খুঁজুন
, ,

মেয়াদ শেষ, রুম সিলগালা করে দফতর ছাড়লেন সালাহউদ্দিন আম্মার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
মেয়াদ শেষ, রুম সিলগালা করে দফতর ছাড়লেন সালাহউদ্দিন আম্মার
শেয়ার করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ১৭তম সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রুম সিলগালা করে দফতর ছেড়েছেন। রাকসুর কোষাধ্যক্ষের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে তিনি দফতর ছাড়েন। বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে দফতর ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সালাহউদ্দিন আম্মার।

 

পোস্টে তিনি লেখেন, প্রিয় রাবিয়ানরা! আপনারা আমার মতো নগণ্য মানুষকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এই সম্মান দিয়েছিলেন। আমি আপনাদের জন্য নিজের সামর্থ্য, সময়, শ্রম দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। অনেক ভুল করেছি, সেগুলোর জন্য আপনাদের কাছে আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী। আমি আপনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আমাকে আপনারা একটা নতুন জীবন দিয়েছেন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত না করলে হয়তোবা নীরবে-নিভৃতে হারিয়ে যেতাম কচুরিপানার মতো।

 

আম্মার লেখেন, প্রশাসনের চিঠি অনুযায়ী ৪ নভেম্বর রাকসুর চাবি ও আসবাবপত্র হস্তান্তরের কথা ছিল। বড় একটি দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়েছেন জানিয়ে তিনি লেখেন, শেষ সময়টা ভাগ করে নিয়েছেন রাকসুর এক বছরের সঙ্গী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে। এখন থেকেই পরবর্তী রাকসুর লড়াই এবং বিগত ৯ দফা আন্দোলনের লড়াই রাবি সংস্কার আন্দোলন প্ল্যাটফর্মে চলবে।

 

তিনি আরও লেখেন, এখান থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। শিক্ষার্থীদের জরুরি যেকোনও সমস্যায় তাকে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের আর্থিক বিষয়গুলো ইনশাআল্লাহ নভোকালচার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবেন।

সারা জীবন মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না: মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
সারা জীবন মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না: মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা
শেয়ার করুন

ক্যাথলিক স্কুল ও বিভিন্ন ধর্মের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন নেটিভ আমেরিকান রিজার্ভেশনে বড় হওয়া আদিবাসী নারী অ্যাঞ্জেলা। জন্মগতভাবে অত্যন্ত আধ্যাত্মিক পরিবারে বেড়ে ওঠা অ্যাঞ্জেলা জানান, অন্যান্য ধর্মের নানা মতবাদ তাকে বিভ্রান্ত করলেও ইসলামের শিক্ষার মাঝে তিনি তার দীর্ঘদিনের আত্মিক জিজ্ঞাসার প্রকৃত উত্তর খুঁজে পেয়েছেন।

এবাউট ইসলামকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা নিজের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেছেন।

অ্যাঞ্জেলা বলেন, ‘আমার নাম অ্যাঞ্জেলা। সত্যি বলতে, আমার ইসলামের পথে যাত্রা ঠিক কোথা থেকে শুরু হয়েছিল, তা আমি নিজেও খুব একটা জানি না। আমি একজন আমেরিকান হিসেবে বেড়ে উঠেছি। আমার শৈশব কেটেছে একটি আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকায়। জায়গাটি হয়তো আপনাদের অনেকের কাছেই পরিচিত নয়। তবে আমরা ছিলাম খুবই আধ্যাত্মিক।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার দাদা-দাদি সব সময় সৃষ্টিকর্তার কথা বলতেন। তারা আমাকে নানা গল্প শোনাতেন। ছোটবেলা থেকেই আমি এসব কথা শুনে বড় হয়েছি। আমার বয়স যখন ১০ বছর, তখন আমাদের সব আদিবাসী শিশুকে একটি ক্যাথলিক আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। সম্ভবত তাদের ধারণা ছিল, এভাবে আমাদের আরও বেশি আমেরিকান করে তোলা যাবে। সেখানে আমি দুই বছর কাটিয়েছি। কিন্তু সেখানকার কোনো কিছুই আমার কাছে বোধগম্য ছিল না। ওই দুই বছরে আমি শুধু একটি বিষয়ই বুঝতে পেরেছিলাম আমি নিশ্চিতভাবেই ক্যাথলিক নই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করল, ‘তোমার ধর্ম কী?’ আমি বলতাম, ‘সত্যি বলতে, আমি জানি না।’

 

ওই তরুণী বলেন, ‘আমরা আধ্যাত্মিক জীবনযাপন করি, কিন্তু এর কোনো নির্দিষ্ট নাম নেই। এটি আমাদের জীবনযাপনেরই একটি অংশ। আমরা দিনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রার্থনার মধ্যে কাটাই। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা সব সময় বলতেন, আমাদের এমনভাবে চলতে হবে, যেন প্রতিটি পদক্ষেপই একটি প্রার্থনা। তাদের কথা ছিল, প্রতিটি পদক্ষেপ যেন প্রার্থনা হয়। আর তুমি যদি এভাবে জীবনযাপন করতে পারো, তাহলে বুঝবে তুমি সঠিকভাবে জীবন কাটাচ্ছ।’

 

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের এই জীবনধারার কোনো নির্দিষ্ট নাম ছিল না। তাই যখন কেউ প্রশ্ন করত, ‘তোমার ধর্ম কী?’ তখন আমি বেশ বিভ্রান্ত হয়ে পড়তাম। সব ধর্ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা একসময় আমি অন্য ধর্মগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করলাম। সব ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করতে লাগলাম। যে ধর্ম সম্পর্কেই কিছু জানার সুযোগ পেতাম, আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইতাম, ‘এটা আসলে কী?’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে জানতে গিয়ে একপর্যায়ে আমার মনে হতো, ‘এটা তো ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না।’ আমি দিনে যতবারই প্রার্থনা করি না কেন, কখনোই তো সৃষ্টিকর্তা হয়ে যেতে পারব না। এটা তো সম্ভব নয়। এভাবেই সময় গড়িয়ে যাচ্ছিল। একসময় একজন মুসলিমের সঙ্গে আমার পরিচয় হলো। আমরা কথা বলতে শুরু করলাম। আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘আরে! তুমি সত্যিই এসব করো? আমিও তো এমনটাই করি। ধীরে ধীরে আমার মনে হতে লাগল, ইসলাম সম্পর্কে আরও বেশি করে পড়াশোনা করা প্রয়োজন। আমি ইন্টারনেটে গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব পড়তে শুরু করলাম। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, সবকিছুই আমার কাছে বেশ অর্থবহ মনে হতে লাগল। এর বেশির ভাগ বিষয়ই ছিল এমন, যা আমি আমার দাদা-দাদির কাছ থেকে আগেই শুনেছিলাম।’

পবিত্র কোরআন পাঠ প্রসঙ্গে অ্যাঞ্জেলা বলেন ‘আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে লাগলাম। একদিন একটি মুদি দোকানে গিয়ে ছোট্ট একটি বইয়ের ঝুড়ি দেখতে পেলাম। সেখানে মানুষ তাদের পুরোনো বই জমা দিত। অন্যরা সেসব বই কিনত, আর বিক্রির অর্থ দান করা হতো দাতব্য কাজে। বইয়ের স্তূপের একেবারে ওপরে ছিল ইসলামবিষয়ক বেশ কয়েকটি বই। আমি মনে মনে বললাম, ‘বাহ! দারুণ তো।’

 

তিনি বলেন, ‘আমি পুরো স্তূপের বইগুলো কিনে বাড়ি ফিরলাম। এরপর সেগুলো পড়তে শুরু করলাম। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, ‘এ তো সত্যিই অর্থবহ।’ এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম, পবিত্র কোরআন পড়ার চেষ্টা করব। আমি কোরআন পড়তে শুরু করলাম। প্রথম দিকে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিলাম। কারণ, কোরআনে পড়া অনেক বিষয় আমার দাদার কাছ থেকে শোনা কথার সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল না। কিছু বিষয় আমার কাছে ভিন্ন মনে হচ্ছিল। তবুও আমি কোরআন পড়তে থাকলাম। একসময় আমার মনে হলো, ‘বাহ! আমি তো সারা জীবন ধরেই এসব করে আসছি। অথচ কখনো জানতামই না।’ ধীরে ধীরে সবকিছু আমার কাছে পরিষ্কার হতে লাগল। ইসলামকে আমার কাছে অর্থবহ মনে হতে শুরু করল। আর আজ আমি এখানে।’

জামায়াতের কাছে বারবার গিয়েও মেলেনি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন শাহে আলম

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
জামায়াতের কাছে বারবার গিয়েও মেলেনি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন শাহে আলম
শেয়ার করুন

১৩ বছর আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছিলেন শিবিরের তৎকালীন নেতা সাব্বির প্রামাণিক। শরীরে ৬৪টি সেলাই, একের পর এক অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ চিকিৎসা আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন তিনি। অথচ দুঃসময়ে যে সংগঠনের নেতাদের কাছে বারবার চাকরির জন্য ধরনা দিয়েছেন, সেই জামায়াতে ইসলামী থেকে মেলেনি সহযোগিতা। সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে খোলা চিঠি লিখেও পাননি সাড়া। শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনসংগ্রামের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন বিএনপি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সাব্বিরকে একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা ও মাছের খামার দেখাশোনার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্মানজনক পদে নিয়োগের পাশাপাশি তাকে দেওয়া হচ্ছে ভালো বেতন। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে তার পরিবারে।

জানা গেছে, সাব্বিরের জীবনসংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের। প্রতিবেদনটি পড়েই তার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন তিনি। পরে সাব্বিরকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

চাকরি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সাব্বির বলেন, ‘আমি অনেকবার জামায়াতের কাছে চাকরির জন্য গিয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে চাকরি দেয়নি। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আমাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ভালো বেতন দিচ্ছেন। এখন আল্লাহ আমাদের পরিবারকে ভালো রেখেছেন। আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি।’

সাব্বিরের জীবনসংগ্রামের শুরু ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হন তিনি। হামলায় তার সহকর্মী শিবির নেতা আবু রুহানী নিহত হন। সাব্বিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হার্ট, ফুসফুস, কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। শরীরে দিতে হয়েছে ৬৪টি সেলাই। এমনকি একপর্যায়ে সংবাদপত্রে তাকে মৃত বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বেঁচে ফেরেন তিনি।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও শারীরিক জটিলতা কাটেনি। স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হননি। জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা চালানো শুরু করলেও অসুস্থতার কারণে সেই কাজ বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারেননি। একদিকে চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে পরিবারের ভরণপোষণ, সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার।

এ অবস্থায় নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন সাব্বির। একসময় সংগঠনের রাজপথের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখলেও দুঃসময়ে যথাযথ চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। চাকরির জন্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর সহায়তা পাননি বলে জানান। তার অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চাকরির ব্যবস্থা করেনি জামায়াত।

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, কর্মহীনতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন এই চাকরি সাব্বিরের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ফিরেছে স্বস্তি। তাদের প্রত্যাশা, নতুন কর্মজীবনের মধ্য দিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা সাব্বির।

নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির
শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চুপ থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি এ অনুরোধ জানান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন ছাত্রদল সভাপতি।

 

স্ট্যাটাসে রাকিবুল ইসলাম রাকিব লেখেন, ‘জামায়াতের বি-টিমের মুখপাত্র নাহিদ ইসলামের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। নিজেকে এভাবে জাতির সামনে হাস্যকর হিসেবে উপস্থাপন না করার জন্য নাহিদ ইসলামকে অনুরোধ করছি। লক্ষ লক্ষ পোশাক শ্রমিকের মাঝে কিছুসংখ্যক শ্রমিকও আপনার নির্দেশ পালন করলেন না।’

 

তিনি লেখেন, ‘আপনার এ ধরনের অপমান আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হয়। জামায়াতকেন্দ্রিক পিছুটান থাকায় দেশের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করতে না পারলে প্রয়োজনে চুপ থাকুন। তারপরও জুলাইয়ের অগ্রসৈনিক হিসেবে নিজের ইমেজকে ভূলুণ্ঠিত করবেন না।’

 

এর আগে, বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত গার্মেন্টস শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় বাধা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে। শ্রমিক ভাইবোনদের বলব, আপনারা সতর্ক থাকবেন। আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে আছি।’ মানচিত্র দেখুন

 

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সহিংসতা করে সেখান থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে আপনাদের দমন করার চেষ্টা করা হবে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে।’

শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখন সুস্পষ্ট দাবি হচ্ছে, নিহত শ্রমিক তৌফিককে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার এবং অন্যায়ভাবে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে শ্রমিক নেতা ও শ্রমিক কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’