খুঁজুন
, ,

মজুত প্রায় ৩ হাজার আধুনিক অস্ত্র, ভারী গ্রেনেড ও রকেট

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবীর হাতে থানা লুটের ১৭ পিস্তল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবীর হাতে থানা লুটের ১৭ পিস্তল
শেয়ার করুন

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ পৌঁছে গেছে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীপ্রধান নবী হোসেনের নেটওয়ার্কে। মাঠপর্যায়ে কাজ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্য ও নবী হোসেনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত ১৭টি পিস্তল ওই নেটওয়ার্কে পৌঁছেছে। আরও ১০টি লুট হওয়া পিস্তলের একটি চালানও যে কোনো সময় তার বাহিনীর হাতে পৌঁছাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র একের পর এক নবী হোসেনের হাতে পৌঁছানোর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশে পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অভিযোগে আলোচিত এ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, থানা লুটের এসব অস্ত্র কয়েক হাত ঘুরে নবী হোসেনের নেটওয়ার্কে পৌঁছাচ্ছে। অস্ত্র সংগ্রহে জড়িত কয়েকজনের নামও পেয়েছে যুগান্তর। তাদের মধ্যে রয়েছেন উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু বশর, যিনি নবী হোসেনের ইয়াবা ব্যবসার ক্যাশিয়ার হিসাবে পরিচিত। রামুর গর্জনিয়া এলাকার যুবলীগ নেতা গোলাম মওলা, ঘুমধুমের ইলিয়াস মাঝিসহ আরও কয়েকজন অস্ত্র সংগ্রহ করে তার নেটওয়ার্কে পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

 

যুগান্তরের অনুসন্ধান, গোয়েন্দা সংস্থা ও একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নবী হোসেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ভারী ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। এসব অস্ত্রের প্রায় সবই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বলে সূত্রগুলোর দাবি। এর মধ্যে জি-৩, এম-১৬, একে-৪৭-এর মতো সামরিক রাইফেল, বিদেশি পিস্তলসহ নানা ধরনের অস্ত্র রয়েছে। তার বাহিনীর কাছে ভারী গ্রেনেড ও রকেটের মতো বিধ্বংসী অস্ত্রও রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

 

সূত্রগুলোর দাবি, অস্ত্রভাণ্ডারের বড় একটি অংশ মিয়ানমারের তোতার দ্বীপসংলগ্ন সীমান্তের ওপারে মজুত করা হয়েছে। ২০২২ সালে নবী হোসেনকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার ভাই মো. কামাল গুলিতে নিহত হওয়ার পর ক্যাম্পের ভেতরে নবী গ্রুপ কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

২০২২ সালেই হাজার কোটি টাকার অস্ত্র আনার তথ্য : ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ‘রোহিঙ্গা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা! হাজার কোটি টাকার অস্ত্র আনছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে নবী হোসেনের নেটওয়ার্কের বিপুল অস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা এবং রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ‘স্বাধীন রোহিঙ্গা রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। এ বিষয়ে নজর রাখা গোয়েন্দা সংস্থার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নবী হোসেনের ঘনিষ্ঠদের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সহযোগিতায় হাজার কোটি টাকার ওই অস্ত্রের চালান কয়েক দফায় সফলভাবে নবী হোসেনের হাতে পৌঁছায়। পরবর্তীকালে নবী হোসেনের ডেরায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এম-১৬, একে-৪৭, বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গ্রেনেড উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ইলিয়াসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

 

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার মতে, নবী হোসেনের হাতে তিন হাজার নয়, এর কয়েক গুণ বেশি অস্ত্র থাকতে পারে। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের প্রায় সবাই নবী হোসেন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত বলে আমরা জানি। তার বাহিনীতে ১০ থেকে ১৫ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে বলেও আমরা শুনেছি।’

 

সীমান্তে ‘প্রক্সি গ্রুপ’ করার পরিকল্পনা : নবী হোসেনের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তির দাবি, একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার ছত্রচ্ছায়ায় সীমান্তে তার বাহিনীকে শক্তিশালী ‘প্রক্সি গ্রুপ’ হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। এর অংশ হিসাবে দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরসাকেও এ বলয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

 

ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, নবী হোসেনকে শুধু মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রক নয়, সীমান্তের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম একটি সশস্ত্র শক্তি হিসাবে দাঁড় করানো হচ্ছে। আধুনিক ও ভারী অস্ত্রের জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। রকেটসহ ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ চলছে বলেও তারা দাবি করেছেন।

 

তাদের দাবি, আরাকান আর্মির সঙ্গে নবী হোসেনের বিরোধ মেটানোর পেছনেও ওই বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা রয়েছে। সমঝোতার পর সীমান্তের ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নবী হোসেনের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ আরাকান আর্মি এবং বাকি অর্থ নবী হোসেনের নেটওয়ার্ক ও মিয়ানমারের জান্তা-সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে ভাগ হওয়ার কথা রয়েছে বলে দাবি তাদের।

 

কে এই নবী হোসেন : ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া আট লাখের বেশি রোহিঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন নবী হোসেন। তার বাড়ি রাখাইনের মংডু শহরের ঢেকুবনিয়ায়। উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৮ পশ্চিমের বি-ব্লকের ৪১ নম্বর শেডে আশ্রয় নেন তিনি।

 

২০১৮ সালের শুরুতে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবার বড় চালান আনা শুরু করেন নবী। পরে ক্যাম্পে গড়ে তোলেন ‘নবী হোসেন বাহিনী’। পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, এ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ১০ হাজারের বেশি। বালুখালীর ক্যাম্প-৮ পশ্চিম, ৯, ১০ ও ১৪ তার নেটওয়ার্কের প্রভাবাধীন বলে বিভিন্ন সময়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

 

মাদক ব্যবসায় নবীকে কয়েকটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী অর্থ ও কমিশনের বিনিময়ে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে মাস্টার মুন্না, ইসলাম, আবদুল হাকিম, আসাদ, জুবাইর, জাবু, মুমিন, জাকির ও শফিউল্লাহ বাহিনীর নাম রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, মাদক ব্যবসার অর্থের একটি অংশ অবৈধ পথে বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। দেশে-বিদেশে তার সম্পদের পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। নবী হোসেনের বাহিনীতে ১০ থেকে ১৫ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। তাদের হাতে বিপুল পরিমাণ আধুনিক ও ভারী অস্ত্র রয়েছে। ইয়াবা ব্যবসার আয় থেকে এসব সদস্যের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়।

 

১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা বিজিবির : বিজিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, নবী হোসেনকে জীবিত অথবা মৃত ধরতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় তার গতিবিধি ও নেটওয়ার্কের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তারা।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, উখিয়া, কক্সবাজারের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্যাম্পে নবী হোসেন গ্রুপসহ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। নবী হোসেনকে গ্রেফতারেও বিশেষ নজর রয়েছে।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, নবী হোসেনের কাছে বিপুল অস্ত্র থাকার তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব অস্ত্র নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকা বা দেশের অভ্যন্তরে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালাতে পারলে তাকে রাষ্ট্রের জন্য গুরুতর হুমকি হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। শুধু তাকে গ্রেফতার নয়, অস্ত্রের উৎস, মজুতস্থল ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করাও জরুরি।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।