

ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি খালিদ মুনসুর বলেন, এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। জরিমানার রসিদ দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত বাগ্‌বিতণ্ডার সূত্রপাত হয়েছিল। সময়মতো রসিদ দিতে না পারায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন উপস্থিত ছিলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, অভিযানটি প্রথমে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় পরিচালিত হয়েছিল। সেখানে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান শুরু করার সময় তাদের অবহিত করা হয়নি।

 

ওসি আরও জানান, পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ম্যাজিস্ট্রেট সেখান থেকে চলে যান। বুধবার বিকেলেই তিনি চলে গেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পুরো দলই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

 

এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরকারি অভিযান পরিচালনার সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? উচ্ছেদ অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে যদি কাউকে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে জনতাকে উত্তেজিত করা হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে কারা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।