খুঁজুন
, ,

ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিলেন আরো ২ রাষ্ট্রদূতকে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিলেন আরো ২ রাষ্ট্রদূতকে
শেয়ার করুন

কথিত মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মেঘনা আলমের অন্ধকার জগতের একের পর এক তথ্য উঠে আসছে। সৌন্দর্য, স্মার্টনেস ও ইংরেজি জানার কারণে দ্রুতই যে কারো কাছে নিজেকে মোহনীয় করে তুলতে পারতেন মেঘনা। তবে ইতিবাচক এসব গুণকেই পরে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার প্রথম দিকের টার্গেট ছিল গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডির ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানরা। পরে নিজের নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকারী বিদেশি রাষ্ট্রদূতদেরও প্রতারণার টার্গেট করেছিলেন মেঘনা। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ফান্ড সংগ্রহের নামে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা। সর্বশেষ ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিলেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে। তবে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। তার গ্রেপ্তারে সারা দেশে হইচই পড়ে যায়।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সূত্র জানিয়েছে, শুধু সৌদি আরব নয়, বরং আরো দুই দেশের রাষ্ট্রদূতকে ফাঁদে ফেলেছেন মেঘনা। কিন্তু তারা মান-সম্মানের ভয়ে কিছু বলেননি। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মতো হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের একজন হলেন ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগের আলোচিত এক রাষ্ট্রদূত, যিনি বিগত স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। তবে তিনি এখন আর ওই পদে নেই। নিজ দেশের অন্য একটি বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। আরেকজন ছিলেন সার্কভুক্ত একটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশেই কর্মরত। তারা দুজন পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি।

মেঘনা আলমের সহযোগী দেওয়ান সমীরও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মামলার প্রয়োজনে ওই দুই রাষ্ট্রদূতের কাছে তথ্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও চ্যান্সেরি পুলিশের শাখা। তারা ইতোমধ্যেই একটি নোট তৈরি করেছে।

সূত্র জানায়, একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে ডিবি। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে। মেঘনার মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভ জব্দ করে ডিবি ওই গোয়েন্দা সংস্থার ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

গত ৯ এপ্রিল রাতে মডেল মেঘনা আলমকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে আটক করে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ফেসবুক লাইভে থাকার সময় মেঘনা অভিযোগ করেন, পুলিশ পরিচয়ধারীরা তার বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। লাইভটি প্রায় ১২ মিনিট চলার পর বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সেটি ডিলিটও হয়ে যায়।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী, পরদিন ১০ এপ্রিল রাতে আদালত তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩০ দিনের আটকাদেশ দেয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন। সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে মেঘনা আলমের আটকের ঘটনা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। অপরাধে জড়ালে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার না করে তাকে কেন বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিতর্কিত ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক আটক করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এরপর ১০ এপ্রিল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মেঘনার সহযোগী সমীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এ ছাড়া ১৩ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মেঘনা আলমের বাবার পক্ষে এই রিট দায়ের করেন তিনি। বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করে গত ১০ এপ্রিল মেঘনাকে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে রাখার আদেশ দেয় আদালত। ডিবি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদ্যবিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির এক যুগ্ম কমিশনার আমার দেশকে জানান, মেঘনা বড়মাপের একজন প্রতারক। ফান্ড সংগ্রহের নামে ভিআইপিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মেঘনাকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মেঘনা। পরে সৌদি রাষ্ট্রদূত বিষয়টি কূটনৈতিক কোর কমিটির প্রধানকে অবহিত করেছিলেন। কূটনৈতিক কোর কমিটি ডিএমপির চ্যান্সেরি বিভাগকে জানিয়েছিল। পরে ডিবি মেঘনা আলম ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের আওতায় আনে।

সূত্র জানায়, মেঘনা নিজেকে আগে ‘মিস বাংলাদেশ’ নামে পরিচয় দিতেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নামে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে ধীরে ধীরে ওইসব দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানে ভিজিটিং কার্ড দেওয়া-নেওয়া হতো। একপর্যায়ে সম্পর্ক করে ব্ল্যাকমেইল করতেন। তার কথিত ‘সিরিয়াস ওয়ার্ক’ নামে একটি ফান্ডে টাকা দিতে বলতেন ওই ব্যক্তিকে।

সূত্র জানায়, অনেকেই তার প্রতারণার বিষয়টি টের পেলেও তাকে সতর্ক করতে গেলে তিনি ডিজিটাল মামলার ভয় দেখাতেন। ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভুয়া ছবির কাটিং করে সেগুলো দেখাতেন। এতে ভিকটিম ভয় পেতেন।

সূত্র জানায়, মেঘনা ও তার সহযোগী সমীরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এসেছে ডিবিতে। সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে ডিবি। মেঘানার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সুত্র,আমার দেশ

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’